kalerkantho

ইন্টেরিয়র

জীবাণুুুর যন্ত্রণায়

নিজের ঘরটাকেই সবচেয়ে নিরাপদ ভাবি আমরা। সেই ঘরেই যদি বাসা বাঁধে রোগজীবাণুুু তাহলে তো বিপত্তি। ঘরের লুকানো জীবাণুুদের হাত থেকে বাঁচতে রইল কয়েকটি পরামর্শ। জানোচ্ছেন নাঈম সিনহা

১৮ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জীবাণুুুর যন্ত্রণায়

পর্যাপ্ত আলো

ঘরে পর্যাপ্ত পরিমাণে আলো-বাতাস প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ঘর স্যাঁতসেঁতে হলে সেখানে জীবাণুুরা সহজেই বাসা বাঁধে। প্রতিটি ঘরে সূর্যের আলো পৌঁছানোর বিষয়টি মাথায় রাখুন। সেভাবে ঘর ও আসবাবের বিন্যাস করুন। সূর্যের আলো জীবাণুু বিস্তারে বাধা সৃষ্টি করে।

 

পর্দা ও ফ্যান

অবহেলায় ঘরের পর্দা আর ফ্যানে ঝুল জমতে দেবেন না। এসব জায়গায় জমে থাকা ময়লার জীবাণুু সম্পর্কে খালি চোখে ধারণা করা সম্ভব নয়। প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার জানালার পর্দা ও ফ্যানের ব্লেড পরিষ্কার করুন। ভেজা ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ ফাঙ্গাস, ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের আস্তানা। তাই গ্রীষ্ম ও বর্ষায় নিতে হবে বিশেষ ব্যবস্থা। প্রতিবার ঘর মোছার পর ফ্যান ছেড়ে ঘর শুকিয়ে নিন। সম্ভব হলে জানালা খুলে দিন। এতে রোদ-বাতাস দুটিই ঘরে ঢুকবে।

অপ্রয়োজনীয় জিনিস অপসারণ

ঘর অগোছালো করে অপ্রয়োজনীয় জিনিস রাখবেন না। বেশি আঁটসাঁট স্থানে জীবাণুু লুকিয়ে থাকে, দ্রুত বংশ বিস্তার করে। তাই ঘর গুছিয়ে রাখুন। আধোয়া পোশাক এদিক-সেদিক ফেলে রাখবেন না। ঘরে এমনভাবে আসবাব রাখুন, যা সহজে সরিয়ে পরিষ্কার করা যায়।

 

নিয়মিত ডাস্টবিন পরিষ্কার

ঘরের ডাস্টবিনে ময়লা ফেললেই জীবাণুুু থেকে নিস্তার নেই। আরো কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। যেমন—ডাস্টবিনটি ঘরের এক কোণে রাখুন। অপরিষ্কার ডাস্টবিন দীর্ঘ সময় ব্যবহারে ঘরে জীবাণুুু ছড়ায়। ঘরে গন্ধ ছড়িয়ে আশপাশের পরিবেশও নষ্ট করে। তাই প্রতিবার ব্যবহারে আগে ডাস্টবিনটি পরিষ্কার করে নিন। আর যদি পরিষ্কারের পরও গন্ধ থাকে, তাহলে বুঝতে হবে ঘরে নতুন ডাস্টবিন আনার সময় হয়েছে।

 

প্রতিদিনের কাপড় ধোয়া

ঘরের বাইরের হাজারো জীবাণু ঘরে আসে গায়ের পোশাকের সঙ্গে। তাই বাড়ি ফেরার পর প্রথম কাজ ময়লা কাপড় ধোয়া। ময়লা কাপড় জমিয়ে জীবাণুুুর পাহাড় বানাবেন না। আর ওয়াশিং মেশিনে কাপড় ধুলে খেয়াল রাখুন, মেশিনটা পরিষ্কার তো!

 

বিছানা

জীবনের তিন ভাগের এক ভাগ সময় কাটে বিছানায়। শরীরের ঘামের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান মেশে বিছানায়। এসব জীবাণু সেখানে বাসা বাঁধতে পারে। আবার আমাদের মৃত চামড়া বিছানায় পড়েও জন্ম হয় জীবাণুুুর। তাই বিছানাটা পরিষ্কার রাখতে সপ্তাহে অন্তত এক দিন রোদে দিন।

 

রান্নাঘর

রান্নাঘরের কিচেন সিংক, ড্রেইন, বিভিন্ন ক্যাবিনেটের কোনায়, পাপোশ-ম্যাট, স্পঞ্জ ও স্ক্রাবারে জমে জীবাণুুু। সেগুলোর মূলোত্পাটনে সজাগ থাকুন। হেলথ ম্যাগাজিনের তথ্য অনুসারে রান্নাঘরের ড্রেনে প্রতি স্কয়ার ইঞ্চি জায়গায় ৫০ হাজার ব্যাক্টেরিয়া থাকে। সেখানে ই-কোলাইয়ের মতো জীবাণুুু থাকে, যা মূত্রনালির সংক্রমণ ঘটায়। তাই প্রতিদিন কাজ শেষে রান্নাঘরের সিংক ও ড্রেন ব্লিচিং পাউডার দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। থালা-বাসন মাজার স্পঞ্জ বা স্ক্রাবার ব্যবহারের পর গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিন, অন্যথায় সেখান থেকেই হতে পারে সমস্যার শুরু।

 

চপিং বোর্ড

কাঁচা মাংসে থাকে মারাত্মক ব্যাকটেরিয়া। মাংস রান্নার পর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হলেও রয়ে যেতে পারে চপিং বোর্ডে। তাই সবজি ও মাংস কাটার জন্য আলাদা চপিং বোর্ড ব্যবহার করা ভালো।

 

বাথরুম পরিষ্কার

প্রতিবার গোসলের পরই অনেক ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও জীবাণুুু আপনার শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। আপনি ভাববেন না যে পানির সঙ্গে ভেসে সব জীবাণুুু স্যুয়ারেজে চলে গেছে। কিছু জীবাণুুু জমে থামে ভেজা ফ্লোর কিংবা ম্যাট্রেক্সে। তাই বাথরুমের মেঝে কিছুটা ঢালু হলে ভালো। এতে মেঝে দ্রুত শুকিয়ে যাবে। সপ্তাহে এক দিন পুরো বাথরুম পরিষ্কার করুন। ব্যবহারের পর হাই কমোডের ডাকনা লাগিয়ে রাখুন।

টুথ ব্রাশ

আপনার নিয়মিত ব্যবহারের টুথব্রাশটা জীবণুমুক্ত তো! প্রতিবার ব্যবহারে পর হালকা গরম পানিতে ব্রাশটি ঘুয়ে নিন। এরপর শুকনো স্থানে রেখে দিন। কখনো ভেজা জায়গায় ব্রাশ রাখবেন না। বেড়াতে গেলে ভেজা ব্রাশ ট্রাভেল ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখবেন না। এতে ব্রাশে ব্যাকটেরিয়া জমবে।

সূত্র : ঘর পিডিয়া

মন্তব্য