kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দাঁড়িয়ে থাকো কেন

রবি ফ্রি ওয়াই-ফাই জোন বিজ্ঞাপন করে এখন আলোচনায় সাফা কবির। এই বিজ্ঞাপনে তাঁর গল্প শোনাচ্ছেন মাহতাব হোসেন

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



দাঁড়িয়ে থাকো কেন

‘একদিন ভার্সিটি থেকে ফিরছিলাম। দেখি, এক ছেলে রাস্তার বিপরীতে আমার বাসার গেটের দিকে মুখ করে তাকিয়ে আছে।

এমন সময় বেরসিক কাক তার রোমান্টিক মুডটা নষ্ট করে শরীরে ইয়ে করে দিল। পরে আমাকে দেখে সে লজ্জা পেয়ে মুখ নামিয়ে নেয়। আরেক দিন প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছে। আমাকে ভার্সিটি যেতে হবে। বাসা থেকে বের হয়েছি, দেখি সেই রোমিও বাসার সামনে একই জায়গায় নিমগ্ন চিত্তে দাঁড়িয়ে। লাজুক মুখের ছেলেটিকে খারাপ লাগল না। আরেক দিন দেখলাম, রাস্তায় জমে থাকা পানি ভিজিয়ে দিয়ে গেল জামাকাপড়, তবুও বেচারা সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে।

একদিন বাসায় কেউ নেই। আব্বু-আম্মু বাইরে গেছেন। ছেলেটা একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। বাসা থেকে বের হয়ে সাহস করে কাছে গিয়ে চোখে চোখ রাখলাম। তারপর বলেই ফেললাম—‘এখানে দাঁড়িয়ে থাকো কেন?’ ছেলে যে জবাব দিল তা শোনার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। আমার প্রতি মুগ্ধতা থেকে নয়, ওপেন ওয়াই-ফাইয়ের জন্য রোজ সেখানে দাঁড়িয়ে থাকত। ’ বেইলি রোডের কেএফসির তৃতীয় তলার একটি স্টুডিওতে বসে রবি ফ্রি ওয়াই-ফাই জোন বিজ্ঞাপনটির গল্প শোনালেন মডেল সাফা কবির। তাঁকে বিজ্ঞাপনটির অফার দেওয়ার আগে এভাবেই গল্পটি শোনানো হয়। তিনি এত সুন্দর গল্প শুনে আর না করেননি।

সাফা বলেন, ‘রবির এই বিজ্ঞাপনের জন্য আমাকে ফোনে দুটি গল্প শোনানো হয়। কিন্তু দুটি গল্পের মধ্যে এটি বেশি ভালো লাগে। তাই এটাই নির্মাণ করার অনুরোধ করি। ’ কেমন সাড়া পাচ্ছেন—এই প্রশ্নের জবাবে সাফা বলেন, ‘বিজ্ঞাপনের গল্প মানুষকে কাছে টানছে। এই বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেলও বেশ আকর্ষণীয়। আর কাছের মানুষদের কাছে তো ভালোই সাড়া পেলাম। ’

বিজ্ঞাপনটির শুটিং করা হয় রাজধানীর কোক স্টুডিওতে। নির্মাণ করেছেন অমিতাভ রেজা। শুটিং করতে গিয়ে অম্লমধুর অভিজ্ঞতা হয়েছে সাফার। ‘বৃষ্টির সময়ের দৃশ্য নেওয়া হবে, আমাকে বলা হলো, বৃষ্টিতে নেমেই ছাতা খুলে ফেলতে। বৃষ্টিতে নেমে ছাতা খোলার জন্য ধরলাম, কিন্তু ছাতা আর খুলছে না। বৃষ্টিতে ভিজে গেলাম। ভেজা ড্রেস শুকানো হলো। ফের আবার একই দৃশ্য নেওয়া হবে। ক্যামেরা রেডি। আবার বৃষ্টিতে নেমে ছাতা খুললাম, এবার ছাতা গেল উল্টে। ফের ভিজে গেলাম। আবার ড্রেস শুকানো হলো। তারপর আবার শুরু। এবারও হলো না। টাইমিং মিস, ভিজে গেলাম। এভাবে কয়েকবার করার পর দৃশ্যটি ওকে হলো। ’ বললেন সাফা কবির।

আরেকটি গল্প বললেন সাফা, ‘আমি দরজা খুলে বের হব। দরজা লাগানো। ক্যামেরা রেডি। আমি ভেতরে। অমিতাভ ভাই বললেন, রেডি ওয়ান টু থ্রি। আমি দরজা খোলার জন্য হাতল ধরলাম। দরজা খুলছে না। ওদিকে বাইরে থেকে অমিতাভ ভাই বলছেন দরজা খুলতে। আমি কিছুতেই খুলতে পারছি না। পরে তাঁরাও বুঝলেন দরজা খুলছে না। ফের প্রস্তুতি নিয়ে শট দিলাম। এবার দরজা খুলে গেল। শট ওকে। ’

পাঁচ ফুট চার ইঞ্চি উচ্চতার সাফা কবির প্রথম মডেলিং করেন পরিচালক রাহাত খানের ‘প্রাণ চীনাবাদাম বার’-এর টিভি বিজ্ঞাপনে। তবে প্রথম চুক্তি করেন আশফাক উজ জামান বিপুলের এয়ারটেলের বিজ্ঞাপনে। ‘প্রাণ চীনাবাদাম বার’-এর বিজ্ঞাপনের ‘ফেসবুকিং পারে না’ সংলাপটি সাফা কবিরের কণ্ঠে দারুণ জনপ্রিয় হয়। ২০১৩ সালে নির্মাতা অমিতাভ রেজার তৈরি ‘প্যারাসুট’-এর বিজ্ঞাপনটিতে প্যারাসুট মাখানো চুল দিয়ে ঝিলিক ছড়ান।

সাফা বলেন, ‘গল্প পছন্দ হলেই কেবল বিজ্ঞাপনে মডেলিং করতে রাজি হই। অনেক বিজ্ঞাপনে মডেল হওয়ার জন্য অফার পাই। কিন্তু মানসম্মত গল্প না হওয়ায় করা হয় না। আমি নিয়মিতই মডেলিং করতে চাই। নাটক, সিনেমার থেকে বিজ্ঞাপনে সাড়া বেশি পাওয়া যায়। বিজ্ঞাপনের সংখ্যা নয় বরং মান দিয়েই নিজেকে দর্শকদের আরো কাছে নিয়ে যেতে চাই। ’


মন্তব্য