kalerkantho

টক ঝাল নাবিলা

জনপ্রিয় মডেল নাবিলা করিম। টেলিভিশন, প্রিন্ট ও বিলবোর্ড—বিজ্ঞাপনের তিনটি বড় মাধ্যমেই আছেন অনেক দিন ধরে। তাঁর বিশেষত্ব—শুধু বিজ্ঞাপনেই মডেলিং করেন। তাঁকে নিয়ে লিখেছেন আতিফ আতাউর ছবি তুলেছেন শামসুল হক রিপন

১ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



টক ঝাল নাবিলা

নাবিলার যত বিজ্ঞাপন প্রাণ হট টমেটো সস, সিম্পোনি, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, চমক, ফ্রেশ আটা, ই-ফ্রেশ স্টোর, ফ্রিডম স্যানিটারি ন্যাপকিন, বে, বাটা, অ্যাপেক্স, সিঙ্গার, ইগলু আইসক্রিম, আপন জুয়েলার্স, রেডিও টুডে, ওয়ান্ডার ডিস ওয়াশ বার, আরএফএল র্যাক, সজীব অরেঞ্জ বিস্কুট, গ্রামীণফোন, গ্রিন ডেল্টা লাইফ ইনস্যুরেন্স, আইসি ড্রিঙ্কস, সানসিল্ক, বাংলালিংক।

ভালোবাসার মানুষটির জন্য অপেক্ষা করছে মেয়েটি। অপেক্ষার প্রহর কাটে না। শেষমেশ ছেলেটি হাজির, ততক্ষণে মেয়ের ধৈর্যের বাঁধ গেল ভেঙে। ছেলেটি গোলাপ বাড়িয়ে দিতেই ছুড়ে ফেলে মেয়েটি। একরাশ অভিমানে উঁচু রেস্টুরেন্টের কাচঘেরা দেয়ালের পাশে গিয়ে আকাশের দিকে উদাস দৃষ্টি মেলে দেয়। আকাশ তাকে আশ্রয় দেয় না; দেয় একরাশ আতঙ্ক। আকাশে তখন টর্নেডোর ঘূর্ণন।

হঠাৎ করেই ছুটে বেরিয়ে যায় ছেলেটি। হাতিরঝিলে এসে হাতের মুঠোফোনটি বাড়িয়ে ধরে টর্নেডোর দিকে। মুঠোফোনটাই যেন টর্নেডোকে টেনে এনে নিজের ভেতর নিয়ে নেয়। সিম্পোনি মোবাইল ফোনের দারুণ হিট এই বিজ্ঞাপনে মডেল ছিলেন নাবিলা করিম ও কল্যাণ কোরাইয়া।

ধ্রুব হাসান পরিচালিত এই বিজ্ঞাপনের ৮০ শতাংশ শুটিং ছিল আউটডোরে। বর্ষাকাল বলে নির্ধারিত সময়ে শুটিং শেষ হয় না। কাজটি ভালোভাবে শেষ করার জন্য অন্যদের শিডিউল পিছিয়ে দেন নাবিলা।

প্রাণ হট টমেটো সসের বিজ্ঞাপনটির শুটিংয়ে তাঁর কলটাইম ছিল সকাল ১১টায়। রোজার দিন। নির্ধারিত সময়েই স্পটে আসেন নাবিলা। অথচ সেই শুটিং শুরু হয় রাত ১১টায়। অবাক করা ব্যাপার, এক ঘণ্টার মধ্যেই শুটিং প্যাকআপ করে চলে আসেন। নাবিলা বলেন, ‘মিডিয়া হচ্ছে আমার ভালোবাসার জায়গা। যে জন্য প্রতিটি কাজে নিজের পুরোটাই উজাড় করে দেই। কাজে ভালোবাসা থাকলে সেই কাজ অল্প সময়েই করা সম্ভব। আর ক্যামেরার পেছনের মানুষগুলো যদি একটু বন্ধুর মতো দৃশ্য বুঝিয়ে দেন, তাহলে আর বেশি সময় লাগেও না। ’

প্রাণ হট টমেটো সসের এই বিজ্ঞাপনে আমেরিকায় বেড়ে ওঠা মেয়ে নাবিলা বাংলাদেশে ঘুরতে আসেন। রেস্টুরেন্টে বন্ধুদের সঙ্গে বার্গার খেতে গিয়ে বলেন, আমাদের ওখানে বার্গারের সঙ্গে কত কিছু দেয়। তোমাদের তো কিছু দেয় না। তখন বন্ধুরা বলে, কেন, প্রাণ হট টমেটো সস আছে না? একটু টক, একটু ঝাল। এই বিজ্ঞাপনটি নাবিলাকে লাইমলাইটে নিয়ে আসে। পরিচিতদের মধ্যে তাঁর পরিচয় বদলে হয়ে যায় টক ঝাল নাবিলা।

এরপর আস্তে আস্তে তাঁর ক্যারিয়ারে যুক্ত হতে শুরু করে নামি কম্পানির বেশ কিছু বিজ্ঞাপন। একই সঙ্গে পত্রিকার ফ্যাশন পাতায়ও উঠে আসেন মডেল হিসেবে।

অথচ ২০০৫ সালে মিডিয়ায় পা রাখার আগে এই জগৎ তাঁর ভাবনায়ও ছিল না। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ইংলিশ ভার্সনে পড়েন তখন। আগোরার সুপার শপে সানসিল্কের একটি প্রমোশনে নিজের ভালোলাগা-মন্দলাগার কথা লিখে জমা দেন। কয়েক দিন পরই ডাক আসে এশিয়াটিক থেকে। সেখানে ছোট্ট একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন নাবিলা। এর কিছুদিন পরই সেখান থেকে ডাক আসে সানসিল্কের বিজ্ঞাপনে মডেল হওয়ার জন্য। শুরুতে খানিকটা অনীহা থাকলেও পরে রাজি হন। সিজি বেইসড এই বিজ্ঞাপনটির পরিচালক ছিলেন খ্যাতিমান বিজ্ঞাপন নির্মাতা গাজী শুভ্র। বিজ্ঞাপনটি বেশি বেশি প্রচারের কারণেই সবার নজরে আসেন নাবিলা। ডাক আসে লাক্সের প্রমোশনে মডেলিংয়ের জন্য। এরপর করেন নন্দিত বিজ্ঞাপন নির্মাতা আমিতাভ রেজার সঙ্গে বাংলালিংকের একটি বিজ্ঞাপন। একই সঙ্গে উঠে আসেন আড়ং, মান্ত্রা, টেক্সমার্ট, একসটেসি, বাটা, সিঙ্গার, ইগলু, বে এম্পোরিয়ামসহ বেশ কিছু কম্পানির বিলবোর্ড মডেলে। এসব পণ্যের ব্র্যান্ড মডেল ছিলেন।

নাবিলা বলেন, ‘আগে তো তেমন কেউই চিনত না। বিলবোর্ড মডেল হওয়ায় আমাকে অনেকেই চিনতে শুরু করল। সঙ্গে টেলিভিশন বিজ্ঞাপনগুলো তো চলছেই। আমার নিজের কাছেই অন্য রকম ভালোলাগা বোধ হতো। রাস্তার মোড়ে মোড়ে বিশাল বিলবোর্ডে আমার ছবি ঝুলছে। রেস্তোরাঁয় খেতে গেলে অনেকেই এসে ছবি তুলতে চাইছে। ’

মিডিয়ায় প্রবেশের শুরু থেকেই র্যাম্প মডেলিং করেছেন। বিবি রাসেল, তুপা নাসের, জিয়া, এমদাদ, টুটলি রহমান, বিপ্লব সাহার সঙ্গে কাজ করেছেন।

শোবিজ অঙ্গনে এক দশকেরও বেশি সময় কাজ করলেও মডেলিংয়ের বাইরে দেখা যায়নি নাবিলাকে। নামিদামি নির্মাতার সঙ্গে নাটকে অভিনয়ের প্রস্তাব পেলেও করা হয়নি। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘পরিবার, পড়াশোনা ও মডেলিংয়ের বাইরে অন্য কিছুর জন্য আলাদা করে সময় বের করতে পারিনি। এ জন্য ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নাটকে অভিনয় করা হয়নি। ’

দুই বছর নিজে কাজ করেছেন। এরপর ভাবলেন, নতুন কিছু করা যাক। গড়ে তোলেন ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং ফার্ম—ভার্তুসো। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর তিনি। তাঁর প্রতিষ্ঠান থেকেই কিন্তু মডেল হিসেবে যাত্রা শুরু করেন এ সময়ের জনপ্রিয় অনেক মডেল। নাবিলা বলেন, ‘নিজে কাজ করি, অন্যদেরও সেই কাজে সম্পৃক্ত করতে এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলি। বিভিন্ন কম্পানির ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ও অ্যাডভার্টাইজিং এজেন্সির মডেল সরবরাহ করা হয় আমাদের ফার্ম থেকে। ’

বিজ্ঞাপন নিয়ে মজার একটি গল্প শোনালেন নাবিলা। ফ্রিডম স্যানিটারি ন্যাপকিনের বিজ্ঞাপনের জন্য নির্মাতা আদনান আল রাজিব মডেল খুঁজছিলেন। প্রডাক্টের নাম শুনে কেউই রাজি হচ্ছিল না। রাজিব তাঁকে বলার পর এক কথায় রাজি হয়ে যান। তিনি বলেন, ‘আমি একজন নারী। এ জন্যই নিজেদের নিত্যদিনের জন্য দরকারি এই পণ্যের মডেল হই। আমি তত দিনে ভালো মডেল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছি। তা ছাড়া গল্পে তো প্রোডাক্ট দেখানো হচ্ছে না। সেখানে একজন আত্মনির্ভরশীল সংগ্রামী নারীকে তুলে ধরা হয়েছে। ’


মন্তব্য