kalerkantho


উল্টো পথ : ড্রাইভারের ভুলে মালিকের দণ্ড

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ এপ্রিল, ২০১৭ ১১:০৯



উল্টো পথ : ড্রাইভারের ভুলে মালিকের দণ্ড

ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করে উল্টো পথে চলাচল, সিগনাল অমান্য ও যত্রতত্রভাবে পার্কিং করা থেকে গাড়ি মালিকদের বিরত রাখতে ভিডিও কেস বা সচিত্র মামলা চালু করেছে ট্রাফিক বিভাগ। আইন ভঙ্গ করে উল্টো পথে গাড়ি চালানো রোধে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের নতুন সংযোজন পদ্ধতি, যার নাম দেয়া হয়েছে ভিডিও কেস বা সচিত্র মামলা।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের তথ্যানুযায়ী, পরীক্ষামূলকভাবে ২০১৬ সালের প্রথম দিকে ট্রাফিকের পশ্চিম ও উত্তরা জোনে এ সেবা চালু করা হয়। ওই বছর ৬ হাজার ৭৪৯টি গাড়ির মালিককে জরিমানা করা হয়। এর পর চলতি বছরের শুরুতেই ট্রাফিকের দক্ষিণ ও পূর্ব জোনে এ সেবা চালুর মধ্য দিয়ে পূর্ণাঙ্গভাবে ভিডিও কেস কার্যক্রম শুরু করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ।

জানা গেছে, এ সেবার আওতায় প্রতিটি ট্রাফিক জোনে একটি করে টিম রয়েছে। টিমে একজন অফিসার এবং তার সহযোগী হিসেবে রয়েছে আরো ছয়জন ট্রাফিক সদস্য। রুটিন করে ভিডিও টিমগুলো একেক দিন একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থান করে। এসব টিম উল্টো পথে চলাচল, সিগনাল অমান্য এবং যত্রতত্র পার্ক করে রাখা গাড়ির ভিডিও চিত্র ধারণ করে। পরে ওই ভিডিও চিত্র থেকে গাড়ির নম্বর সংগ্রহ করে পাঠানো হয় বিআরটিএতে। সেখান থেকে গাড়ির মালিকের ঠিকানা সংগ্রহ করা হয়।

পরে গাড়ির মালিকের বাসায় একটি নোটিস পাঠিয়ে তাকে এক সপ্তাহের মধ্যে ট্রাফিকের সংশ্লিষ্ট উপকমিশনারের (ডিসি) কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়।

ট্রাফিকের পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণ জোনে কথা বলে জানা যায়, নতুন এ সেবার কারণে এসব এলাকায়ও সড়কে চালকদের আইন ভঙ্গ করার প্রবণতা অনেকটা কমে এসেছে। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের তথ্যানুযায়ী, ট্রাফিক আইন ভাঙা রোধে উন্নত দেশগুলোয় সড়কের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা লাগিয়ে আইন ভঙ্গ করা গাড়ির ভিডিও চিত্র ধারণ করা হয়। পরে ওইসব গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। আমরাও সে ফর্মুলাতে কাজ করছি। কিন্তু কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে প্রাথমিকভাবে ম্যানুয়ালি ভিডিও চিত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে আমরাও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা স্থাপনের চেষ্টা করব।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে মামলার সংখ্যা, জরিমানার পরিমাণ ও রেকারিংয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। রাস্তা সচল রাখা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ ২০১৬ সালে ১ লাখ ৭০ হাজার ৮২৩টি গাড়ি রেকারিং করে। একই সময়ে ১০ লাখ ৫১ হাজার ৩৯৫টি গাড়ি মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে জরিমানা আদায় করা হয়েছে ৩৭ কোটি ১০ লাখ ২০ হাজার ২২৬ টাকা। ২০১৫ সালে এ সংখ্যা ছিল অর্ধেকেরও কম। ওই বছর ৫ লাখ ৬ হাজার ৬৬৩টি গাড়ি মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৯৫ হাজার ৯৫০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছিল।

 


মন্তব্য