kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পেছনের গল্প

ঘাড় সোজা হয়ে গেছে

প্রচার হচ্ছে স্পিড এনার্জি ড্রিংসের নতুন বিজ্ঞাপন। নতুন বাসায় ওঠার পর পাড়ার মাস্তানদের উৎপাত নিয়ে এর গল্প। বানিয়েছেন আশফাক উজ জামান বিপুল। পেছনের গল্প জানাচ্ছেন আতিফ আতাউর

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ঘাড় সোজা হয়ে গেছে

নতুন বাসায় উঠেছেন নব দম্পতি। দুজনই ব্যস্ত বাসা সাজাতে।

এমন সময় দরজায় ঠকঠক। ভেতরে স্বামী তখন ক্লান্তি দূর করতে স্পিড এনার্জি ড্রিংস পান করছেন। বাইরে যারা দাঁড়িয়ে তারা শুনতে পাচ্ছে ভেতর থেকে কে যেন হুংকার ছাড়ছে। শুনে চাঁদা দাবি করতে আসা মাস্তানরা আঁতকে ওঠে। আর স্বামী দরজা খুলে দাঁড়াতেই নিজেদের ‘পাড়ার ছোট ভাই’ পরিচয় দিয়ে গুটিসুটি বিদায় নেয় তারা। স্পিডের নতুন বিজ্ঞাপনের গল্প এটি। এর চিত্রনাট্য লিখেছেন গ্রে অ্যাডভার্টাইজিংয়ের কপিরাইটার রিয়াজুল আমিন রাতুল। তৈরি করেছেন আশফাক উজ জামান বিপুল।

 

পুরান ঢাকার সেট

গল্পে পুরান ঢাকার আবহ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ঢাকাইয়া ভাষাতেই কথা বলেছেন পাত্রপাত্রীরা। তবে শুটিং হয়েছে কোক স্টুডিওতে। নির্মাতা আশফাক উজ জামান বিপুল বলেন, ‘সব সময়ই বাস্তব লোকেশনে শুটিং করতে পছন্দ করি। এই বিজ্ঞাপনের জন্য প্রথমে ভেবে ছিলাম, পুরান ঢাকা কিংবা পাবনার কোথাও। শেষ পর্যন্ত কোক স্টুডিওতেই পুরান ঢাকার সেট বানাই। ’ এতে সত্যিকারের পুরান ঢাকা কতটুকু এসেছে? বিপুল বলেন, ‘পার্থক্য একটু থাকেই। তবে  চেষ্টা করেছি, দর্শক যাতে পুরান ঢাকাটা বুঝতে পারে। ’

কোক স্টুডিওতে পুরান ঢাকা তৈরিটাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সেট ডিজাইনারের সঙ্গে তদারক করেছেন বিপুল। পুরান ঢাকার মতো সরু গলি, পুরনো আদলের বাড়ি, দেয়াল— এ সব সাজাতেই কয়েক দিন চলে যায়। সেট তৈরি শেষে ভয়ে ছিলেন বিপুল। কেন? ‘এত কষ্ট করে সাজানো সেট। অনেক খরচ হয়েছে। বৃষ্টি এসে যদি সব ভণ্ডুল করে দেয়! এই ভয়ে ছিলাম শুটিংয়ের শেষ পর্যন্ত। তবে বৃষ্টি কোনো বাগড়া বাধাতে পারেনি। ’

 

দৃশ্যে আছেন মান্না ভাই

গল্পে ভেতর থেকে মাস্তানদের প্রতি হুমকি ভেসে আসবে। কে দেবেন এই হুমকি? বাংলা চলচ্চিত্রে নায়ক মান্নাকে প্রতিবাদী চরিত্রে বেশি অভিনয় করতে দেখা গেছে। এ জন্য নায়ক মান্নার দেওয়া ডায়ালগই বেছে নেন নির্মাতা।

 

মাস্তানের দলে যাঁরা

এতে মাস্তানের দলে নেতা হিসেবে মডেলিং করেছেন বিজ্ঞাপন জগতের একজন সহকারী পরিচালক আফরান মৃধা শিবলু। প্রোডাকশন হাউস হাফ স্টপ ডাউন থেকেও কয়েকজন মাস্তান সেজেছিলেন। বিপুল বলেন, ‘চেয়েছি নতুন মুখ দেখাতে। স্ক্রিপ্ট পাওয়ার পর মডেল খুঁজতে গিয়ে আশপাশের ওদেরকেই পারফেক্ট মনে হয়েছে। আগে থেকেই চিনতাম। এর বাইরেও অডিশন দিয়ে কয়েকজনকে বেছে নিয়েছি। ’ স্বামী ও স্ত্রীর ভূমিকায় মডেল হয়েছেন সুমিত সেনগুপ্ত ও সোমা আফরোজ।

 

ঘাড় বাঁকা মাস্তান

এতে ঘাড় বাঁকা মাস্তানের চরিত্রে মডেলিং করেছেন শিবলু। বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ের জন্য সারাক্ষণই তাঁকে ঘাড় এক দিকে বাঁকা করে রাখতে হয়েছে। এটা করতে গিয়ে বেশ পরিশ্রম করেছেন তিনি। বিপুল বলেন, ‘অন্য কাউকে দিয়ে এ কাজ করাতে অনেক ঝামেলা হতো। শিবলু আমাদেরই একজন। তাকে দিয়ে কাজটা করাতে বেশি ভুগতে হয়নি। ’ বিজ্ঞাপনের শেষ দৃশ্যে অবশ্য বাঁকা ঘাড় সোজা হয়ে যায় শিবলুর। তখন খুশিতে চিৎকার দিতে দিতে দরজার সামনে থেকে চলে যায় তারা।

 

পেছনে যাঁরা

এজেন্সি গ্রে অ্যাডভার্টাইজিং বাংলাদেশ। চিফ ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর গাওসুল আলম শাওন। অ্যাকাউন্ট ডিরেক্টর শাহনেওয়াজ আহমেদ শানু। ব্র্যান্ড ম্যানেজার মাইদুল ইসলাম।

প্রোডাকশন হাউস হাফ স্টপ ডাউন। অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর সাবরিনা আইরিন। দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ করেছেন মোর্শেদ বিপুল। কস্টিউম মুসকান সুমাইকা, আর্ট ডিরেক্টর শহিদুল ইসলাম, মেকআপ করেছেন তারেক।


মন্তব্য