kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্রচারের আগে

স্বপ্ন যাবে বাড়ি ২

এবার ঈদে আবার ফিরে এসেছে বাড়ি ফেরার আকুলতা নিয়ে গ্রামীণফোনের বিখ্যাত বিজ্ঞাপন ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি’। নতুন আঙ্গিকে তৈরি বিজ্ঞাপনটির গল্প শোনাচ্ছেন এর স্ক্রিপ্ট রাইটার গ্রের অ্যাসোসিয়েট ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর রাসেল মাহমুদ রুশো

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



স্বপ্ন যাবে বাড়ি ২

প্রথম দুদিন শুট করেছি ঢাকার কমলাপুর, গাবতলী, নিউ মার্কেট ও নারায়ণগঞ্জে। এর পর গোপালগঞ্জ, পদ্মা ও আরিচায়। শুটিং হয়েছে রোজার ঈদের আগে। মজার ব্যাপার ২০ রোজায় মানুষের বাড়ি ফেরার কোনো দৃশ্যই আমরা কমলাপুর ও গাবতলীতে পাইনি।

কয়েক বছর আগে গ্রামীণফোনের ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি’ শিরোনামের বিজ্ঞাপনটি বেশ জনপ্রিয় হয়। গ্রামীণফোনের নিজেদের ক্রিয়েটিভ টিম বিজ্ঞাপনটির গল্প তৈরি করে।

আনিকার কথায় আর হাবিব ওয়াহিদের সুরে গানটি গেয়েছিলেন মিলন মাহমুদ। বিজ্ঞাপনটি পরিচালনা করেন রম্য খান।

 

এবারের বিজ্ঞাপনের গল্প

সাধারণত বড় ক্যাম্পেইনগুলোর আগে একাধিক গল্প বা আইডিয়া নিয়ে গ্রামীণফোন বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণি-পেশার মানুষদের নিয়ে একটি জরিপ করে। পণ্য বা সেবা তো আসলে মানুষের জন্যই। ভোক্তা, ক্লায়েন্ট ও এজেন্সির পছন্দ মিলিয়ে বেস্ট আইডিয়া নিয়ে বিজ্ঞাপন করা হয়। গ্রামীণফোনের তাহসান ও মিমকে নিয়ে করা নেটওয়ার্ক বিজ্ঞাপনটির আগেও আমরা একটি জরিপ করেছিলাম। সেখানে বেশির ভাগ মানুষ গ্রামীণফোনের সেরা বিজ্ঞাপনগুলোর মধ্যে ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি’র কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। এর কিছুদিনের মধ্যেই গ্রামীণফোন সিদ্ধান্ত নেয় বাড়ি ফেরার গল্পটাকে আবার ফিরিয়ে আনার।

বাড়ি ফেরার গল্প

গ্রামীণফোনের সঙ্গে আমরা কোমর বেঁধে নেমে পড়ি। সত্যিই তো, কেন আমরা ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি’ নতুন করে ফিরিয়ে আনব না। এটি একটি সর্বজনীন গল্প। প্রতি ঈদে প্রায় সবাই এ গল্পের মুখোমুখি হই। আর গ্রামীণফোন সব মানুষের কথা বলে। এই গল্পে একই সঙ্গে যেমন নেটওয়ার্কের কথা বলা যায়, তেমনি শহর ও গ্রামের মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধনের কথাও বলা হয়। সবচেয়ে বড় কথা, এই গল্প সত্যিকারের বাংলাদেশকে তুলে ধরে।

 

গানের লিরিক

স্বপ্ন-টানে দিলাম পাড়ি

অচিন পথে, আপন ছাড়ি।

পেছন ফেলে উঠান-বাড়ি—

প্রিয় মুখ আর স্মৃতির সারি।

মন বলে চল ফিরে আবার—

স্বপ্ন যাবে বাড়ি আমার

 

আসছে সেদিন বছর ঘুরে,

দিচ্ছেরে ডাক আপন সুরে।

যাচ্ছি আমার স্বপ্নপুরে

চেনা পথের বহুদূরে।

এই তো সময় ফিরে আসার—

স্বপ্ন যাবে বাড়ি আমার

বিজ্ঞাপনে তিনটি গল্প

ব্যক্তিগতভাবে আমি একই সঙ্গে প্রচণ্ড এক্সাইটেড ও নার্ভাস ছিলাম। এ ধরনের স্ক্রিপ্টে মাথা না খাটিয়ে মনটাকেই বেশি কাজে লাগাতে হয়। তাই মন থেকে আসা কিছু সহজ কথায় একটি গান লিখলাম। আবারও হাবিব ভাই অদ্ভুত সুন্দর সুর আর কম্পোজিশনে বাঁধলেন গানটাকে। স্ক্রিপ্টও লেখা হয়ে গেল। গ্রামের বাড়িতে থাকা মা ও বোনের সঙ্গে শহরে চাকরি করা এক তরুণী, সদ্য বিয়ে হওয়া গ্রাম্যবধূর শহরে থাকা স্বামী এবং শহরে পড়তে আসা ছাত্রের গ্রামে ফেলে আসা বন্ধুদের গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে মিউজিক ভিডিও ও বিজ্ঞাপন।

 

পেছনে আরো যাঁরা

এজেন্সি গ্রে। চিফ ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর গাওসুল আলম শাওন, ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর জাইয়ানুল হক, মেহেদী হাসান আনসারী, আশিষ মৃধা। ক্লায়েন্ট সার্ভিস ডিরেক্টর আয়েশা ফারজানা ও ক্যাম্পেইন ম্যানেজার শাহ মো. ইমতিয়াজ নূর সাদী। প্রোডাকশন হাউস প্রেক্ষাগৃহ। পরিচালক শাহরিয়ার পলক। দৃশ্য ধারণ করেছেন নাজমুল হাসান। গানে কণ্ঠ দিয়েছেন মিঠুন চক্র।

পরিচালক যা বললেন

বিজ্ঞাপনের দৃশ্য ধারণের জন্য ময়মনসিংহ ও বিরিশিরিতে লোকেশন রেকি করা হয়। এখানে পছন্দ না হওয়ায় আমি নিজেই গোপালগঞ্জ, আরিচা, পদ্মায় চলে যাই। আমার মনে হয়, এদিকের দৃশ্য এখনো বিজ্ঞাপনে সেভাবে দেখানো হয়নি। এ জন্য নতুন দৃশ্য ধারণ করতে এই এলাকা বেছে নিই। এরপর সব প্রস্তুতি শেষে ৫১ জনের টিম নিয়ে এই বিজ্ঞাপনের শুটিং করেছি। প্রথম দুদিন শুট করেছি ঢাকার কমলাপুর, গাবতলী, নিউ মার্কেট ও নারায়ণগঞ্জে। এরপর গোপালগঞ্জ, পদ্মা ও আরিচায়। শুটিং হয়েছে রোজার ঈদের আগে। মজার ব্যাপার ২০ রোজায় মানুষের বাড়ি ফেরার কোনো দৃশ্যই আমরা কমলাপুর ও গাবতলীতে পাইনি। এটা রোজার ঈদের আগে প্রচার হওয়ার কথা ছিল। পরে যখন সিদ্ধান্ত হয় কোরবানির ঈদে প্রচার হবে, তখন ঈদের এক দিন আগে মানুষের বাড়ি ফেরার দৃশ্য শুটিং করা হয়। অদ্ভুত ব্যাপার, শুটিংয়ে যখন বৃষ্টি চেয়েছি, তখনই আকাশ থেকে ঝমঝম করে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আবার দৃশ্যে মেঘ দরকার। আকাশ কালো করে মেঘ জমে গেছে। প্রকৃতিও আমাদের সঙ্গে ছিল।


মন্তব্য