kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পেছনের গল্প

উইনার ফ্লাস্কে ভাঙল অভিমান!

প্রচারিত হচ্ছে উইনার ফ্লাস্কের নতুন একটি বিজ্ঞাপন। এতে স্বামী ও স্ত্রীর মান-অভিমানের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। এ বিজ্ঞাপনের পেছনের গল্প জানাচ্ছেন আতিফ আতাউর

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



উইনার ফ্লাস্কে ভাঙল অভিমান!

স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়ার গল্প

এতে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার পর স্ত্রীর মান ভাঙানোর গল্প ফুটিয়ে তোলার মধ্য দিয়ে পণ্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে। স্ত্রী স্বামীর ওপর রাগ করে বাসা ছেড়ে চলে যায়।

এরপর স্বামী ফোন করে তাকে নিয়ে রওনা হয় তারই স্মৃতিবিজড়িত পছন্দের জায়গায়। সেখানে গিয়ে ফ্লাস্ক থেকে কফি বের করে দেয় স্ত্রীকে। এতে স্বামী-স্ত্রীর চরিত্রে মডেল হয়েছেন শাফায়াত মাহমুদ ফুয়াদ ও শায়লা সাবি।

 

শুটিং লোকেশন

এক মিনিটের এই বিজ্ঞাপনটির দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে ঢাকার সেগুনবাগিচার একটি বাসায় ও বান্দরবানের বেশ কয়েকটি লোকেশনে। ঢাকায় এক দিন ও বান্দরবানে দুই দিন লেগেছে বিজ্ঞাপনটির শুটিংয়ে।

 

আবহাওয়ায় ভোগান্তি!

বিজ্ঞাপনটির শুটিং করতে গিয়ে বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যে পড়েছিলেন ইউনিটের সবাই। নির্মাতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ বলেন, ‘সেদিন বান্দরবানের আবহাওয়াটাই ছিল এই রোদ-এই বৃষ্টির মতো। ঝকঝকে রোদ দেখে ইউনিটের সবাই মন খুলে সেট সাজাচ্ছি। সবাই দৃশ্য ধারণের জন্য তৈরি। তখনই দেখা গেল আকাশ কালো করে মেঘ জমেছে। সব কিছু আবার তুলে ফেলতে না-ফেলতেই ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি শুরু। বৃষ্টি না থামা পর্যন্ত আবার অপেক্ষার পালা। বলতে পারেন মেঘের সঙ্গে লুকোচুরি খেলে বান্দরবানে বিজ্ঞাপনটির শুটিং শেষ করেছি। ’

 

সেদিন সূর্য অস্ত গিয়েছিল অনেক আগেই!

আর সব বিজ্ঞাপনের মতো এটারও লোকেশন রেকি করা হয়। বিজ্ঞাপনটির প্রোডাকশন হাউস খেলনা ছবির এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার এস এম শামসুর রহমান বলেন, ‘লোকেশন বাছাইয়ের পর সে অনুযায়ী শুটিংয়ের সব কিছু নিয়ে আমরা বান্দরবানে চলে যাই। দিনের শেষ দৃশ্যটি ছিল সূর্যাস্তের সময় মডেলদের কফি পান করা। মজার ব্যাপার হচ্ছে ৪টা বাজতে না বাজতেই সূর্য অস্ত যেতে শুরু করে। অথচ রেকি করার সময় দেখেছি সূর্য অস্ত যায় সাড়ে ৬টার দিকে। সে জন্য শেষ দৃশ্যের শুটিং সেই সময়েই ঠিক করা। কিন্তু মেঘের কারণে শুটিংয়ের দিন অনেক আগেই সূর্য ঢাকা পড়তে শুরু করে। এ জন্য তত্ক্ষণাৎ সেই দৃশ্যটি ধারণ করা হয়। ’

 

পরিকল্পনায় প্রকৃতির সান্নিধ্য

নির্মাতা সাদ বলেন, ‘বিজ্ঞাপনে সব সময়ই আমরা পণ্যের সঙ্গে প্রকৃতির অপরূপ শোভা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করি। এ জন্য সত্যিকারের লোকেশনে শুটিং করেছি। কৃত্রিম কোনো সেট সাজিয়ে সেখানে শুটিং করিনি। এ জন্য ভোগান্তিও কম পোহাতে হয়নি। বান্দরবানে সকালে খুব কুয়াশা ছিল। আর দুপুরের পর থেকে রোদ-বৃষ্টির খেলা। আমাদের এক দিনে শুটিং শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু সেটা আর হয়নি। চাইলে অন্য কোনোভাবে দৃশ্যগুলোর ব্যবস্থা করা যেত। কিন্তু আমরা তা না করে ক্লায়েন্টকে বলে পরের দিন বাকি দৃশ্যগুলো শুটিং করি। ’

 

পেছনে আরো যাঁরা

এজেন্সি সান কমিউনিকেশন্স। ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর তানভীর হোসেন। কপিরাইটার কিঙ্কর আহসান ও অপূর্ব সরকার অপু। হেড অব স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং আসিফুজ্জামান খান। প্রোডাকশন হাউস খেলনা ছবি। ক্যামেরায় ছিলেন তুহিন তামিজুল। পোশাক পরিকল্পনা করেছেন ইদিলা ফরিদ তুরিন। ক্লায়েন্ট প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। হেড অব মার্কেটিং এম এ এম মুনীম। ব্র্যান্ড ম্যানেজার ফাহিম হোসেন।  

 

কপিরাইটার যা বললেন

এর গল্প লিখেছেন কিঙ্কর আহসান ও অপূর্ব সরকার অপু। তাঁরা বলেন, ‘ক্লায়েন্ট থেকে আমাদের বলা হয় উইনার ফ্লাস্কে চা-কফি সর্বোচ্চ আট ঘণ্টা পর্যন্ত গরম থাকে। এটাকে ধরেই আমরা গল্প ভাবতে থাকি। সঙ্গে পণ্যটির স্লোগান—ভালোবাসার উষ্ণতায়। এরপর স্বামী ও স্ত্রীর মান-অভিমান এবং সেই মান ভাঙাতে দূরের পাহাড়ে নিয়ে কফি অফার করা। এর মধ্যে দিয়ে এটাই ফুটিয়ে তোলা যে পণ্যটিতে চা বা কফি অনেকক্ষণ গরম থাকে। ’


মন্তব্য