kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

একচুলও ছাড় নয়

জুঁই নারিকেল তেলের মডেল শার্লিনা হোসেন। তাকে নিয়ে বিজ্ঞাপন বানিয়েছেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। লিখেছেন শোভন সাহা

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



একচুলও ছাড় নয়

স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়ার। কিন্তু হৃদরোগ সারাবেন কি, উল্টো বাড়িয়ে দিলেন অনেকের পালপিটিশন! হয়ে গেলেন নামি পণ্যের মডেল।

টেলিভিশন, পত্রিকা, বিলবোর্ডে এখন বড় বড় ছবি দেখা যায় শার্লিনা হোসেনের। সম্প্রতি সাড়া ফেলেছেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর পরিচালনায় জুঁই নারিকেল তেলের বিজ্ঞাপনে কাজ করে।

নতুন বিজ্ঞাপনের গল্পে শার্লিনা হলেন আত্মপ্রত্যয়ী এক তরুণী। স্বপ্ন অভিনেত্রী হবেন। চট্টগ্রামের পতেঙ্গা ও ঢাকার বেশ কয়েকটি লোকেশনে শুটিং হয়েছে। শার্লিনা বলেন, ‘২০১৫ সালের এপ্রিলে দুর্ঘটনায় আমার হাত ভেঙে যায়। ১০ মাস কোনো বিজ্ঞাপনে কাজ করতে পারিনি। দীর্ঘ বিরতির পর ফারুকী ভাইয়া আমাকে ডাকেন। নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ পাই। অনেক সিরিয়াস ছিলাম। শুটিং শুরুর আগে বাড়িতে আয়নার সামনে দুই দিন মহড়াও দেই। এরপর টানা পাঁচ দিন শুটিং। সময় কম ছিল। সবাইকেই অনেক খাটাখাটনি করতে হয়েছে। প্রচারের পর এখন বেশ স্বস্তি লাগছে। প্রশংসা শুনেই যাচ্ছি। বন্ধুরা দেখলেই বলে—কী, একচুলও ছাড় নয়, তাই না। ’

২০১৪ সালে মেরিল লিপজেলে মডেল হিসেবে অভিষেক শার্লিনার। প্রথম বিজ্ঞাপনে সুযোগ পেলেন কিভাবে? ‘দেড় বছরের বেশি সময় ফটোশুটের কাজ করছি। একদিন মিডিয়াকম থেকে স্ক্রিন টেস্টের ডাক পড়ে। টেস্ট দেওয়ার পর মনে হলো টিকে যাব। হলোও তা-ই। অডিশন পর্ব পেরিয়ে মডেল হলাম মেরিল লিপজেলের। কাজটা করার পর বন্ধুরা বলেছে, ‘তুই তো নায়িকা হয়ে গেলি! বন্ধুদের এমন কথা উপভোগ করি। ’

তিন বছরের ক্যারিয়ারে বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনে মডেল হয়েছেন শার্লিনা। এর মধ্যে রয়েছে কেয়া সুপার বিউটি সোপ, ফ্রুটো, যমুনা ফ্রিজ, লাভেলো আইসক্রিম, মেরিল লিপজেল, জুঁই নারিকেল তেল। এগুলোর মধ্যে শার্লিনাকে নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দেয় প্রাণ ফ্রুটোর বিজ্ঞাপন। তিনি বলেন, ‘শুটের সময় আমি খুব চুপচাপ থাকি। কথা বলি কম। প্রাণ ফ্রুটোর কাজ করার সময় ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। গল্পে ফ্রুটো খেয়ে আমভর্তি ট্রাকের ওপর পড়তে হবে। শুটিংয়ে ফোমের ওপর ফেলা হয়। একটি ক্রেনে আমাকে ঝোলানো হয়। ওই সময় পাশেই প্রাণ আপের শুটিংয়ের জন্য কাচের বেড়া দিয়ে সুইমিংপুল তৈরি করা হয়েছিল। সেটি ভেঙে পানি আমাদের দিকে চলে আসে। এরপর যখন আমাকে ক্রেন থেকে ছেড়ে দেওয়া হলো, আমি ফোমের ওপর না পড়ে পানিতে পড়ি। সেদিন একটুর জন্য বেঁচে যাই। ’

ওই বিজ্ঞাপনে শার্লিনা তার ‘লুকে’র জন্য বাহবা পেয়েছেন বেশ। ফ্রুটোর এই বিজ্ঞাপনটি নিয়ে অনেক বিলবোর্ড করা হয়। সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এই বিলবোর্ডে এখনো তাঁকে দেখা যায় ফ্রুটো হাতে হাসি মুখে দাঁড়িয়ে আছেন।

ভালো কাজ দিয়ে মিডিয়ায় এগিয়ে যেতে চান শার্লিনা। কম কাজ হোক, আপত্তি নেই। শার্লিনা বলেন, ‘লাক্সের বিজ্ঞাপনগুলো সব সময়ই ভালো লাগে। স্বপ্ন ছিল, লাক্স সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে লাক্সের মডেল হব। কিন্তু তা আর হয়নি। চুলের বিজ্ঞাপনে ভালো করার ইচ্ছার কথা বন্ধুদের কিছুদিন আগেই বলেছিলাম। মজার ব্যাপার, এর কয়েক দিনের মধ্যে জুঁইয়ের মডেল হওয়ার প্রস্তাব পাই। ’ শার্লিনা এখন টুথপেস্টের বিজ্ঞাপনে মডেল হতে চান। রাজধানীর গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে শিশু বিকাশ ও সামাজিক সম্পর্ক বিষয়ে অনার্সপড়ুয়া শার্লিনার কাছে এর কারণ জানতে চাইলে বলেন, ‘সবাই বলে আমার হাসি নাকি সুন্দর। দাঁত ও হাসির প্রশংসা কম শুনিনি এ নিয়ে। এজন্যই টুথপেস্টের বিজ্ঞাপনে মডেল হওয়ার ইচ্ছা। ’


মন্তব্য