kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

ওরিয়নে পরিচয়

২৫টির মতো বিজ্ঞাপনে মডেল হয়েছেন সাবরিনা প্রমি। সম্প্রতি প্রচারিত হচ্ছে তাঁর করা আরএফএল রেস্টুরেন্ট চেয়ার, আরএফএল ওয়েইং স্কেলসহ আরো কয়েকটি বিজ্ঞাপন। তাঁকে নিয়ে লিখেছেন শোভন সাহা

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ওরিয়নে পরিচয়

কত স্বপ্নই তো থাকে মানুষের! প্রমির স্বপ্ন ছিল নামকরা মডেল ও অভিনেত্রী হওয়ার। পরিবারের কেউ মিডিয়ায় না থাকায় নিজ থেকেই হেঁটেছেন স্বপ্নের পথে।

ফ্যাশন ডিজাইনে অনার্স পড়ার সময় তাঁর স্বপ্নের পালে জোড় হাওয়া লাগে। আনমনেই ভাবতে শুরু করেন—রাস্তায় বের হলেই মানুষ বলবে, মেয়েটা তো বেশ ভালো অভিনয় করে। ব্যস, এটুকু শোনার জন্যই ছুটে চলেছেন মিডিয়ায় কাজের সন্ধানে। এক বন্ধুর মাধ্যমে পেয়েও যান সুযোগ। কিভাবে?  প্রমি বললেন, ‘শিমুল নামে এক বন্ধুর কাছে আমার কতগুলো ছবি ছিল। সে চলচ্চিত্রে ভিলেনের চরিত্রে অভিনয় করে। ছবিগুলো সে প্রোডাকশন হাউস ছবিয়ালের এক ভাইকে দেখায়। তাঁর ভালো লাগে। এরপর রবির একটি বিজ্ঞাপনের জন্য মডেল হিসেবে আমাকে নির্বাচন করা হয়। ’

‘তোমাকে দিয়ে কিছুই হবে না’ রবির বিজ্ঞাপনের এই স্লোগানটি দিয়ে মডেলিংয়ে অভিষেক প্রমির। নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। বিজ্ঞাপনটির গল্পে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি দেখানো হয়। আর প্রমিকে একজন অভিজ্ঞ ডাক্তার হিসেবে দেখানো হয়। বিজ্ঞাপনটিতে মজার ও বিড়ম্বনার দুই রকম অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। প্রমি বলেন, ‘শুটিং ইউনিটের অনেকেই আমাকে সত্যিকারের ডাক্তার মনে করেছিল। মিডিয়ায় এটা আমার প্রথম কাজ হওয়ায় পরবর্তী সময়ও রাস্তায়, বিভিন্ন শুটিং স্পটে আমাকে ডাক্তার ভাবত। এটা আমার খুব মজা লাগত। আর বিড়ম্বনার অভিজ্ঞতার মধ্যে ছিল অনেক গরমের মধ্যে শুটিং। শুটিং স্পটের বড় লাইটগুলো গরম আরো বাড়িয়ে দিচ্ছিল। আগে টেলিভিশনে দেখে মনে হতো কাজটা অনেক সহজে হয়। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতায় বুঝলাম এটা মোটেই আরামের কাজ নয়। একটি শট বারবার দিতে হয়। তবে কাজটা নিয়ে অনেক উত্তেজিত ছিলাম। সবার মতো আমারও ফারুকী ভাইয়ের মতো বড় নির্মাতার সঙ্গে কাজ করার স্বপ্ন ছিল। আর প্রথম বিজ্ঞাপনেই তাঁর সঙ্গে কাজ করে আত্মবিশ্বাসটা অনেক বেড়ে গেছে। ’

সেই আত্মবিশ্বাসে বলিয়ান হয়ে কয়েক বছরের মধ্যেই ২৫টির বেশি বিজ্ঞাপনে মডেল হয়েছেন প্রমি। যার মধ্যে নাবিস্কো বিস্কুট, ফ্রেশ মিল্ক, মেরিডিয়ান চকোলেট, ওরিয়ন ফুটওয়্যার, আরএফএল ওয়েইং মেশিন, আরএফএল রেস্টুুরেন্ট চেয়ার অন্যতম। এর মধ্যে ওরিয়ন ফুটওয়ারের বিজ্ঞাপনটি করে পরিচিতি পেয়েছেন সবচেয়ে বেশি। পত্রিকার প্রথম পাতায় ওরিয়নের এই বিজ্ঞাপন দিয়েই মানুষ তাঁকে বেশি চিনেছে। পাশাপাশি বড় বড় বিলবোর্ডে বিজ্ঞাপনটি প্রচার হওয়ায় সাড়াও মিলেছে অনেক। পরিচিত অপরিচিত অনেকেই এই বিজ্ঞাপনটির জন্য তাঁর অনেক প্রশংসা করেছেন। প্রমি বলেন, ‘রাস্তায় বেরোলে ওরিয়নের বিজ্ঞাপনটি চোখে পড়লেই আনন্দে মনটা ভরে উঠত। আর সকাল সকাল পত্রিকার পাতা খুলে বিজ্ঞাপনে নিজের ছবি দেখলে কার না ভালো লাগে। হা হা হা। ’

সম্প্রতি আরএফএল রেস্টুরেন্ট চেয়ারের বিজ্ঞাপন করে আবার আলোচনায় প্রমি। এতে রাশেদ মামুন অপুর বিপরীতে বধূ সাজে মডেল হয়েছেন। নির্মাণ করেছেন সানবীম আশরাফ। শুটিং হয়েছে পূর্বাচল ৩০০ ফিট থেকে খানিক দূরের একটি গ্রামের রাস্তার পাশের হোটেলে। প্রমি বলেন, ‘নতুন বধূ সাজার অভিজ্ঞতাটা ছিল অনেক মজার। তবে কাজটা করতে অনেক কষ্ট হয়েছে। বিয়ের শাড়িটা চটকদার ও নানা কারুকাজ থাকায় বেশ ভারী ছিল। অন্যদিকে রোজার সময় শুটিং হওয়ায় গরমে অনেক তৃষ্ণা পাচ্ছিল। কিন্তু রোজা থাকায় পানি খেতে পারছিলাম না। শুটিংয়ে কষ্ট হলেও এখন বেশ ভালো লাগছে। বিজ্ঞাপনটিতে দর্শকদের অনেক ভালো রেন্সপন্স পাচ্ছি। ’

আরএফএল ওয়েইং মেশিন বিজ্ঞাপনের একটি সংলাপের জন্যও সাড়া পাচ্ছেন বেশ। এতে ওজন দেখে নিশ্চিত হওয়ার জন্য দোকানদারকে জিজ্ঞেস করেন, মেশিন ঠিক আছে তো? এখন কাছের অনেকেই তাঁকে দেখলে হেসে জিজ্ঞেস করেন, মেশিন ঠিক আছে তো!

প্রমি এখন ব্যস্ত এক মডেল। ঈদে বেশ কয়েকটি ফ্যাশন হাউসের মডেল হয়েছেন। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপন রয়েছে অনএয়ারের অপেক্ষায়।

প্রমি ফ্যাশন ডিজাইনে অনার্স শেষ করেছেন একটি বেসকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। আগামীতে বিজ্ঞাপনের কাজের পাশাপাশি ফ্যাশনবিষয়ক একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চান।

 


মন্তব্য