kalerkantho


পরনে পাহাড়ি

পাহাড়ি পোশাকের কদর সমতলেও কম না। ফ্যাশনে বহু আগে থেকেই পাহাড়ি মোটিফের ব্যবহার হয়ে আসছে নানাভাবে। ডিজাইনারদের সঙ্গে কথা বলে লিখছেন নাঈম সিনহা

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



পরনে পাহাড়ি

মডেল : আনিকা পোশাক : অতন্দ্রিলা সাজ : পারসোনা স্থান : জম্ফা রেস্টুরেন্ট, পূর্বাচল ছবি : কাকলী প্রধান

 

 

পাহাড়ি পোশাক সমতলে এসে পেয়েছে নিজস্ব আলাদা সত্তা। রঙ বাংলাদেশের স্বত্বাধিকারী সৌমিক দাশ বলেন, ‘থামি হয়তো সমতলের বাঙালিরা একইভাবে পরতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে না। কিন্তু তারা শাড়ি ভালোবাসে। তাই থামির কাপড়কে আমরা ব্যবহার করেছি শাড়িতে। মারমা থামিটাই শাড়িতে বেশি জনপ্রিয়। শাড়ি ছাড়া অন্যান্য পোশাকেও ব্যবহার হচ্ছে থামির কাপড়।

সাধারণত এসব কাপড় কোমড় তাঁতে বোনা থাকে। ডিজাইন ও রঙে থাকে ঐতিহ্যের ছোঁয়া। সেসব থামি বা পাহাড়ি ফ্যাব্রিকস দিয়ে ডিজাইনাররা বহু আগে থেকেই ফিউশন ডিজাইন করছেন। আর এখন তো ফিউশন শুধু সমতলেই নয়, পাহাড়িরাও গ্রহণ করছে। পাহাড়িরাও তাদের তাঁতে বোনা কাপড় দিয়ে এখন শার্ট, ফতুয়া বানিয়ে পরছে। এখনকার ডিজাইনের আদিবাসী পোশাকের ঐতিহ্যবাহী নকশার সূক্ষ্মতা কমে যাচ্ছে। সেই  কোমর তাঁতের সুতায় হয়তো স্বল্পমূল্যে পোশাক তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আধুনিক ধাঁচে আমরা সেগুলো ফিরিয়ে আনতে পারি। কিংবা বুননের যে ডিজাইন সেটি মোটিফের মাধ্যমেও আধুনিক পোশাকে উঠে আসতে পারে। এতে হারিয়ে যাওয়া নকশার অনেক ঐতিহ্য বাঁচানো সম্ভব হবে।’

পোশাক : রেগা

শাড়ি

দেশি ফ্যাশন হাউসগুলোও এখন তাদের শাড়ির ডিজাইনের ব্যবহার করছে আদিবাসী ও পাহাড়ি নকশা ও মোটিফ। কখনো আবার আদিবাসী তাঁতেই বৈচিত্র্যময় নকশা দিয়ে শাড়ি বোনা হচ্ছে। মণিপুরি শাড়ি অনেক দিন থেকেই ফ্যাশনে বেশ ট্রেন্ডি। সঙ্গে আছে থামির শাড়িও। আদিবাসী পোশাক থামির নকশা ব্যবহার হচ্ছে সাধারণ তাঁতের শাড়িতেও। কুঁচিতে থাকছে থামির নিচের অংশের ডিজাইন ও নকশা। আর আঁচলে ব্যবহার হচ্ছে থামির ওড়নার অংশের মোটিফ। বিবিআনার ফ্যাশন ডিজাইনার লিপি খন্দকার বলেন, ‘গোষ্ঠীভেদে আদিবাসী পোশাকের ডিজাইন ও নকশায় কিছু ভিন্নতা রয়েছে। গারো, চাকমা, মারমা, রাখাইন, খাসিয়া প্রতিটি আদিবাসী গোষ্ঠীই থামি ব্যবহার করে। তবে ভিন্নতা থাকে নকশায়। এসব ভিন্ন ভিন্ন নকশা আমরা বিভিন্ন সময়ে শাড়ি ও অন্যান্য পোশাকে তুলে আনার চেষ্টা করেছি।’

কামিজ, কুর্তা আর টপস

আদিবাসী তাঁতে বোনা থামি দিয়েই এখন মেয়েরা সালোয়ার-কামিজ বানিয়ে নিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ব্লাউজের অংশটুকু বড় হয়ে কামিজ, নিচের অংশ দিয়ে সালোয়ার। সঙ্গে ওড়না তো থাকছেই। আর থামির সঙ্গে থাকা ওড়না কিংবা মণিপুরি বাহারি রঙের ওড়না দেশি-বিদেশি যেকোনো পোশাকের সঙ্গেই অনায়াসে মানিয়ে যায়। সালোয়ার-কামিজের পাশাপাশি ফতুয়া, টপস আর কুর্তায়ও অনায়াসে ব্যবহার হচ্ছে থামির ফ্যাব্রিকস। কখনো থামি কেটে বানানো হয়, কখনো আবার অন্য ফ্যাব্রিকসে থামির মোটিফ বা নকশা বসিয়ে ফিউশন ডিজাইন করা হয়। আদিবাসী পোশাক নিয়ে কাজ করেন অনলাইন বুটিক রেগা। স্বত্বাধিকারী ঊর্মি ক্ষীসা জানালেন, পোশাকে আদিবাসী উত্সবের মোটিফগুলো তুলে আনা হয়। এখানে যেমন চাকমাদের করবমবাগা বা করমচা ফুলের মোটিভ ব্যবহার হয়েছে। পোশাকে লালা, মেজেন্টা, হট পিংকের মতো বিভিন্ন উত্সবের রংগুলোই বেশি প্রাধান্য পায়। ডিজাইনের ওপর নির্ভর করে কখনো পুরো আদিবাসী কাপড় ব্যবহার করা হয়। কখনো আবার বুননের লেইস পাড় হিসেবে ব্যবহার হয়।

পোশাক : রঙ বাংলাদেশ

মিলিয়ে গয়না

থামির তৈরি বা আদিবাসী মোটিফে নকশা করা- পোশাক যাই হোক, সঙ্গে আদিবাসী গয়না বেশ ভালো মানায়। গলার বেছে নিতে পারেন মাদুলি, থালা, হাঁসুলি ইত্যাদি। হালকা সাজে গলায় কিছু না চাইলে হাতে পরুন পলা, বালা, বাজু বা পায়ের কয়রা, খাড়ু। শাড়ির সঙ্গে বিছা, ঝোলানো পয়সা মালা আর কোমরে বিছা ব্যবহার করতে পারেন।  রেগার পেইজেও পাওয়া যাবে হাতে তৈরি গয়না। বান্দরবানের আদিবাসী গোষ্ঠী সেগুলো বানায়।

 

মিলবে যেথায়

আড়ং, বিবিয়ানা, অরণ্য, রঙ বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশি ফ্যাশন হাউসগুলোতে ঢু মারলেই পেয়ে যাবেন আদিবাসী মোটিভ ও কাপড়ের পোশাক। বিভিন্ন অনলাইন শপেও পাওয়া যাচ্ছে পাহাড়ি কাপড় ও পোশাক। তবে মনের মতো পোশাক চাইলে থামি কাপড় কিনে নিজেই পছন্দসই নকশায় বানিয়ে নিতে পারেন পোশাক।



মন্তব্য