kalerkantho


পেছনের গল্প

টেলিটকের হাসিমুখের স্বপ্ন

হাসিমুখের স্বপ্ন ছড়িয়ে দেওয়ার বার্তা নিয়ে পর্দায় হাজির টেলিটকের নতুন বিজ্ঞাপন। প্রচারের পর থেকেই এটি ঠাঁই করে নিয়েছে জনপ্রিয় বিজ্ঞাপন সাইট অ্যাডস অব দ্য ওয়ার্ল্ডে। পেছনের গল্প জানাচ্ছেন আতিফ আতাউর

১ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



টেলিটকের হাসিমুখের স্বপ্ন

প্রথমে চাই গল্প

টেলিটকের নতুন এই বিজ্ঞাপনের আইডিয়াকে গল্পে রূপান্তর করেছেন বিজ্ঞাপনী এজেন্সি অগিলভি অ্যান্ড ম্যাথারের চিফ ক্রিয়েটিভ অফিসার রাজিব হাসান চৌধুরী ও অ্যাসোসিয়েট ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর আতিক আনন। প্রাথমিক আইডিয়ায় ছিলেন কপিরাইটার মানিক মাহমুদ।

 

শুটিং লোকেশন

বিজ্ঞাপনটির গল্পের জন্য দেশের কোনো একটি ক্যাডেট কলেজে শুটিং করতে চেয়েছিলেন এর নির্মাতা আশফাক উজ জামান বিপুল। এ জন্য শুটিং টিমের কয়েকজন সদস্য মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ ক্যাম্পাস রেকি করে আসেন। কিন্তু সেনাবাহিনী পরিচালিত ক্যাডেট কলেজগুলোতে কিছু বাধ্যবাধকতা থাকায় শেষমেশ ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে বিজ্ঞাপনটির শুটিং করা হয়।

 

শর্টফিল্মের স্বাদ

নির্মাতা বিপুল বললেন, ‘বিজ্ঞাপনটিকে আমরা শর্টফিল্মের আদলে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছি। কোনো প্রচলিত বিজ্ঞাপনের টেস্ট এতে থাকুক, তা চাইনি। যার জন্য মা-ছেলের মধ্যে যে সম্পর্ক, সেটি কিছুটা আবেগময় করে তুলে ধরেছি। আবার এর মধ্যে বন্ধুদের সঙ্গে ছেলেটির সম্পর্ক, নতুন পরিবেশে তার মানিয়ে নেওয়ার ব্যাপারটাও তুলে ধরেছি। দিন শেষে আমাদের মনে হয়েছে, এতে কিছুটা হলেও সফল হয়েছি।

বিজ্ঞাপনটি জনপ্রিয় বিজ্ঞাপন সাইট অ্যাড অব দ্য ওয়ার্ল্ডে প্রকাশিত হয়েছে এবং সপ্তাহের জনপ্রিয় বিজ্ঞাপনের তালিকায় উঠে এসেছে।

 

ফোন নেই বাস্তবেও

বিজ্ঞাপনটিতে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির কোনো ছেলের হাতে মোবাইল নেই। তারা রাতে কল্পনায় ছায়া মোবাইল দিয়ে প্রিয়জনের সঙ্গে কথা বলে। বাস্তবেও কিন্তু তাই। রেসিডেনসিয়ালের আবাসিক স্টুডেন্টদের মোবাইল ব্যবহার নিষেধ। বিষয়টা লোকেশন রেকি করতে গিয়েই উপলব্ধি করেন বিপুল। গেটে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তখন দুটি ছেলে এসে তাঁকে অনুরোধ করে, তাঁর মোবাইলে মাকে একটা ফোন দেওয়ার জন্য। কারণ তাদের কাছে কোনো মোবাইল নেই।

 

প্রথম দৃশ্যে দুই দিন!

বিজ্ঞাপনটির প্রথম দৃশ্য মা-ছেলের বিচ্ছেদের। ছেলেকে স্কুলের হোস্টেলে দিয়ে বিদায় নেবেন মা। আবেগময় এই দৃশ্যের শুটিংয়ের জন্য কম আলোর দরকার। যার জন্য বেশ সকালেই শুটিংয়ের আয়োজন করা হয়। কিন্তু দৃশ্য নিতে নিতে পুব আকাশে সূর্য উঠে যায় অনেকখানি, আর রোদের তাপও বাড়ে। আর নেওয়া হয় না। স্নিগ্ধভাব ফুটিয়ে তোলার জন্য পুরো লোকেশন রেইন মেশিনের বৃষ্টি দিয়ে ভিজিয়ে দেওয়া হয়। তাতেও কাজ হয় না। শেষমেশ পরদিন আবারও একই দৃশ্যের শুটিংয়ের আয়োজন করা হয়। আবার রেইন মেশিন দিয়ে ভেজানো হয় পুরো লোকেশন, ভবন ও গাছপালা।

 

নতুন মুখ ও দিবা নার্গিস

বিজ্ঞাপনটিতে অনেক ছেলে অংশ নিলেও প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন দুজন। মা চরিত্রে অভিনয় করেছেন খ্যাতিমান পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুনের মেয়ে দিবা নার্গিস। বিপুল বললেন, ‘আমরা সব সময়ই চেষ্টা করি বিজ্ঞাপনে নতুন মুখ উপস্থাপন করতে। সেই ধারাবাহিকতায় টিম ছেলেটিকে খুঁজে বের করে। নতুন হলেও সে বেশ ভালো করেছে। ’

আবাসিক রুমে শুটিং

রেসিডেনসিয়াল কলেজের আবাসিক ছাত্রদের রুমেই বিজ্ঞাপনটির কয়েকটি দৃশ্যের শুটিং করা হয়। এর জন্য রেসিডেনসিয়াল কলেজের ছাত্র-শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান বিপুল। তিনি বলেন, ‘ছাত্ররা অনেক কষ্ট করেছে। তারা রাতে নিজেদের রুম ছেড়ে দিয়ে অন্য রুমে থেকেছে। তাদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে দিনের বেলা যখন তারা ক্লাসে ছিল, তখন আমরা শুটিং করেছি। তাদের প্যারেড ট্রুপসও আমাদের বিজ্ঞাপনে অংশ নিয়েছে। এতে তাদের স্কাউট টিমের সহযোগিতা ছিল। ’ একটি দৃশ্যে হোস্টেলের মেঝে ঝাড়ু দিতে দেখা যায় যাঁকে, তিনি হোস্টেলেরই ঝাড়ুদার।

 

ফোনের বিজ্ঞাপনে ফোন নেই!

মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রায় সব বিজ্ঞাপনে মুঠোফোনের দেখা থাকেই। কিন্তু এই বিজ্ঞাপনে নেই কোনো মুঠোফোন! বিপুল বলেন, ‘হোস্টেলে কাউকেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না। এ জন্য বিজ্ঞাপনে মোবাইল ফোন দেখানো হয়নি। মডেলরা মোবাইল ফোন ছাড়াই ইশারায় মোবাইলে কথা বলার দৃশ্যে অভিনয় করেছেন। ’

 

পেছনের যাঁরা

বিজ্ঞাপনের পুরোটাই দেখা যাবে অনলাইনে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে প্রচার হচ্ছে দেড় মিনিট। পত্রিকায় ইতিমধ্যে পুরো পৃষ্ঠায় দেখা দিয়েছে বিজ্ঞাপনটির প্রিন্ট ভার্সন। প্রচার হচ্ছে এখনো। এর অ্যাসোসিয়েট আর্ট ডিরেক্টর আবদুল্লাহ রানা ও মাসুম আলী, আর্ট সুপারভাইজার ছিলেন মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া। অ্যাকাউন্ট ম্যানেজমেন্টে ছিলেন অ্যাকাউন্ট ডিরেক্টর সাইফ চৌধুরী ও অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর ফজলে রাব্বি। প্রোডাকশন হাউস হাফ স্টপ ডাউন। বিজ্ঞাপনের দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ করেছেন ভারতের সিনেমাটোগ্রাফার কেভিন জাগতিয়ানি। প্রোডিউসার মাহজাবিন রেজা, প্রোডাকশন ডিজাইনার মেহেদী হোসেন, কস্টিউম করেছেন মুসকান সুমাইকা, প্রোডাকশন ম্যানেজার মজিবুল মোহন, আর্ট ডিরেক্টর জি কর গৌতম, কপিরাইটার মানিক মাহমুদের লিরিকে মিউজিক করেছেন চিরকুটের পাভেল আরীন। ক্লায়েন্ট টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড।  


মন্তব্য