kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ জানুয়ারি ২০১৭ । ৪ মাঘ ১৪২৩। ১৮ রবিউস সানি ১৪৩৮।


বিজ্ঞাপন তারকা

জোভানকে এখন দেখা যায়

আমি যা দেখি তুমি কি তা দেখো? ছেলেবেলার খেলাটা এখন বিজ্ঞাপনী স্লোগান। আর বিজ্ঞাপনটাকে জনপ্রিয় করার পেছনে আছেন ছিমছাম গড়ন আর মুখে লাজুক হাসি লেগে থাকা এক তরুণ। জোভান নামে সবাই চেনে তাঁকে। ক্লোজআপের কাছে আসার গল্প ছাড়াও নাটকে কাজ করে যিনি খুব কম সময়েই হয়েছেন হার্টথ্রব। জোভানের তারকা হওয়ার গল্পটা শোনা যাক মাসিদ রণের কাছ থেকে। ছবি তুলেছেন শামছুল হক রিপন

২৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



জোভানকে এখন দেখা যায়

পরিবারের কেউ মিডিয়ায় ছিল না। মিডিয়া নিয়ে কেউ ভাবেওনি। ফারহান আহমেদ জোভানকে নায়ক হওয়ার স্বপ্নটা তাই দেখতে হয়েছে একেবারে নিজে থেকে। কিন্তু বড় তারকা হয়ে কী হবে? মনে মনে একটা আশা ছিল অবশ্য। রাস্তায় বের হলেই আড়াল থেকে মানুষ ফিসফিসিয়ে বলবে, ছেলেটা তো বেশ অভিনয় করে। ব্যস, এটা শোনার জন্যই এতদূর ছোটাছুটি। আর সেই পরিশ্রমের ফল বেশ ভালোভাবেই পেতে শুরু করেছেন হালের জনপ্রিয় এই মডেল-অভিনেতা।

মিডিয়ায় চেনা কেউ না থাকলে নাকি ওঠার পথ খুঁজে পাওয়া ভার। জোভানও প্রথমে কূলকিনারা পাচ্ছিলেন না।

এর মাঝে একদিন দেখা পেলেন কাঙ্ক্ষিত লাইফজ্যাকেটের। অডিশনের জন্য ডাক পড়ল অল্প পরিচিত এক বিজ্ঞাপন নির্মাতার অফিস থেকে। এই বুঝি কপাল খুলল! কিন্তু কাজ দেখে হতাশ জোভান। প্রাণের একটি পণ্যের সেই বিজ্ঞাপনে জোভান ছিলেন ৪০-৫০ ছেলেমেয়ের ভিড়ে একজন!

হতাশার গল্পটা এখানেই শেষ হয়নি। ২০১১ থেকে ২০১৩ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় দুই ডজন টিভি বিজ্ঞাপনে অডিশন দেন জোভান। আশাহত প্রতিবারই। ২০টির মতো বিজ্ঞাপনে তিনি ভিড়ের মধ্যেই ছিলেন। জোভানের ভাষ্যে, কষ্টের দিনগুলো থেকে একটু একটু করে শিখেছেন কিভাবে নিজেকে শূন্য থেকে যোগের খাতায় নিয়ে আসা যায়।

২০১৩ সালের শেষের দিককার কথা। অডিশন দিতে দিতে এতটাই নিরাশ হয়েছিলেন যে পরে আর ডাক পেয়েও যেতে চাচ্ছিলেন না। বন্ধু সিয়াম জোর করে নিয়ে গেলেন আরেকটি অডিশনে। আশপাশে আরো অনেক প্রতিযোগী। প্রথম দিন সিয়ামকে বাছাই করা হলেও জোভানকে ফিরে যেতে হয়। কিন্তু কয়েক দিন বাদে আবারও ডাক আসে এবং সেবারই প্রথম বলার মতো একটা কাজ জোটে জোভানের।

আট মাস চলল ওই ধারাবাহিকটি। তত দিনে অভিনয়টা একটু-আধটু রপ্ত করে নিয়েছেন। আর এই নাটকে তাঁকে দেখে মোবাইল ফোন কম্পানি রবির টিভি বিজ্ঞাপনে ডাক পড়ল। ওই কাজটি মোটামুটি সাড়া ফেলে। এক-এক করে প্রস্তাব পেতে শুরু করেন জোভান। এরপর করেন আশফাক বিপুলের নির্দেশনায় জাস্ট জেলির বিজ্ঞাপন। ওই বিজ্ঞাপনের বিষয় ছিল প্রেমিকাকে (শাহতাজ) পটানো। অনেক কৌশল প্রয়োগ করেও সফল না হওয়া ছেলেটি শেষে জাস্ট জেলির গুণে প্রেমিকার মন পায়। তরুণরা এই দুই মডেলের রসায়ন লুফে নেয়। যার ধারাবাহিকতায় তরুণ প্রজন্মের নতুন ‘রোগ’ সেলফি নিয়ে তৈরি বিজ্ঞাপনেও সুযোগ পান জোভান। বিজ্ঞাপনটি হলো বাংলালিংকের ‘আমি সারা বাংলাদেশ জুড়ে’।

এই বিজ্ঞাপনের কাজও এক দিনে পাননি। নির্দেশক ছিলেন পিপলু আর খান। এতে জোভানকে সুযোগ দেওয়ার জন্য ক্লায়েন্টের সঙ্গে রীতিমতো যুদ্ধ করেন তিনি। যুদ্ধে জয় এলো একদিন। সুযোগ পান জোভান। প্রচারের পরই দর্শকনন্দিত হয় বিজ্ঞাপনটি।

‘এরপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি। একটার পর একটা প্রস্তাব পাচ্ছি। এ পর্যন্ত আসতে যথেষ্ট কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। ’ জোভান আরো বলেন, ‘প্রথমদিকে তো পরিবারের সাপোর্টও পাইনি। এখন তারাও খুব খুশি। ’

বাংলালিংকের বিজ্ঞাপনটির কথা বেশি প্রচার হলেও জোভানের নিজের ভালো লাগে গাজী টিভির বিজ্ঞাপনটি। এখানে তাঁর সহশিল্পী শাহতাজ। নির্দেশনায় ছিলেন কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়। এক প্রেমিক যুগলের মিষ্টি একটি মুহূর্ত দেখানো হয় ওই বিজ্ঞাপনে।

‘শাহতাজ আকাশের দিকে তাকিয়ে আমাকে বলে, আমি যা দেখি তুমি কি তা দেখো?’ ও উড়ন্ত পাখির দলকে চেইনসহ লকেট আকারে ভাবে অর্থাৎ আমার কাছে তার অভিমানভরা আবদার, যেন একটা লকেট উপহার দিই। কিন্তু ওই একই আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রেমিক দেখে মেঘের ভাঁজে তার প্রেমিকার মুখ। খুবই অল্প সময়ে অনেক আবেগঘন একটা মুহূর্ত তুলে ধরেছেন নির্দেশক। দর্শকও আবেগাপ্লুুত। ’

তবে ভালো কাজ একদিনে হয় না। প্রতিটি জনপ্রিয় টিভি বিজ্ঞাপনের পেছনেই আছে গাধার খাটুনি। জোভানকেও খাটতে হয়েছে দেদার। বাংলালিংকের সেলফি টিভি বিজ্ঞাপনের জন্য তাঁকে টানা ১৭ দিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটতে হয়েছে। বিজ্ঞাপনে যে কটি এলাকার নাম বলা হয়েছে, যেতে হয়েছে সব কটাতেই। দেখা গেল ভোর ৪টার সময় পাহাড়ের দীর্ঘপথ বেয়ে একটা মাত্র সেলফির শট নেওয়া হয়েছে। আবার আরেকটি শটের জন্য পুরো শরীর কাদার মধ্যে ডোবাও।

অবশেষে কষ্টের ফল মিলল দর্শকের ভালোবাসায়। আর সেটাই উপভোগ করেন জোভান। জানালেন, তারকাখ্যাতি নয়, ভালোবাসার লোভেই নিয়মিত কাজ চালিয়ে যেতে চান। জোভানের কয়েকটি বিজ্ঞাপনের মধ্যে রয়েছে এলজি এলইডি টিভি, সেভেন আপ, প্রাণ ঝাল মুড়ি, রিং চিপস, কুড়কুড়ে।


মন্তব্য