kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কথাবার্তা

ক্রিয়েটিভদের জন্য এই আয়োজন

শরিফুল ইসলাম,প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ক্রিয়েটিভদের জন্য এই আয়োজন

সৃজনশীল বিজ্ঞাপন ও ক্রিয়েটিভদের ‘কম অ্যাওয়ার্ড’ দেয় বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম। এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফুল ইসলাম

তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন আতিফ আতাউর

 

বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম কী নিয়ে কাজ করে?

বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম নারী ও তরুণদের নিয়ে অনেক অনুষ্ঠান করে। তবে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রজেক্ট ব্যবসা নিয়ে। কম অ্যাওয়ার্ড, বেস্ট ব্র্যান্ড অ্যাওয়ার্ড, লিডারশিপ সামিট, ডিজিটাল মার্কেটিং সামিট—এ রকম সাত-আটটি সাব-প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করি আমরা।

 

শুরুতে কী চিন্তা ছিল?

আমি কয়েকটি মাল্টিন্যাশনাল কম্পানিতে ব্র্যান্ড ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেছি। দেখেছি শক্তিশালী ব্র্যান্ড তৈরির জন্য প্রচুর সময় দেয় তারা। তারা দেখেছে শক্তিশালী ব্র্যান্ড গড়ে তুলতে পারলে অনেক লাভ। ব্যবসায় দারুণ প্রভাব ফেলে এটা । এ জন্য ব্র্যান্ডিংয়ের পেছনে কাজ করতে হয়, ইনভেস্ট করতে হয়। একটা প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড দীর্ঘ সময় কম্পানিকে রিটার্ন দেয়। এ কারণে বিভিন্ন ব্র্যান্ডকে ফোকাস করা ছিল আমাদের শুরুর চিন্তা।

 

‘কম অ্যাওয়ার্ড’ কিভাবে দেওয়া হয়? কারা পায়?

‘কম অ্যাওয়ার্ড’ প্রধানত কমিউনিকেশনস ইন্ডাস্ট্রিকে দেওয়া হয়। এখানে যেসব ক্রিয়েটিভ কাজ হয় এবং যারা কাজ করেন, এই পুরস্কার দিয়ে তাদের সম্মান জানাই। টিভি, প্রিন্ট, বিলবোর্ড, ডিরেকশন, কপিরাইটিং, ডিজিটাল ,সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইনসহ ২৫ ক্যাটাগরিতে নমিনেশন নেওয়া হয়। ইন্ডাস্ট্রির এক্সপার্টরা মিলে জুরি প্যানেল গঠন করেন। তাঁরাই বেস্ট কাজগুলো সিলেক্ট করেন। এরপর একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁদের হাতে ‘কম অ্যাওয়ার্ড’ তুলে দিই। গ্র্যান্ড প্রিক্স, গোল্ড ও সিলভার এ তিনটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হয়।

 

আর ‘বেস্ট ব্র্যান্ড অ্যাওয়ার্ড?’

‘বেস্ট ব্র্যান্ড অ্যাওয়ার্ড’ মিলওয়ার্ড ব্রাউন নামে ব্রিটিশ রিসার্চ কম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে দিয়ে থাকি। বাংলাদেশে তিন বছর ধরে কাজ করছে তারা। প্রথম থেকেই আমরা তাদের সঙ্গে আছি। সারা বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ হাজার ভোক্তার মধ্যে ২০ থেকে ৩০টি ক্যাটাগরিতে একটি জরিপ করা হয়। ব্র্যান্ডিংয়ের গ্লোবালি একটা মডেল আছে ‘ব্র্যান্ড জি’ নামে। ওই আলোকেই ভোক্তাদের একটি ফিডব্যাক নেওয়া হয়। ভোক্তার চোখে ভিন্ন ভিন্ন ক্যাটাগরিতে কোন ব্র্যান্ডটা সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী, তা তুলে আনা হয়। এখনো এটা নিয়ে কাজ করছি। ১৯ নভেম্বর ‘বেস্ট ব্র্যান্ড অ্যাওয়ার্ড’ ঘোষণা করব আমরা।

 

আপনাদের স্পন্সর কারা?

এ ক্ষেত্রে আমরা সব সময় একটা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হই। কম অ্যাওয়ার্ড ও বেস্ট ব্র্যান্ড ক্যাটাগরিতে ছয় মাসের মতো কাজ করতে হয় আমাদের। প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়। এর জন্য আমরা বিভিন্ন কম্পানিকে নিয়ে একটা সিন্ডিকেটের মতো করেছি। ১৫ থেকে ২০টি কম্পানি আছে, যারা সমষ্টিগতভাবে আমাদের স্পন্সর করে। তাতেও না হলে আমরা আমাদের অন্যান্য প্রজেক্ট, যেমন ম্যাগাজিন অ্যাড, বিভিন্ন সেমিনার থেকে সেটা পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি।

 

ষষ্ঠবারের মতো কমিউনিকেশন সামিট করছেন। ভালো কাজ করার জন্য সবাইকে শিখতে হয়। আশ্চর্য বিষয়, বাংলাদেশে অ্যাডভার্টাইজিং শেখার কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। তবে আমরা এ ব্যাপারে একটা পদক্ষেপ নিচ্ছি। যেটাতে কোর্স শেষে সার্টিফিকেট দেওয়া হবে অ্যাডভার্টাইজিংয়ের ওপর। কমিউনিকেশন সামিটে আমরা বিভিন্ন দেশের চার থেকে পাঁচজন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিকে নিয়ে আসি। তারা দিনব্যাপী সেমিনারে অ্যাডভার্টাইজিংয়ের ওপর বিভিন্ন কিছু শেখান। সামিট শেষে রাতে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ক্রিয়েটিভদের হাতে ‘কম অ্যাওয়ার্ড’ তুলে দেওয়া হয়। এর পরদিন অতিথিদের নিয়ে একটি অনুষ্ঠান হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, যেখানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০ শিক্ষার্থী অংশ নেবে।

 

কান লায়ন্সের পার্টনার বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম। এতে কী কাজ করেন আপনারা?

কান লায়ন্সের বিভিন্ন আইডিয়া, কনটেন্ট, সেমিনার, বিভিন্ন কর্মসূচি ও কর্মপরিকল্পনা তাদের কাছ থেকে নিয়ে আমরা অনেক বেশি শেয়ার করি। আমরা তাদের সেমিনারের ভিডিও নিয়ে আটটি টেলিভিশন এপিসোড করেছি। তাদের কনটেন্ট নিয়ে দেশে শেয়ার করি।

 

বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের ভবিষ্যৎ চিন্তা কী?

আগামী বছর ব্র্যান্ড ফোরামের দশ বছর পূর্তি হবে। এ উপলক্ষে দেশের সাতটি বিভাগে কাজ করতে চাই। একই সঙ্গে টেকনোলজি ও অনলাইনে বেশি করে জ্ঞানের ব্যাপ্তি ছড়িয়ে দিতে চাই। নতুন চিন্তার মধ্য দিয়ে দেশের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এগোতে চাই।  


মন্তব্য