ফারুকীর তেলেসমাতি-334476 | বিজ্ঞাপন বিরতি | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০১৬। ১৬ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৮ জিলহজ ১৪৩৭


পেছনের গল্প

ফারুকীর তেলেসমাতি

টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে প্রচারিত হচ্ছে তীর সরিষার তেলের নতুন একটি বিজ্ঞাপন। বিজ্ঞাপনটির আইডিয়া ও পরিচালনা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর। এর পেছনের কাহিনী তুলে ধরেছেন আতিফ আতাউর

১১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ফারুকীর তেলেসমাতি

একটি গরুর সব মাংস কিনে নিয়ে ভালো একটি কসাইয়ের দোকানের রূপ দেওয়া হয়। এরপর কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে শুটিং। স্ক্রিপ্টে থাকা দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ শেষে মাংসগুলো সেখানকার গরিব ও দুস্থদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া হয়

কলমে নাই কালি

বিজ্ঞাপনের প্রথম দৃশ্যেই দেখা যায় একজন প্রকৌশলী কলম হাতে মন খারাপ করে শুয়ে আছেন। কারণ তাঁর কলমে কালি নেই। পাশেই শূন্য দোয়াত। মজার ব্যাপার, এ দৃশ্যে প্রকৌশলীর চরিত্রে কোনো পেশাদার মডেল অভিনয় করেননি। একটি নির্মাণ সাইটে গিয়ে সেখানকার দায়িত্বরত প্রকৌশলীকে দিয়েই দৃশ্যটি তৈরি করেছেন নির্মাতা ফারুকী। এ যুগে দোয়াত-কলম কোথায় পেলেন? বিজ্ঞাপনটির প্রোডাকশন হাউস ছবিয়ালের এক্সিকিউটিভ প্রডিউসার মাসুদ পারভেজ জানান, নিউ মার্কেটেই দোয়াত-কলম পেয়েছিলেন। সেই দোয়াতের কালি ফেলে দিয়ে দৃশ্যটি শুট করেন।

কোলেস্টেরল ফ্রি মাংস

কসাইয়ের দোকানে এই দৃশ্যটি শুট করার সময় দোকানে পর্যাপ্ত মাংস ছিল না। আগে থেকে দোকানদারকে বলে রাখা হলেও শুটিংয়ের দিন খুব কম মাংসই ঝোলানো ছিল কসাইয়ের দোকানে। কিন্তু ফারুকী দোকানে বেশি মাংস চান, যাতে দৃশ্যটিতে মাংসের ভালো বাজার উঠে আসে। শেষে পাশের বাজার থেকে একটি গরুর সব মাংস কিনে এনে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় কসাইয়ের দোকানে। মডেল হিসেবে সেই দোকানের কসাইকে দিয়েই দৃশ্যটি নেন ফারুকী। পুরো বিজ্ঞাপনটিতে একটি ডকুমেন্টারির আবহ তুলে ধরতে চেয়েছেন তিনি, যে জন্য দোকানের কসাই, নির্মাণ সাইটের ইঞ্জিনিয়ারসহ বিজ্ঞাপনের বেশ কয়েকটি দৃশ্যে লোকেশনে পাওয়া চরিত্রকে কাজে লাগিয়েছেন।

শুটিং শেষ, মাংস বিলানো

একটি গরুর সব মাংস কিনে নিয়ে ভালো একটি কসাইয়ের দোকানের রূপ দেওয়া হয়। এরপর কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে শুটিং। স্ক্রিপ্টে থাকা দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ শেষে মাংসগুলো সেখানকার গরিব ও দুস্থদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া হয় বলে জানান মাসুদ পারভেজ।

কাঁটা ছাড়া ইলিশ

ইলিশ মাছ, তাও আবার কাঁটা ছাড়া? এই দৃশ্যটির শুটিংয়ের জন্য দুই ডজন ইলিশ কিনে নিয়ে যাওয়া হয় চট্টগ্রামে। সেখানে জাহাজঘাটে ইলিশের দৃশ্যগুলোতে মডেল হিসেবে অংশ নেন সেখানকার জেলেরা। দুই হাতে যে ব্যক্তি ইলিশ উঁচিয়ে ধরেন, তিনিও পেশায় একজন জেলে।

সুগার ফ্রি আখের রস

দৃশ্যটির শুটিং করার জন্য আগে থেকেই একজন আখের রস বিক্রেতাকে ঠিক করে রাখে প্রোডাকশন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পর্যাপ্ত আখ ও তার মেশিন নিয়ে শুটিংস্পটে হাজির থাকবে সে। এই চুক্তি করা হয় পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে।

ঝাঁজ ছাড়া সরিষার তেল

বিজ্ঞাপনটির এই দৃশ্যটির শুট করা হয়েছে পুরান ঢাকার একটি দোকানে। সেখানে একটি সুপার শপে ‘ঝাঁজ ছাড়া আবার সরিষার তেল হয় নাকি’ সংলাপে প্রথমবারের মতো মডেল হিসেবে অংশ নিয়েছেন রাইসা রায়হান।

কারখানার সামনের সরিষা ক্ষেত

সিটি গ্রুপের বিশাল কারখানার সামনে হলুদ ফুলে ভরা যে সরিষা ক্ষেতটি দেখা যায় সেটি সিটি গ্রুপের নিজস্ব সরিষা ক্ষেত। বিজ্ঞাপনটির শুটিংয়ের সময় ছিল শীতকাল। কারখানার সামনে হলুদ ফুলে ভরা সরিষা ক্ষেত। তাও আবার কম্পানির নিজস্ব। তাই দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দি করতে আর কালক্ষেপণ করেননি নির্মাতা ফারুকী।

বাদ পড়েছে যে দৃশ্য

নল ছাড়া চায়ের কেটলির একটি দৃশ্য ছিল বিজ্ঞাপনের স্ক্রিপ্টে। শুট করার জন্য চট্টগ্রামের রেলস্টেশনে অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন মেহেদী। তিন দিন বিভিন্ন কার্যালয়ে ঘুরে বেড়ান। অনেক চেষ্টার পর স্টেশন মাস্টারের দেখা পান। তিনি স্টেশনে শুটিংয়ের অনুমতির জন্য ঢাকায় যোগাযোগ করতে বলেন। ততক্ষণে শুটিংয়ের সময় প্রায় শেষদিকে। শেষ পর্যন্ত নির্মাতা ফারুকী বিজ্ঞাপন থেকে বাদই দিয়ে দেন দৃশ্যটি। 

কম্পানির কথা

বিজ্ঞাপনটিতে তীর সরিষা তেলের কারখানায় ঘানিতে সরিষা ভাঙানোর দৃশ্যটিতে ভেসে ওঠে তেঁতুল কাঠের ঘানি। কারখানায় তেঁতুল কাঠের ঘানি দিয়ে খাঁটি সরিষার তেল উৎপাদন করা হয় বলে জানান তীর সরিষা তেলের ডেপুটি ব্র্যান্ড ম্যানেজার রুবাইয়াত আহমেদ। তিনি বলেন, তেঁতুল কাঠ থেকে কোনো রকম নির্যাস বের হয় না। তাই তেঁতুল কাঠের ঘানি দিয়ে সরিষা ভাঙালে সেই কাঠ থেকে কোনো নির্যাস বেরিয়ে তেলের সঙ্গে মিশতে পারে না। আদিকাল থেকে তেঁতুল কাঠের ঘানির যে চল চলে এসেছে সেটাই ধরে রেখেছি। পুরান ঢাকার গেণ্ডারিয়ায় আমাদের কারখানায় এখনো আদি ঘানিতে ভাঙানো সরিষার তেল কেনার জন্য মানুষ লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে যায়।

নেপথ্যে আরো যাঁরা

বিজ্ঞাপনটির ক্লায়েন্ট সিটি গ্রুপ, প্রোডাকশন হাউস ছবিয়াল। ডিরেক্টর অব সিনেমাটোগ্রাফার শেখ রাজিবুল ইসলাম। মিউজিক করেছেন শায়ান চৌধুরী অর্ণব। শব্দগ্রহণ করেছেন রিপন নাথ।  

মন্তব্য