ধাপে ধাপে বিজ্ঞাপন-334478 | বিজ্ঞাপন বিরতি | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১২ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৪ জিলহজ ১৪৩৭


বিজ্ঞাপন সংকেত

ধাপে ধাপে বিজ্ঞাপন

প্রতিদিন শত বিজ্ঞাপনের ভিড়ে কেটে যাচ্ছে নাগরিক সময়। সকালের পত্রিকা, চলতি পথের মোড়ে বিশাল বিলবোর্ড, আর রাতে টেলিভিশনে। ঝাঁ চকচকে পণ্যের হাতছানিতে ভরা জীবনে যেন বিজ্ঞাপনেরই জয়। কিন্তু কিভাবে বানানো হয় এসব বিজ্ঞাপন? সেটাই এবার শোনা যাক চিত্রনাট্যকার ও বিজ্ঞাপন নির্মাতা অনম বিশ্বাসের কাছ থেকে

১১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ধাপে ধাপে বিজ্ঞাপন

মনের দখল চাই

একটি কম্পানি কী করে? সে একটা পণ্য বা সেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চায়। নতুন কম্পানি হলে সে চিন্তা করে কিভাবে তার পণ্য আর নিজের দর্শন দিয়ে মানুষের মনে জায়গা করে নেবে। পুরনো ব্র্যান্ড হলে চিন্তা করে কিভাবে সে ওই জায়গাটা টিকিয়ে রাখবে। মানুষের মনের জায়গাটা দখল করাই বিজ্ঞাপনের কাজ।

তবে এটাও ঠিক যে গল্প দিয়ে বিস্কুটকে জনপ্রিয় করা যায়, সে গল্প দিয়ে অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি করা যায় না।

সবার ওপরে ক্লায়েন্ট সত্য

বিজ্ঞাপনের জন্মের পেছনে মূল ভূমিকা রাখে সেই বিজ্ঞাপনের কম্পানি। সাধারণভাবে যা বোঝায় সেটা হলো—ব্র্যান্ড টিম তার পণ্যকে ছয় মাস বা তারও পরে কোন অবস্থানে দেখতে চায়, তার জন্য কী করা দরকার...এসব পরিকল্পনা করে কম্পানির অন্য সব বিভাগের সঙ্গে আলোচনা সেরে নেয়। মানে গরমকালে ফ্যান বিক্রি হবে বেশি, এখন সেলস টিম চাইল অনেক বেশি বিক্রি হোক। তখন আবার ব্র্যান্ড টিম ভাবল যে এটা এটা করলে বিক্রি বাড়বে। তারপর পণ্য সম্পর্কিত সব তথ্য সংগ্রহ করে এজেন্সিকে একটি সারসংক্ষেপ দেয়। যেমন—কিনলে কী লাভ, কেন কেনা দরকার, প্রতিযোগী কারা, কে কিনবে ইত্যাদি তথ্য। এজেন্সি সেই তথ্য অনুযায়ী যোগাযোগের মাধ্যম তৈরি করে, তারপর ব্র্যান্ড টিম আর এজেন্সি মিলে বিজ্ঞাপনটা বানায়।

এজেন্সি কী করে

একবার একটি চায়ের ব্র্যান্ড চালু করা হবে। এখন কাজ হলো কী বললে মানুষ এই চায়ের ব্র্যান্ডকে ভালোবাসবে। তখন ক্লায়েন্ট থেকে পরামর্শ এলো, আমরা এমন কিছু বের করি যেটা চা আর বাঙালির মধ্যকার সম্পর্ককে ধরতে পারে। যেমন বাঙালি আর চায়ের মধ্যে কী সম্পর্ক? মানে ধরুন বাঙালি আর মিষ্টি। আমরা বিভিন্ন উৎসবে মিষ্টি খাই—পরীক্ষায় পাস করলে, বাচ্চা হলে, বিয়ে হলে। তেমনি চা আর বাঙালিরও সম্পর্ক আছে। এমন একটা সম্পর্ক বের করে আমরা কৌশল তৈরি করলাম। তারপর বিজ্ঞাপনের গল্প ভাবলাম। এজেন্সি ও ক্লায়েন্ট প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিদের মতামত নিয়ে সেগুলো চূড়ান্ত রূপ পেল। তারপর সবাই যখন মোটামুটি সন্তুষ্ট তখন খোঁজা হয় পরিচালক। প্রত্যেক পরিচালকেরই নিজস্ব ধরন আছে। তারপর পরিচালককে সারসংক্ষেপ জানিয়ে দেয় এজেন্সি, যে সে কিভাবে গল্পটা দেখতে চায়। এরপর শুরু হয় নির্মাণকাজ।

দশে মিলে গড়ি ব্র্যান্ড

টিভি বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে অ্যাড এজেন্সি বিজ্ঞাপনের চিত্রনাট্য তৈরির পর পরিচালক বা প্রোডাকশন হাউস সেটাকে বাস্তবে রূপ দেয়। বাজেট ক্লায়েন্ট ঠিক করেন। তবে সেটা এজেন্সি ও পরিচালক গল্পটা কিভাবে দেখছেন তার ওপর নির্ভর করে। লোকেশন, শিল্পী বাছাই, মিউজিক ও কণ্ঠসংক্রান্ত বিষয়গুলো কী হবে সেটা আসলে চিত্রনাট্যের ওপর নির্ভর করে। অনেক সময় চিত্রনাট্যের পর্যায়ে হয়তো চিন্তা করে ফেলা হয়—এই গান এই শিল্পী গাইবে, এই চরিত্র ও করবে, লোকেশনটা এদিকে হতে পারে ইত্যাদি। এজেন্সি অনেক সময়ই যথেষ্ট পরিমাণে বর্ণনা দিয়ে দেয়। পরিচালক তারপর থেকে ভ্যালু-অ্যাড তথা বাড়তি কিছু যোগ করেন। আবার অনেক সময় পরিচালকই আনুষঙ্গিক বিষয় ঠিক করেন। মিলেমিশেই হয় ব্যাপারটা। আর ক্লায়েন্টের মতামত তো চলতেই থাকে। বিজ্ঞাপন নির্মাণের সময় এজেন্সি পুরো বিষয়টা দেখভাল করে।

আর ব্র্যান্ড তৈরির প্রক্রিয়াটাও পুরোপুরি টিমওয়ার্ক-নির্ভর। শুধু এজেন্সির ভেতরের টিম না—ক্লায়েন্ট, এজেন্সি ও পরিচালকের টিম। আমরা যে ভালো বিজ্ঞাপনগুলো দেখি সেগুলো আসলে কারো একার সৃষ্টি বলা যাবে না। সব টিমওয়ার্কেরই ফল।

গ্রামীণফোনের ওয়েলকাম টিউন, অনন্ত জলিল, স্পেলিং বি, আইসিসি ওয়ার্ল্ডকাপ, বিউটিফুল বাংলাদেশ—এ রকম অনেক বিজ্ঞাপনের সঙ্গেই আমি জড়িত ছিলাম। এখনো প্রতিদিন মনে হয় দারুণ একটা ব্র্যান্ড তৈরি করব, যেটা মানুষের মাথায় গেঁথে থাকবে অনেক দিন।

সাড়া ফেলল কি?

কোনো বিজ্ঞাপন বিক্রি বাড়ানোর জন্য বানানো হয়, আবার কোনোটি একটি ভাবমূর্তি তৈরির জন্য। প্রতিক্রিয়াও একেক বিজ্ঞাপন থেকে একেক রকম আশা করা হয়।

টিভির পাশাপাশি আজকাল অনলাইনেও বিজ্ঞাপন প্রচার হচ্ছে। তাই ইউটিউব, ফেসবুক ভিউ, কমেন্ট, লাইক, শেয়ার থেকে অনেক দ্রুত দর্শকদের প্রতিক্রিয়া জানা যায়। আবার পণ্যের বিক্রি থেকেও বোঝা যায় বিজ্ঞাপনটি কাজ করছে কি না। তবে ঠিকঠাক বুঝতে হলে সময় নিয়ে গবেষণা করতে হয়।

মন্তব্য