kalerkantho

রবিবার। ২২ জানুয়ারি ২০১৭ । ৯ মাঘ ১৪২৩। ২৩ রবিউস সানি ১৪৩৮।


বিজ্ঞাপনেও সেরা সাকিব

ব্যাট হাতে চার-ছক্কা যেন মুড়ি-মুড়কি। বল হাতে নিলেই ধন্ধে পড়ে প্রতিপক্ষ। কী আছে তাঁর মনে! এদিকে ক্যামেরার সামনে আইসক্রিম হাতে কী সাবলীল হাসি! সুপারশপে কে রে? আমি আইসক্রিম খাই না। নিখুঁত অলরাউন্ডার বটে! সাকিব আল হাসানের নাম কী? মাঠে পরিচয়। মাঠের পরিচয় তো সবার জানা। বিজ্ঞাপনের সাকিব? সেটা জানা যাক আতিফ আতাউরের কাছ থেকে।

২৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বিজ্ঞাপনেও সেরা সাকিব

তারকার খ্যাতি মাপার স্কেলে ক্রিকেটাররা এখন স্কেল ফুঁড়ে যাবেন নির্ঘাত। আবেগটাই যে অন্য রকম। ফর্মে থাকলে তো কথাই নেই। পুরোদমে সুযোগটা নেন বিজ্ঞাপন নির্মাতারা। পণ্যের অ্যাম্বাসাডর বানাতে ক্রিকেটারদের ‘ক্যাচ’ ধরতে থাকেন তক্কে তক্কে। বাংলালিংকের একটি বিজ্ঞাপনে পাশের ফ্ল্যাটের ভদ্রমহিলা ফিরনির বাটি দরজায় রেখে সুইচ টিপে চলে যান। দরজা খুলে অবাক সাকিব! দারুণ হিট সেই বিজ্ঞাপন। নির্মাতার মতো কম্পানিও বাকবাকুম খুশি।

ক্রিকেটের মতো বিজ্ঞাপনের মাঠেও অলরাউন্ডার সাকিব। যাঁরা কাজ করেছেন, তাঁরাই বললেন অকপটে। অভিনয়ের মানুষ না হয়েও ক্যামেরার সামনে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তাঁর। এ জন্য ক্রিকেটের মতো বিজ্ঞাপনেও এগিয়ে আছেন অন্য অনেকের চেয়ে। পত্রিকা ও রাস্তার মোড়ের বিশাল বিলবোর্ডেও তাঁর সরব উপস্থিতি। কখনো আইসক্রিম মুখে তো কখনো মোটরসাইকেলের পাশে দাঁড়িয়ে। কখনো আবার ক্রিকেটের ব্যাটপ্যাড পরে কোনো কম্পানির কোমল পানীয়র প্রচারে হাসিমুখে পোস্টারের পোজে।

সাকিবকে নিয়ে কয়েকটি বিজ্ঞাপন তৈরি করেছেন নামকরা নির্মাতা পিপলু আর খান। তিনি বললেন, ‘সাকিবকে ক্যামেরার সামনে কখনোই লাজুক মনে হয়নি। অনেক স্বতঃস্ফূর্ত ছিলেন। একটি শট বারবার দিতেও আপত্তি ছিল না তাঁর। ’

ক্রিকেটের মাঠে তো সারাক্ষণ ক্যামেরার সামনেই থাকতে হয়। সেখানে বরং আরো তটস্থ। এক চুল এদিক-সেদিক হলে দ্বিতীয় টেকের সুযোগ নেই। এ কারণেই হয়তো ‘ক্যামেরা লজ্জা’টা আগেই ঝেড়ে ফেলতে পেরেছেন। কিন্তু অভিনয়? এটা শোনা যাক দেশের জনপ্রিয় সিনেমাটোগ্রাফার নেহাল কোরায়েশীর কাছ থেকে—‘শাকিবকে কোনো কিছু একবার বুঝিয়ে দিলেই হয়। দুবার বলতে হয় না। দ্রুত বুঝে নেওয়ার দক্ষতা আছে তাঁর। নির্মাতা কী চাইছেন সেটা যতক্ষণ না ঠিকমতো দিতে পারছেন, ততক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে যান। ’

সাকিব ও শিশিরকে নিয়ে বাংলালিংকের একটি বিজ্ঞাপনের সিনেমাটোগ্রাফার ছিলেন নেহাল। সেই অভিজ্ঞতাও ভাগ করলেন বিজ্ঞাপন বিরতির সঙ্গে, ‘সাকিব অনেক দিন ধরে কাজ করলেও শিশির প্রথমবারের মতো ক্যামেরার সামনে। শিশির তখন সন্তানসম্ভবাও। সে জন্য সব কিছু তাদের সুবিধামতোই সাজানো হয়। আউটডোরে শুটিং থাকলেও পরে তা বাতিল করে ঢাকায়ই সেট ফেলা হয়। সাকিব সেটে এসেই নির্মাতাকে বললেন, ‘বলেন কী করতে হবে আমাদের? সব শুনে এরপর শিশিরকে নিজেই দৃশ্য বুঝিয়ে দিতে শুরু করেন। তাঁর ভেতর প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস না থাকলে এভাবে কারো পক্ষে বলা সম্ভব না। ’

জাএনজি আইসক্রিমের টেলিভিশন ও প্রিন্ট বিজ্ঞাপনে তো বটেই, শহরের বিলবোর্ডেও অন্য এক সাকিবকে দেখেছে শহরবাসী। বিলবোর্ডে চোখ রাখলেই মনে হবে বাচ্চামিতেও কম যান না সাকিব! আইসক্রিম হাতে নিতেই মুখ-চোখ বেয়ে উপচে পড়ে শৈশবের দূরন্তপনা।

বিজ্ঞাপনটির কপিরাইটার বিটপি অ্যাডভার্টাইজিংয়ের সিনিয়র ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর শাকিব চৌধুরী ছিলেন সেই শুটিংয়ে। বললেন, ‘জাএনজি আইসক্রিমের প্রোমোশনের জন্য আমরা সাকিবের মতো একজনকেই চাইছিলাম। কিন্তু তত দিনে সাকিবকে নানা রূপে দেখে ফেলেছেন দর্শকরা। আমরা তাই ভিন্নতা আনতে চেয়েছি। ’

শাকিব চৌধুরী বলেন, ‘মজার ব্যাপার হচ্ছে, আমরা যখন সাকিবের সঙ্গে কনসেপ্ট শেয়ার করলাম, তিনি খুশি হয়েই সেটা মেনে নেন। ’

শুটিংয়ের সময়ও দারুণ মজা করেছেন। সবার সঙ্গে হেসে-খেলে কাজ শেষ করেছেন। ‘তাঁকে যখন বলা হলো এই বিজ্ঞাপনের জন্য তাঁর শিশুসুলভ দুষ্টুমিটা চাই, তখনই যেন ক্যামেরার সামনে উড়ে এসে বসলেন এক অন্য সাকিব। আইসক্রিম হাতে নিজেই নানা পোজে শট দেওয়া শুরু করলেন। সুপারশপের শুটিংয়ে তো সাকিব সত্যি সত্যিই যেন শিশু হয়ে গিয়েছিলেন। ’ সাকিব-বন্দনায় যোগ করলেন শাকিব চৌধুরী।


মন্তব্য