kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এই তারিন বাংলালিংকের

লাক্সতারকা তারিন। টেলিভিশনে মহাব্যস্ত। কিন্তু তারকা হয়েছেন বিজ্ঞাপন করে। সেটা ছিল বাংলালিংকের। করেছেন আরো কিছু বিজ্ঞাপন। মাসিদ রণর সঙ্গে আলাপচারিতায় শুনিয়েছেন তাঁর গল্পগুলো। ছবি তুলেছেন শামছুল হক রিপন

১১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



এই তারিন বাংলালিংকের

ছোটবেলায় নাচ শিখেছেন। মডেলিং বা অভিনয়ের স্বপ্ন দেখেননি একটুও।

২০১১ সালে কী মনে করে নাম লেখান লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায়। কোনো প্রস্তুতিও ছিল না। তবু একের পর এক রাউন্ড পার করে টপ সেভেনে চলে এলেন। ধুম করে বেড়ে গেল আত্মবিশ্বাস। ভাবলেন, কিছু করলে মডেলিংয়েই করবেন।

‘ভাবনাটা যখন মাথায় চড়ে বসল, ঠিক তার পরের রাউন্ডেই বাদ পড়লাম!’

-তারপর!

‘বেস্ট স্কিন খেতাব নিয়েই আমাকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়। সেরা তিনে না আসতে পেরে মনটা খুব খারাপ ছিল অনেক দিন। কিন্তু লেগেছিলাম। এখন কাজের প্রস্তাব পেয়েই যাচ্ছি। ’ বললেন তারিন রহমান।

ঘটনা সত্য। তারিনের সঙ্গে যারা ফার্স্ট-সেকেন্ড হয়েছিলেন, তাঁদের চেয়ে কোনো দিকে কম যান না তারিন; বরং কাজের ক্ষেত্র অনেকের চেয়ে বেশিই তাঁর।

লাক্সতারকা হলেও নিজেকে অভিনয়শিল্পী ভাবতেই স্বাচ্ছন্দ্য তারিনের। তাই লাক্স থেকে বেরিয়েই শুরু করেন নাটকের কাজ। চ্যানেল আইয়ে প্রচারিত একটি দীর্ঘ ধারাবাহিকের মূল চরিত্রে অভিনয় করে ঝটপট কুড়িয়ে নেন প্রশংসা। এর পরই বাংলালিংক কর্তৃপক্ষ এক বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ করে তারিনকে। এই সময়ে ফটোশুট ও ক্যাম্পেইনের পাশাপাশি তিনটি বিজ্ঞাপনের মডেল হন তারিন। পেশাদার মডেল হিসেবে যাত্রা শুরু তখন থেকেই।

‘প্রথম টিভি বিজ্ঞাপনটা ছিল বাংলালিংকের বন্ধ সংযোগ চালু করা নিয়ে। নির্দেশনা দিয়েছিলেন আশফাক বিপুল। গল্পটা খুব মজার। বড়লোকের এক ঢঙ্গি মেয়ে আমি। ছেলেদের নাকানি-চুবানি খাওয়াই। বলতে গেলে এটাই আমার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর অভিনয়ের প্রস্তাব আসতে থাকে। সবই গ্ল্যামারাস চরিত্র। এর আগে পাতালপুরীর রাজকন্যা ধারাবাহিকে আমি ছিলাম সাদামাটা। তাই শুরুতে গ্ল্যামার-সমৃদ্ধ চরিত্রে হুট করে আমাকে কল্পনা করতে পারেনি কেউ। ওই টিভি বিজ্ঞাপন করার পরই সবাই নতুন করে ভাবতে শুরু করে। ’ সরল স্বীকারোক্তি তারিনের।

বাংলালিংকের বন্ধ সংযোগ চালু করার বিজ্ঞাপনটি টিভিতে প্রচার হয় ২০১৪ সালের মাঝামাঝিতে। গল্পটা এমন—গাড়ি নষ্ট হওয়ায় লিফটের জন্য দাঁড়িয়ে থাকে এক অতি আধুনিক মেয়ে। একটি গাড়ি এসে দাঁড়ায় তার সামনে। ভেতরে তিন যুবক। এক যুবক জানতে চায়, লিফট লাগবে কি না। মেয়েটি কৃতজ্ঞ তো হয়ই না, উল্টো গাড়ির খুঁত ধরতে শুরু করে। গাড়ির মডেল সুন্দর না, গাড়িতে গন্ধ, জায়গা কম ইত্যাদি ইত্যাদি। আর তখন সে বাসায় পৌঁছানোর শেষ সুযোগটিও হারায়। তার বাংলালিংক সংযোগটা যদি চালু থাকত তাহলে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হতো না। তারিনের ন্যাকামিটাই ছিল ওই বিজ্ঞাপনের প্রাণ।

 

বন্ধ সংযোগ চালু হওয়ায় আরেকটি বিজ্ঞাপনে কাজ করেন তারিন। নির্দেশনা দিয়েছিলেন আদনান আল রাজীব। এতে তারিনের সঙ্গে ছিলেন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। সাকিবের সঙ্গে দেখা করা ছিল এই টিভি বিজ্ঞাপনের গল্প। এর বাইরে তারিন বাংলালিংকের সঙ্গে অ্যাপেক্সের অফার নিয়ে আরেকটি বিজ্ঞাপনের কাজ করেন। তিনটি বিজ্ঞাপনই তারিনের পথচলাকে করেছে মসৃণ, দিয়েছে দর্শকপ্রিয়তা।

তারিন বলেন, ‘শুটিং করতে  গ্রামে বা মফস্বলে গেলে দর্শক আমাকে বাংলালিংকের বন্ধ সংযোগ চালুর ন্যাকা মেয়েটির কথা বলেন। অনেকে আমাকে রান্না করে খাইয়েছেও। ঢাকার শপিংমলে গেলে তরুণ প্রজন্মের অনেক দর্শক আমার বিজ্ঞাপনগুলোর কথা জানতে চায়। বুঝতে পারি, আমি একটু হলেও দর্শকের কাছাকাছি যেতে পেরেছি। তাই অভিনয়টা পছন্দ করলেও নিয়মিত বিজ্ঞাপনে কাজ করতে চাই। কারণ একটি টিভি বিজ্ঞাপনে যে প্রচার হয়, ১০টি নাটকেও তা সম্ভব নয়। ’

এসব গেল সুখস্মৃতি। সম্প্রতি নাফিস রেজার নির্দেশনায় প্রাণ ফ্রুটফিল বিস্কুটের বিজ্ঞাপনের মডেল হয়েছেন। সহশিল্পী ছিলেন জনপ্রিয় মডেল-অভিনেতা সিয়াম। এটা শেষ করেই উচ্চ শিক্ষার জন্য দেশের বাইরে গেছেন। বিজ্ঞাপনটির শুটিং হয়েছিল কোক স্টুডিওতে। কাজটি করতে গিয়ে অল্পের জন্য বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন তারিন রহমান। তিনি বললেন, ‘শুটিং প্রায় শেষের দিকে। বেশকিছুটা ওপরে শক্ত আর ভারী বোর্ডে ফ্রুটফিল বিস্কুট লেখা একটি ব্যানার ছিল। হঠাৎ সেটা নিচে পড়ে যায়। যেখানে পড়ল আমি ঠিক সেই জায়গাতেই ছিলাম। ব্যানারটি পড়ার সময় ইউনিটের লোকজন তা দেখে ফেলে। তারাই আমাকে দ্রুত সরিয়ে নেয়। এই বিপত্তি কাটতে না-কাটতেই দেখা গেল ওপরে যেখানে লাইট লাগানো, সেখানে আগুন ধরে গেছে। সত্যিই ভীষণ ভয় পেয়েছিলাম সেদিন। ’

তারিনের জনপ্রিয় কয়েকটি বিজ্ঞাপন হলো মেরিল পেট্রোলিয়াম জেলি, হট পিকেল আচার, নাভানা রিয়েল এস্টেট।

 

 

 


মন্তব্য