kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

বিজ্ঞাপন তারকা

২৫-এ কারার

কারার মাহমুদ।২৫টি বিজ্ঞাপনে মডেল হয়েছেন। আইডিএলসি কার লোন, সেরা রাধুনী, টেল প্লাস্টিক তাঁর করা বিজ্ঞাপন। লিখেছেন আহমেদ ইমরান

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



২৫-এ কারার

বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন কারার। আইনজীবী হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলবেন আর টেলিভিশন মডেলিংয়ে নাম করবেন।

ঢাকায় এসে শুরুতেই মডেলিংয়ে নাম লেখানোর সুযোগ হয়ে ওঠেনি তাঁর। সব কিছু অচেনা। কাকে কী বলবেন, কোথায় গেলে মিলবে মডেল হওয়ার সুযোগ তার কিছুই জানেন না। সব কিছু নতুন। সঙ্গে আইন বিষয়ে পড়ার চাপ তো ছিলই। তবে স্বপ্ন থাকলে সাধ্য কার তা থামিয়ে রাখে। কারার পড়াশোনা করেন আর সুযোগ খোঁজেন মডেল হওয়ার। ইতিমধ্যে জেনে যান মডেল হওয়ার পথ। রঙ টোয়েন্টিটোয়েন্টি মডেল হান্ট প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে অনেক কিছু শিখে ফেলেন। চরকা ফ্যাশন হাউসে ফ্যাশন মডেলিং করেন। কয়েকটি প্রোডাকশন হাউসে ছবি তুলে জমা দেন। এর কিছুদিন পরই ২০১৪ সালে ডাক আসে প্রাণ প্রোডাকশন থেকে। প্রাণ জিরো ড্রিংকস বিজ্ঞাপনে প্রথমবারের মতো ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান। প্রথম বিজ্ঞাপনের শুটিং শেষ। মনের মধ্যে কত উত্তেজনা। কবে তাঁকে টেলিভিশনে, পত্রিকার বিজ্ঞাপনে দেখা যাবে। কারারের দিন যেন কাটে না! প্রথম বিজ্ঞাপনেই ধাক্কা খান। বিজ্ঞাপনটি আর প্রচারের মুখ দেখে না। তার পরও থেমে যাননি। তত দিনে পত্রপত্রিকার ফ্যাশন পাতার নিয়মিত মুখ কারার। পত্রিকার পাতা খুললেই বিভিন্ন ফিচারে তাঁর ছবি দেখা যায়। কিন্তু টেলিভিশনে নিজেকে দেখা চাই। আবার সুযোগ মেলে। দ্বিতীয়বারের মতো ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান মোজো পিঠা উৎসব বিজ্ঞাপনে। নির্মাতা শোমেন হাসান। এটা দিয়েই প্রথমবার টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে মডেল হন কারার। তাঁর স্বপ্নের পথে চলতে আরো অনুপ্রাণিত হন। এতে অনেক মডেল একসঙ্গে অভিনয় করেছেন। এবার একক চরিত্র চাই। পেয়েও যান। আইডিএলসি কার লোন বিজ্ঞাপনে একক চরিত্রে মডেলিং করে সবার নজর কাড়েন। আশফাক উজ জামান বিপুলের এই বিজ্ঞাপন কারারকে লাইম লাইটে এনে দাঁড় করিয়ে দেয়। এর পর একে একে গোলাম হায়দার কিসলুর বিএফএল ফয়েল অ্যালুমিনিয়াম, ফারুকীর সেরা রাঁধুনি-২০১৫, আদনান আল রাজীবের বাংলালিংক, কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের টেল প্লাস্টিক বিজ্ঞাপনে মডেল হন। আইডিএলসি কার লোন বিজ্ঞাপনটির পর আরেকটি ভালো কাজের অপেক্ষায় ছিলেন। বিএফএল ফয়েল অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে আবারও আলোচনায় আসেন। এখন বিজ্ঞাপন-জগতে ব্যস্ত মডেল তিনি।

একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত। ২০১৩ সাল থেকে এখানে প্র্যাকটিস করছেন। এর আগে চাকরি করেছেন ডমিনো ও আরবান ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কম্পানিতে। চাকরি ছেড়ে মডেলিং শুরু করেন।

তিন ভাইয়ের মধ্যে বড় কারার। বাবা চাকরিজীবী। বড় হয়েছেন বরিশালে। অমৃতলাল দে কলেজ থেকে পাস করে ঢাকায় এসে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।

মডেল হওয়ার শুরুর সংগ্রামের কথা জানান তিনি। একটি পোর্টফোলিও করে প্রোডাকশন হাউসে জমা দেবেন। তার জন্য পড়াশোনার বাইরে বাবার কাছে বাড়তি টাকা চাইবেন সেটাও সাহসে কুলোয় না। শেষমেশ পকেট খরচ বাঁচিয়ে পোর্টফোলিও করেন। এর পরের গল্প এখন তাঁর কাছেই স্বপ্নের মতো মনে হয়। কালো স্যুট-টাই পরে সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে বের হয়েছেন। পথের পাশের বিশাল বিলবোর্ডে তাঁর ছবি। অফিস শেষে বিকেলে চা স্টলে বসে আড্ডা দিচ্ছেন, টিভিতে তাঁর বিজ্ঞাপন, সকালবেলা পত্রিকা হাতে নিয়ে মাঝেমধ্যেই চমকে ওঠেন। তাতেও যে তাঁর বিজ্ঞাপনের ছবি কিংবা কোনো ফ্যাশন ফিচারে তাঁর মডেলিং।

ঈদে প্রচার হচ্ছে তাঁর নতুন বিজ্ঞাপন বেস্ট ইলেকট্রনিকস। প্রচারের অপেক্ষায় রয়েছে তীর চিনি, রানার মোটরসাইকেল, টাইগার সিমেন্ট, আরএফএল ইউপিভিসি ডোর। কারার বলেন, ‘ছোটবেলায় নোবেল ভাইকে দেখে প্রথম মডেলিংয়ের প্রেমে পড়ে যাই। এর পর থেকেই স্বপ্ন ছিল তাঁর মতো একজন মডেল হব। সেই স্বপ্নের টানে ছুটে চলছি আমি। ’

 


মন্তব্য