kalerkantho


চুলে নিশা লাগিল রে

মেহরিন ইসলাম নিশা। আগে সবাই চিনত লাক্স তারকা হিসেবে। কিন্তু একটি বিজ্ঞাপনই বদলে দিল পরিচয়। ক্যারিয়ারের পালে লাগল জোর হাওয়া। নিশার গল্পটা শোনাচ্ছেন মাসিদ রণ। ছবি তুলেছেন শামছুল হক রিপন

১৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



চুলে নিশা লাগিল রে

তারকা হওয়ার স্বপ্নে কল্পনার ক্যানভাসে শত শত ছবি আঁকে সে। কখনো স্বপ্নপুরুষের সঙ্গে ভেসে বেড়ায় মেঘের রাজ্যে, কখনো ডিজনির চরিত্র হয়ে হেঁটে চলে লাল গালিচায়। চারপাশে কত ভক্ত। ক্যামেরার ঝলমলে ফ্ল্যাশে মেয়েটিকে দেখায় সুপারস্টারদের মতোই। মিষ্টি মুখ আর তন্বি গড়নের মেয়েটাতো এমন স্বপ্ন দেখতেই পারে। কিন্তু বাদ সাধছে তাঁর চুল!

এমন সময় দেশের নামকরা রূপ বিশেষজ্ঞ মেয়েটিকে পরামর্শ দেন জুঁই নারিকেল তেল ব্যবহারের। আর সেটা ব্যবহারের পরই সবাইকে চমকে দেয় মেয়েটা। পৌঁছে যায় স্বপ্নসিঁড়ির সবচেয়ে ওপরের ধাপে।

জুঁই নারিকেল তেলের একটি টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের গল্প এটি। আর স্বপ্নে বিভোর মেয়েটির চরিত্রে কাজ করেছেন ২০১০ সালের লাক্স তারকা মেহরিন ইসলাম নিশা।

লাক্স তারকা হওয়ার আগেও নাটক-বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন নিশা। সেগুলো অতটা পরিচিতি দিতে পারেনি। জুঁইয়ের বিজ্ঞাপনটিই এনে দেয় তুমুল জনপ্রিয়তা।

তেলের বিজ্ঞাপনটিতে নিশা সুযোগ পান তাঁর দীঘল চুলের জন্যই। ২০১২ সালের মাঝামাঝিতে এটি তৈরি করেন জনপ্রিয় পরিচালক অমিতাভ রেজা। মিডিয়াকমের এই বিজ্ঞাপনের জন্য অডিশন দেন অনেকেই। কিন্তু নিশার চুলই নির্মাতার মনে ধরে। চুলকে আরো সুন্দর দেখাতে ভারত থেকে নিয়ে আসা হয় বিশেষজ্ঞ। তিনি আবার বলিউড নায়িকা বিপাশা বসুর চুলের দেখভালও করেন।

বিশাল সেট ফেলে দুই দিন শুটিং হয়েছিল এফডিসিতে। এ বিজ্ঞাপনে নিশার সঙ্গে ছিলেন রূপবিশেষজ্ঞ কানিজ আলমাস খানও।

‘অনেক মজার ছিল সেই অভিজ্ঞতা,’ বললেন নিশা। ‘শুটিংয়ের আগে অমিতাভ রেজা থাইল্যান্ডে গিয়েছিলেন। যাওয়ার সময় বললেন, ‘নিশা তুমি যতবার এক টেকে শট ওকে করতে পারবে, তত শ বাথ (থাই মুদ্রা) পাবে। দেখা গেল, পুরো শটিং শেষে আমি ৫০০ বাথ পেয়েছি। ’

এই বিজ্ঞাপনের রেশ না কাটতেই নিশা করেন নাফিজের নির্দেশনায় প্রাণ ডালের টিভি বিজ্ঞাপন। এখানে কাজ করেন মডেল আসিফের বিপরীতে। গল্পটা বেশ রোমান্টিক। ট্রেনের জন্য একটি মেয়ে অপেক্ষা করছে। প্রহর যেন কাটছে না। হঠাৎ ঝুম বৃষ্টিতে প্রিয়জনের কাছে যাওয়ার তাড়াটা একটু বেশিই বোধ করে। মুখে বিরক্তির ছাপ। চোখ বারবার ঘড়িতে। তা দেখে পাশের যুবক। সে চট করে দোকান থেকে প্রাণ ডাল কিনে এনে মেয়েটিকে দিয়ে বলল, প্রাণ ডাল, মুঠোয় মুঠোয় সময় পার! এখানেও চমৎকার অভিনয় নিশার।   বললেন, ‘এক রেস্টুরেন্টে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম সেখানেই বিজ্ঞাপন নির্মাতা নাফিজ ভাই আমাকে দেখেন, কিন্তু তিনি জানতেন না যে আমি মিডিয়ায় কাজ করি। আমাকে বললেন, ‘বিজ্ঞাপনের জন্য নতুন মডেল খুঁজছি, করবে?’ হেসে বললাম, ‘আমি তো নিয়মিত কাজ করি। ’ নাফিজ ভাই ট্রেনের জন্য অপেক্ষার গল্পটি শোনালেন। ভেবেছিলাম, শুটিং হবে মফস্বলের কোনো রেলস্টেশনে। তখন আমার পরীক্ষা চলছিল। কাজটি ঢাকার বাইরে গিয়ে করতে পারব কি না নিশ্চিত ছিলাম না। কিন্তু তিনি আমাকে আশ্বস্ত করলেন, ঢাকাতেই শুটিং হবে। এর দুদিন পর শুটিং হয়েছিল কোক স্টুডিওতে। সেখানে দেখি এলাহি কারবার! নকল ট্রেন আর ট্রেন লাইন বানানো হয়েছে। এমনকি ওয়েটিং রুম পর্যন্ত আছে। সবই হার্ডবোর্ডের! আয়োজন দেখে আমি তো মুগ্ধ! মন দিয়ে কাজ করেছিলাম। তাই চার-পাঁচ ঘণ্টাতেই শুটিং শেষ হয়ে যায়। প্রচারের পর খুব সাড়া পাই। ’

নিশার কাছে তাঁর এই টিভি বিজ্ঞাপনটিই বেশি প্রিয়। ‘কাজটি খুব ক্লাসি হয়েছে। বৃষ্টি, জিঙ্গেলের সুর-তাল-লয় আর দুই অপরিচিত তরুণ-তরুণীর রসায়ন; সব মিলিয়ে আবহটা অন্য রকম ছিল। ’

এরপর নিশা করেছেন পারটেক্স ফার্নিচারের বিজ্ঞাপন। নব দম্পতির ঘর সাজানো নিয়ে এই বিজ্ঞাপনও বেশ জনপ্রিয়তা পায়।

নিশার প্রথম বিজ্ঞাপন এলিট পেইন্ট। সব শেষে করেন ডানো গুঁড়া দুধের বিজ্ঞাপন। মাঝে ভ্যাসলিনের কাজও করেছেন।

সব মিলিয়ে কাজের সংখ্যা হাফ ডজন। অফার পেলেই যে সব কাজে রাজি হবেন এমনটা নয়। ‘একটি কাজ করেই যদি দর্শকের মনে জায়গা পাই, তাহলে যেনতেন কাজ করে কি লাভ? তার চেয়ে নিজের ইমেজের সঙ্গে যায় এমন পণ্য ও গল্প পেলেই কাজ করব। আর বিজ্ঞাপনের সংখ্যা কম হওয়ার কারণ আমার পড়াশোনা ও ধারাবাহিক নাটক। তবে ধারাবাহিক কমিয়ে ভালো কিছু বিজ্ঞাপন আর একক নাটক করতে চাই,’ সমাপ্তি টানলেন নিশা।


মন্তব্য