kalerkantho

রবিবার। ২২ জানুয়ারি ২০১৭ । ৯ মাঘ ১৪২৩। ২৩ রবিউস সানি ১৪৩৮।


কথাবার্তা

আইডিয়া কখন কিভাবে এসে পড়ে বলা কঠিন : শামীম সুফিয়ান

গ্রামীণফোনের ‘কথা তো সব মুইছ্যা গ্যাছে বাজান’, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ‘স্বপ্নের আলো’, শাহ সিমেন্টের ‘মুসা ইব্রাহিম’; জননন্দিত বিজ্ঞাপনগুলোর আইডিয়া বেরিয়েছিল এশিয়াটিক লিমিটেডের সহযোগী কপিরাইটার শামীম সুফিয়ানের মাথা থেকে। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন আতিফ আতাউর

১৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



আইডিয়া কখন কিভাবে এসে পড়ে বলা কঠিন  : শামীম সুফিয়ান

বিজ্ঞাপনে এলেন কিভাবে?

 

বিজ্ঞাপনী সংস্থায় আছি ২০০৬ সাল থেকে। তখন ঢাকায় থেকে বিসিএসের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম আর খরচ জোগাতে একটা কোচিং সেন্টারে বাংলা পড়াতাম। একদিন ছোট ভাই দেবাশীষ কাঁকন (বর্তমানে ঢাবির সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক) গ্রে-ঢাকার ম্যানেজিং ডিরেক্টর গাউসুল আলম শাওন ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিল। আড্ডায় কথা প্রসঙ্গে বিজ্ঞাপনে আগ্রহের কথা বলি। আমার কিছু গল্প-কবিতা পাঠাই। এক মাস পরে হঠাৎ ডাক পাই গ্রে থেকে। সেই থেকে শুরু।

এখন পর্যন্ত কতগুলো কপি লিখেছেন?

১০ বছরের কাজ গুনে বলা কঠিন! ইউটিউবে shamim sufian লিখে সার্চ দিলে কিছু কিছু দেখা যাবে।

উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞাপন?

গ্রামীণফোনের ‘কথা তো সব মুইছ্যা গ্যাছে বাজান’, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ‘স্বপ্নের আলো’, শাহ সিমেন্টের ‘মুসা ইব্রাহিম’, ফ্রুটিকার ‘নো প্রিজারভেটিভ’, স্বপ্নর ‘কষ্টের টাকায় শ্রেষ্ঠ বাজার’, হরলিকস জিনিয়াস পরিবারের ‘গুণ থাকলে যোগ দিন’, প্রাণের ‘যেখানেই হুররে, সেখানেই হুররে’, আরএফএলের ‘ড্রিংক ইট’, মাইক্যাশের ‘লর্ড ও রূপবান’।

আইডিয়া আসে কিভাবে?

স্ট্র্যাটেজি মানে কৌশলটা ঠিক হলেই আইডিয়া ভাবার পালা। কখনো কয়েকজন মিলে, কখনো একা একা। প্রথমেই সার্চ দেই জীবনের অভিজ্ঞতায়। এরপর কল্পনার জগতে। মনের মতো আইডিয়া না পেলে রসদ খুঁজি ইন্টারনেটে। কখন কিভাবে এসে পড়ে বলা কঠিন। ফুটপাতে হাঁটতে হাঁটতে, আড্ডা দিতে দিতে বা মেয়ের সঙ্গে কার্টুন দেখতে দেখতেও অনেক আইডিয়া এসেছে। তবে ভাবতে হয় ২৪ ঘণ্টাই।

প্রথম লেখা কপি?

এ্যাপোলো হসপিটালের স্বাধীনতা দিবসের একটি প্রেস অ্যাডের কপি দিয়ে আমার কপিরাইটার হিসেবে যাত্রা শুরু। হেডলাইনে লিখেছিলাম ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি—১৯৭১, মোরা একটি ফুলকে সাজাবো বলে যুদ্ধ করি—২০০৬। ’ এরপর বডি-কপিতে লিখেছিলাম ‘বাংলাদেশ ফুলটির জন্য আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ। ’ শুধু কপি দিয়ে তৈরি এই বিজ্ঞাপনটির আর্ট ডিরেক্টর ছিলেন জাভেদ আকতার সুমন।

বিজ্ঞাপন নিয়েই থাকবেন?

বিজ্ঞাপনে আগ্রহ জন্মেছিল শাওন ভাইয়ের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে। এরপর ২৬ মার্চ শুধু কপি দিয়ে প্রথম বিজ্ঞাপন পত্রিকায় ছাপা হলো দেখে আগ্রহ বেড়ে গেল বহুগুণ। নোকিয়ার ‘এ শুধু বাংলাতেই সম্ভব’ ক্যাম্পেইনে কপিরাইটারের কাজ করে দারুণ মজা পেলাম। সব শেষে ২০০৮ সালে বিজ্ঞাপনে সৃজনশীলতার জন্য কলকাতার দৈনিক সংবাদ প্রতিদিনের উদ্যোগে, বাংলাদেশ ও ভারতের বাংলা বিজ্ঞাপনের জন্য দেওয়া ‘কপিরাইটার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হওয়ার পর মনে হলো আজীবন কপিরাইটারই থাকব।

প্রিয় বিজ্ঞাপন?

ছেলেবেলার রেড কাউয়ের ‘মনে পড়ে মনে পড়ে’ আর সম্প্রতি টেলিটকের সুন্দরবন নেটওয়ার্ক টিভিসি ও প্রেস ভালো লেগেছে।

কার স্ক্রিপ্ট ভালো লাগে?

অনম বিশ্বাস, রাসেল মাহমুদ, ফাহিম রেজা পিয়াল ও মোহাম্মদ আলী সাগরের।

দেশের ও বিদেশের বিজ্ঞাপনে পার্থক্য কতখানি?

খুব বেশি নয়। যেটুকু পার্থক্য তা ভাবনার স্বাধীনতা ও বাজেটে। ওরা যা ভাবে তা বানাতে পারে। আমরা কিছু ভাবার আগেই ১৪টা বাধা এসে হাজির। তবে আমাদের বিজ্ঞাপন অনেকখানি এগিয়েছে। সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ভালো ভালো বিজ্ঞাপন তৈরি হচ্ছে। ক্রিয়েটিভে নতুন ছেলেমেয়ে আসছে। বেশ কয়েকজন নতুন মেধাবী বিজ্ঞাপন নির্মাতাও পেয়েছি। তাই বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন আর কদিন পর বিশ্বেও আলোচিত হবে বলে মনে হয়।

সীমাবদ্ধতাগুলো কী কী?

আছে অনেক। টেকনিক্যাল সাপোর্ট ও প্রফেশনাল মানুষের সীমাবদ্ধতার চেয়ে বড় বাধা হলো নতুন ভাবনাকে স্বাগত জানানোর সীমাবদ্ধতা। তবে সেটাও কমে আসছে ইদানীং। এখন স্যাটেলাইট চ্যানেল ও ইন্টারনেটের সুবাদে বিশ্বের বিখ্যাত পণ্যের ভালো ভালো বিজ্ঞাপন দেখছে সবাই। ক্লায়েন্টও ভালো আইডিয়া ও গল্প চায় এখন।

নতুনদের জন্য টিপস?

একটি ভালো বিজ্ঞাপনের প্রথম শর্তই হলো ভালো স্ক্রিপ্ট। ওটাই চার ভাগের তিন ভাগ। বাকিটা পরিচালনা ও অভিনয়শিল্পীর কৃতিত্ব। পণ্যটি যাদের জন্য তাদের কথা ভাবতে হবে আগে। পণ্যের ইউনিক সেলিং পয়েন্টটি কিভাবে বললে তাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হবে সেটাই বড় কথা।   ‘প্রচারেই প্রসার’ এটা কিন্তু প্রমাণিত সত্য।

 

 


মন্তব্য