kalerkantho

সুতির ফুলেল শার্ট

গরমে আরাম দিতে ছেলেদের জন্য সুতি কাপড়ে ফ্লোরাল মোটিফের ফুল ও হাফস্লিভ শার্ট এনেছে ফ্যাশন হাউসগুলো। ফ্লোরাল মোটিফ তরুণদের পছন্দেরও বটে! ডিজাইনারদের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন আতিফ আতাউর

১১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সুতির ফুলেল শার্ট

মডেল ♦ এ কে আজাদ, পোশাক ♦ জেন্টল পার্ক, ছবি ♦ আবু সুফিয়ান নিলাভ

শীত পোশাকের দিন ফুরোলো। গরমের প্রস্তুতি হিসেবে ফ্যাশন হাউসগুলো সেজেছে নতুন পোশাকে। একসময় গরমে আরামের পোশাক বলতে ছিল শুধু সুতি কাপড়ের একঘেয়ে সাদা শার্ট। সেই চল একেবারে কমে যায়নি। এখন প্রকৃতির রং লেগেছে পোশাকে। প্রকৃতিকে প্রাধান্য দিয়েই গরমে পরার জন্য সুতি কাপড়ের ফ্লোরাল মোটিফের ফুল ও হাফহাতা শার্ট এনেছে ফ্যাশন হাউসগুলো। এসব শার্টে দেশীয় ও পাশ্চাত্যের সমন্বয়ে ফিউশন নকশা নিয়ে কাজ করা হয়েছে। নকশার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে প্রিন্ট বেইসড টাই-ডাই, ব্লক প্রিন্ট ও হাতের কাজ। রঙের ক্ষেত্রে আকাশি, হলুদ, অফহোয়াইট, সাদা রং প্রাধান্য পেয়েছে, মোটিফে প্যাটার্ননির্ভর নকশা। গরমের শার্টের জমিনে মোটিফ নিয়ে কাজ বেশি হয়। প্রিন্টের ডিজাইনের ক্ষেত্রে কম্পোজিশনের বিষয়টি মাথায় রেখে কাজ করেছেন ডিজাইনাররা। ফ্যাশন হাউস জেন্টল পার্কের চেয়ারম্যান ও চিফ ডিজাইনার শাহাদত্ চৌধুরী বাবু বলেন, ‘কয়েক বছর ধরেই গ্রীষ্মের কালেকশনে বিশ্বব্যাপী ফ্লোরাল প্রিন্টের খুব কদর। ফ্যাশনপ্রেমীরা এই প্রিন্টের প্রতি ঝুঁকছেন বেশি। চাহিদা ও ফ্যাশনের কথা চিন্তা করেই ফ্লোরাল প্রিন্টের শার্টের নতুন ডিজাইন ও কালেকশন নিয়ে হাজির জেন্টল পার্কও। এবার সাদা, অফহোয়াইট, খয়েরি, আকাশিসহ বেশ কয়েকটি রঙের কম্বিনেশন করেছি ফ্লোরাল প্রিন্টের শার্টে। ফ্লোরাল প্রিন্টের শার্টের মোটিফে বিভিন্ন ধরনের ফুল, পাতার নকশা বেছে নেওয়া হয়। আশপাশের পরিচিত ফুল থেকেই এবার ফ্লোরাল ক্যানভাস তৈরি করা হয়েছে শার্টে।’

ক্যাজুয়াল ও ফরমাল—দুই ধরনের শার্টই পাওয়া যাচ্ছে ফ্লোরাল প্রিন্টের মধ্যে। তরুণদের অফিস, পার্টি কিংবা আড্ডার কথা মাথায় রেখেই এমন ডিজাইনের কথা বললেন শাহাদত্ চৌধুরী বাবু, ‘ফরমাল শার্টের ক্ষেত্রে একসময় স্ট্রাইপড বা চেক প্রিন্টের শার্টের প্রাধান্য ছিল বাংলাদেশে। পাশাপাশি এক রঙের শার্টও খুব জনপ্রিয় ছিল ফরমাল লুকের জন্য। এই জায়গা থেকে এখন তরুণরা সরে আসছে। তার কারণও কিন্তু ফ্লোরাল প্রিন্টের বিশ্বব্যাপী কদর। আমাদের দেশের মানুষ এখন ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করে। তার জন্যও আরাম দেবে এসব শার্ট। সঙ্গে পোশাকে কালারফুল লুক আনতেও গরমের শার্টে ফ্লোরাল প্রিন্টের এমন সংযোজন।’

শার্ট থেকে ইদানীং পকেট বিলুপ্তির পথে। সেই ধারা দেখা গেল এবারও। মার্কেটে আসা এবারকার বেশির ভাগ গরমের শার্টে পকেট বাদ পড়েছে। ক্যাজুয়াল শার্টে ফিটিংস আনার জন্যই এমনটা করা হয় বলে জানালেন বিক্রয়কর্মীরা। ফ্লোরাল সুতি শার্টে নেক লাইন, প্যালেট ও কলারে ভেরিয়েশন আনা হয়েছে।

এবার শার্টের কাপড়ে কটন, সেমি কটন ও রেমি কটন ব্যবহার করা হয়েছে। এসব কটন কাপড় সুতির মতোই বলে জানালেন ইজি ব্র্যান্ডের ডিরেক্টর

তৌহিদ চৌধুরী। ‘এবার গরমে পরার জন্য শার্টের কাপড়ে টিস্যু কটন, সার্টন কটন এবং রিমি কটনকে প্রাধান্য দিয়েছি। কালারফুল ভাব আনতে রঙের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে ডিজাইনে। আছে এক রঙা শার্টও। ফলে যেকোনো রুচির ক্রেতাই তাঁর পছন্দমতো আরামের শার্ট বেছে নিতে পারবেন আমাদের আউটলেট থেকে।’ জানালেন তৌহিদ।

ফর্মালে ফ্লোরাল

এসব শার্টে ব্যবহূত সুতার বেশির ভাগই এসেছে বিদেশ থেকে। তবে শার্ট বোনা হয় দেশেই। ফ্লোরাল প্রিন্টের শার্টগুলোতে ডিজিটাল প্রিন্টে কাজ করা হয়েছে এবারও। এর সুবিধা হচ্ছে, ডিজিটাল প্রিন্ট কাপড়ের জমিনের সঙ্গে সুন্দরভাবে মিশে যায় বলে বেশ মোলায়েম হয়। কাপড়ে শক্ত ভাব থাকে না।

প্রায় সব ফ্যাশন হাউসের ক্ষেত্রেই ক্যাজুয়াল শার্টের ক্ষেত্রে স্লিম ফিটকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তরুণরা স্লিম ফিট শার্টে বেশি স্বচ্ছন্দ বলেই এমনটা করা হয়েছে বলে জানালেন ইজির ডিরেক্টর তৌহিদ চৌধুরী।

কিছু ব্র্যান্ড কাজ করেছে দেশি মোটিফ নিয়ে। এসব শার্ট করা হয়েছে ভেজিটেবল ডাই, টাই অ্যান্ড ডাই, স্ক্রিনপ্রিন্ট ও ব্লকপ্রিন্ট দিয়ে। আকাশি, হালকা হলুদ, নীল-সবুজের হালকা শেড ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে গ্রীষ্মের পোশাকে রং ভালোভাবে ফুটে ওঠে। গরমে যাতে চোখে আরাম লাগে—এমনটা মাথায় রেখেই শার্টের রং নির্বাচন করা হয়েছে বলে জানালেন ডিজাইনাররা।

ফুলস্লিভ শার্ট : ইজি

 

মন্তব্য