kalerkantho

পেছনের গল্প

কুকির রোমান্স

প্রচারের পর থেকেই আলোচিত মিস্টার কুকি বিস্কুটের টিভি বিজ্ঞাপন। আরেফিন শুভ ও নুসরাত ফারিয়ার রোমান্টিকতা যেন বিস্কুটের মতোই কুড়মুড়ে ছিল। পেছনের গল্প তুলে ধরছেন আতিফ আতাউর

২৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



কুকির রোমান্স

শুভর জন্য অ্যাকশন চাই

বিজ্ঞাপনটির গল্প লিখেছেন ককটেইল অ্যাডভার্টাইজিংয়ের কপিরাইটার মেহেদী হাসান। গল্পটি এমন—ছুটির ট্রিপে নবদম্পতি। পুরো সময় পার করবে হাসি-আনন্দ আর ভালোবাসার খুনসুটিতে। গল্প হাতে পাওয়ার পর নির্মাতা রিয়াদ রহমান খুঁজছিলেন পাত্রপাত্রী। বললেন, ‘গল্পের প্রয়োজনে রোমান্টিক জুটি খুঁজছিলাম। চেয়েছিলাম শাকিব খানকে। কিন্তু তাঁকে পেলাম না। শুভকে পেলাম। মনে হলো গল্পে খানিকটা অ্যাকশনও দরকার। কারণ দর্শকমহলে শুভ পুরোদস্তুর অ্যাকশন হিরো। ’

সার্চ দ্য লোকেশন

বিজ্ঞাপনটির শুটিং হবে বাংলাদেশে। তাই ছুটি কাটাতে কক্সবাজারের চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে! দিনের বেলা সাগরের ঢেউ। সন্ধ্যা হলে ভালোবাসার মানুষটির কাঁধে মাথা রেখে সাগরের অথৈ জলে সূর্যের হারিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা! শুটিংয়ের দুদিন আগেই কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেন রিয়াদ রহমান ও ডিরেক্টর অব সিনেমাটোগ্রাফার গোলাম মওলা নবীর। ভেবেছিলেন মারমেইড সি বিচে শুট করবেন। কিন্তু সেখানে লোকেশন পছন্দ না হওয়ায় হক গ্রুপের নিজস্ব সি বিচে শুটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

গাছের গুঁড়ি নিয়ে কত কী!

মারমেইড সি বিচে থাকা একটি গাছের গুঁড়ি খুব পছন্দ হয় নির্মাতার। শুটিংয়ের জন্য চাইলে গুঁড়িটি দিতে রাজি হয় না তারা। কিন্তু অ্যাকশন দৃশ্যে শুভর সেই গুঁড়ির ওপর পা রাখার দৃশ্যটা খুব চাই নির্মাতা ও ডিওপির। শেষ পর্যন্ত তাঁরা রাতের অন্ধকারে এক রকম লুকিয়েই গুঁড়িটি সেখান থেকে নিয়ে আসেন। পরের দিন সেই গুঁড়ির ওপর শুভর পা রাখার দৃশ্যের শুটিংয়ের পর তবেই স্বস্তি তাঁদের।

পিস্তল নিয়ে ধাওয়া!

বিজ্ঞাপনটির গল্পে দেখা যায় পিস্তল নিয়ে ফারিয়ার পিছু নিয়েছেন শুভ। কিন্তু এ কী! ভয়ে ফারিয়ার পালানো তো দূরের কথা, উল্টো দুই আঙুলে পিস্তলটি নিয়ে এমনভাবে ফেলে দেন যেন হাতের ময়লা! ফারিয়া কী এমন করেছেন যে শুভ তাঁকে পিস্তল নিয়ে ধাওয়া করেন? এই গল্প বিজ্ঞাপনেও দেখানো হয়নি। নির্মাতা রিয়াদ বলেন, হলিডে ট্রিপে ফারিয়ার অভিমান ভাঙাতে নানাভাবে চেষ্টা করে শুভ। সেই চেষ্টার একটি অংশ পিস্তল দিয়ে ভয় দেখানো। যদিও তাতে কাজ হয় না।

বিস্কুটে সমাধান!

শুভর কোনো চেষ্টাতেই যখন ফারিয়ার মন গলে না, তখন এক প্যাকেট মিস্টার কুকি বিস্কুটেই কাজ হয়ে যায়। মিস্টার কুকি মুখে দিয়েই অন্য জগতে চলে যান ফারিয়া। শুরু হয় গান—ভালো তোমায় বাসি বন্ধু প্রথম দেখা থেকে, ভয় একটাই কখন আবার আমায় ছেড়ে যাবে। গানটির কথা লিখেছেন কপিরাইটার মেহেদী হাসান। সুর করেছেন সন্ধি। কণ্ঠ দিয়েছেন তৌসিফ ও কনা।

হঠাৎ ইয়টে আটকা

ঝুনো দ্বীপে শুটিং শেষে বিচে থাকা বিলাসবহুল একটি ইয়ট দেখেন রিয়াদ। তাতে কিছু দৃশ্য নিতে চান। কিন্তু ওটা ছিল হক গ্রুপের মালিকের ব্যক্তিগত ইয়ট। নিজেদের পণ্যের বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ের জন্য শেষমেশ তাঁকে রাজি করানো হয়। সৈকতের প্রচণ্ড বাতাসে ইয়ট এতটাই নড়ছিল যে শুটিং করাই দায় হয়ে পড়েছিল। শেষে দড়ি দিয়ে বেঁধে চারপাশ থেকে আটকে রেখেই চালানো হয় ক্যামেরা। কিছুক্ষণ পর আবার ভাটার টানে আটকা পড়ে ইয়ট। কী আর করা, আবার জোয়ারের অপেক্ষায় থেকে পরের দিন ফের শুটিং।

সূর্য ও শাড়িতে বিপত্তি

একটি দৃশ্যে সূর্যের আলো পেতে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল বলে জানান ক্যামেরাম্যান নবীর। তিনি বলেন, ‘যেদিক থেকে ক্যামেরা ধরছিলাম সূর্যের আলো পাচ্ছিলাম না। সূর্যের আলো পেছনে চলে যাচ্ছিল। কিন্তু এতে তো আমাদের হাত নেই। তাই দৃশ্যটির জন্য পরের দিনের সূর্যের অপেক্ষা ছাড়া উপায় ছিল না। ’ শাড়ি নিয়েও বিপাকের কথা বললেন নির্মাতা রিয়াদ। ‘সৈকতে নেমে নাচতে হবে। ভেজা শাড়ি পরে নাচা কঠিন। তার ওপর প্রচণ্ড বাতাস। বাতাসে শাড়ি উড়ছিল। তার পরও এসব উতরে কাজ শেষ করি। ’

এক প্যাক নয়, দেব এক ট্রাক

বিজ্ঞাপনটির শুটিংয়ের সময় সঙ্গে ছিলেন কম্পানির হেড অব মার্কেটিং অফিসার দেবাশীষ শিকদার। তিনি ফারিয়ার এক প্যাকেট কুকি বিস্কুট পেয়ে পটে যাওয়া দেখে সবাইকে মজা করে বলেন, ‘ফারিয়া আমার প্রেমে পড়ুক। এক প্যাকেট নয়, এক ট্রাক কুকি বিস্কুট দেব। ’

 

নেপথ্যের কুশীলব

বিজ্ঞাপনের ক্লায়েন্ট : হক গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ।

ব্র্যান্ড : মিস্টার কুকি।

এজেন্সি : ককটেইল অ্যাডভার্টাইজিং।

প্রডাকশন হাউস : সল্ট প্রোডাকশন।


মন্তব্য