kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মেকাপ নিয়ে বিপত্তি!

মডেলিং দিয়ে মিডিয়ায় পথচলা শুরু। এখন পর্যন্ত ১০টি বিজ্ঞাপনে মডেল হয়েছেন। নবাগত চিত্রনায়িকা তানহা তাসনিয়া ইসলাম। তাঁর বিজ্ঞাপন ক্যারিয়ার নিয়ে লিখেছেন মাসিদ রণ

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



 মেকাপ নিয়ে বিপত্তি!

বিজ্ঞাপনের একটি দৃশ্যে তানহা তাসনিয়া

২০১৪ সালে হুট করেই মিডিয়ায় পথচলা শুরু। প্রাণ-আরএফএল কম্পানির স্টিক বিস্কিটের একটি বিজ্ঞাপনে প্রথম মডেল হন।

প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা ছিল তানহার কাছে একেবারেই অন্য রকম। বললেন, ‘এমনিতে আমি বন্ধুদের মধ্যে সারা দিন বকবক করতে পারি। কিন্তু ক্যামেরা দেখে ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। খুব ভয় ভয় লাগছিল। ভাবছিলাম আমার জন্য যদি শুটিং বেশি দেরি হয়ে যায় সবাই আমাকে নিয়ে হাসবে। শুটিং হয়েছিল কোক স্টুডিওতে। জিঙ্গেলের সঙ্গে প্রেমিক-প্রেমিকার খুনসুটি, রাগ-অভিমান তুলে ধরা হয়। মেয়েরা এমনিতে ঢং ভালো পারলেও ওই দিন আমি আড়ষ্ট হয়ে পড়েছিলাম। তবে দু-একটি শট দেওয়ার পরই ব্যাপারটা ধরে ফেলেছিলাম। এরপর নিজের মতো এক্সপ্রেশন দিয়েছি। দেখলাম সবাই বেশ পছন্দ করছে। ’ বিজ্ঞাপনটি প্রচারের পর সাধারণ মেয়েটি হঠাৎ করেই তারকা বনে যান। বন্ধুদের মধ্যে আলাদা খাতির, শপিংমল, রেস্টুরেন্টে অনেকের কাছে বিজ্ঞাপনটির প্রশংসা পেতে শুরু করেন। এটা খুব এনজয় করতেন তানহা। প্রথম বিজ্ঞাপন বলে এটা তাঁর ভীষণ প্রিয়। তা ছাড়া নিজের পছন্দের হিন্দি চ্যানেল স্টার প্লাসে এই বিজ্ঞাপনটা দেখানো হতো বলে তানহা আরো বেশি খুশি হয়েছিলেন। দেশের বাইরের অনেক পরিচিতজন তাঁকে স্টার প্লাসে দেখে ফোন করে শুভেচ্ছা জানাতেন।

তবে তানহার তারকাখ্যাতি আরো বেড়ে যায় সুরেশ সরিষার তেলের একটি বিজ্ঞাপন দিয়ে। ২০১৫ সালে বিজ্ঞাপনটি নির্মাণ করেন বাপ্পী সাহা। এতে তানহা একক মডেল হিসেবে কাজ করেন। এই বিজ্ঞাপনটি বেশি জনপ্রিয় হওয়ার কারণ কলকাতার সব কটি বাংলা চ্যানেলে সিরিয়ালের মাঝখানে দেখানো হতো। ফলে রাস্তায় বেরোলে প্রায়ই মহিলা ভক্তদের সামনে পড়তে হতো তাঁকে। পরে এক বছরেই তানহা সুরেশ সরিষার তেলের আরো তিনটি বিজ্ঞাপনে মডেল হন।

বর্তমানে এলিট কসমেটিকসের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে কাজ করছেন তানহা। ২০১৭ সাল পর্যন্ত এই ব্র্যান্ডের প্রচারণায় অংশ নেবেন। তারই অংশ হিসেবে এ বছর করেছেন এলিট স্পট আউট ক্রিমের একটি বিজ্ঞাপন। বর্তমানে প্রচার হওয়া এই বিজ্ঞাপনে তানহাকে গ্ল্যামারাস মডেল হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। দর্শক পছন্দ করলেও এ বিজ্ঞাপনটির শুটিংয়ের সময় তানহার ভীষণ মন খারাপ ছিল। শোনা যাক তাঁর মুখেই, ‘শুটিং শুরুর আগেই আমার মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল। মনে হচ্ছিল আমার মেকআপটা ভালো হয়নি। তাই কাজে মন দিতে পারছিলাম না। প্রতিটি শট বারবার দিতে হচ্ছিল। এটা বুঝতে পেরে পরিচালক মেহেদী শিকদার আমাকে জিজ্ঞেস করলেন মন খারাপের কারণ কী? উত্তর শুনে তো পুরো ইউনিট হেসে লুটিয়ে পড়ছে! সবাই বোঝাতে লাগলেন— আমাকে দেখতে খুব সুন্দর লাগছে। পরে আমি আশ্বস্ত হয়ে আবার মন দিয়ে কাজ শুরু করি (হা হা হা)। ’

শুটিং করতে গিয়ে অনেক ঘটনাই ঘটে। তেমনি একটি ঘটনা শেয়ার করলেন তানহা, ‘আমার দ্বিতীয় বিজ্ঞাপন ছিল আলিফ লুঙ্গি। গ্রামীণ পটভূমির এই বিজ্ঞাপনটির শুটিং হয়েছিল গাজীপুরে। এখানে আমি ১২ বছরের কিশোরী, আবার পরে গৃহিণীর চরিত্রও করেছি। সবাই বলছিল, আমাকে নাকি সত্যি সত্যিই ১২ বছরের কিশোরীর মতো লাগছিল দেখতে। কিন্তু বিপত্তি হয়েছিল পুকুরে সাঁতারের দৃশ্যটি ধারণ করতে গিয়ে। কারণ আমি তো সাঁতার জানি না। যদিও পুকুরে পানি কম ছিল তার পরও ভয়ে ভয়ে কাজটি শেষ করেছি। বারবারই মনে হচ্ছিল এই বুঝি পানিতে তলিয়ে যাব। ’

চলচ্চিত্রে প্রতিষ্ঠিত নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন দেখেন তানহা তাসনিয়া। একই সঙ্গে মডেলিং করতে চান নিয়মিত। তানহা বলেন, ‘বিজ্ঞাপনের মডেল হওয়ার শখ আগে থেকেই ছিল। সেই শখ পূরণ হয়েছে। এখন চলচ্চিত্রে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। একই সঙ্গে বিজ্ঞাপনের মডেলিংও নিয়মিত করতে চাই। দর্শক ও নির্মাতারা চাইলে নিয়মিত মডেলিং করতে চাই। ’


মন্তব্য