kalerkantho


কাজের মানুষ

গড়িমসি দূর করতে

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



গড়িমসি দূর করতে

গড়িমসি করলে সময় যে কিভাবে পার হয়ে যায়, টের পাওয়া যায় না। সে কারণে বিজ্ঞজনরা একে ‘সময়-চোর’ বা ‘থিফ অব টাইম’ বলে উল্লেখ করেছেন। সাফল্যের অন্যতম বড় বাধা এই গড়িমসি। গড়িমসি দূর করতে আপনার জন্য রইল ২০ পরামর্শ—

১.    নিজের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটানো সবচেয়ে কঠিন কাজ। কিন্তু এটাই করতে হবে। আপনার মানসিকতার পরিবর্তন ঘটান। গড়িমসি দূর করার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার মানসিক শক্তি।

২.    নিজেকে নিজেই সময়সীমা বেঁধে দিন। আর মনে করুন, আপনি আর আপনার ভেতরের সত্তা দুইজন আলাদা মানুষ। একজন কাজ করছে, অন্যজন তদারকি করছে। সব সময় চোখের সামনে ঘড়ি রাখবেন। দেখবেন, চলমান কাজটি শেষ করতে আর কতক্ষণ সময় আছে আপনার হাতে।

৩.    বাইরের কেউ তদারকিতে থাকলে আরো ভালো ফল পাওয়া যাবে। কোনো সহকর্মীর সাহায্য নিন, যিনি মাঝে মাঝেই আপনার কাজের অগ্রগতির খোঁজখবর নেবেন।

৪.    যথাসময়ে গড়িমসি ছাড়াই কাজ শেষ হলে নিজেই নিজের জন্য পুরস্কার রাখুন।

৫.    গড়িমসির নেতিবাচক পরিণতি সম্পর্কে গভীরভাবে ভাবুন। এর ভয়াবহতা সম্পর্কে ভাবুন। দেখবেন, নিজের ভেতরে ধীরে ধীরে বিষয়টি উপলব্ধি হচ্ছে।

৬.    আগেই পরের দিনের কাজের তালিকা করে রাখুন। যাতে দিনের শুরুতে সময় নষ্ট না হয়।

৭.    কাজের তালিকা বড় হলে একই ধরনের কাজগুলো সমন্বিত করে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করুন। যাতে কাজগুলো একের পর এক শেষ করতে সুবিধা হয়। গুছিয়ে কাজ করলে অনেক সময় বেঁচে যায়। ফলে বাড়তি আরো কিছু কাজ শেষ করা যায়।

৮.    বাজে সময় নষ্ট হয় এমন কাজগুলো এড়িয়ে চলুন। ট্রাফিক জ্যাম, বন্ধু বা আত্মীয়ের সঙ্গে ফোনালাপ, অফিসে আড্ডা ইত্যাদি বিষয় থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখুন।

৯.    কাজ হাতে রেখে টিভি দেখবেন না বা পেপার-ম্যাগাজিন পড়বেন না। এগুলো প্রচুর সময় কেড়ে নেয়। এগুলো ভ্রমণের সময়, কারো জন্য অপেক্ষা করতে করতে, লিফটের জন্য অপেক্ষা করছেন এমন সময়গুলো ব্যবহার করে সেরে ফেলুন।

১০.   কাজের পরিকল্পনা করতে হবে। পরিকল্পনা হবে বাস্তবসম্মত এবং গুরুত্ব অনুসারে একের পর এক সাজানো। অন্যথায় আপনি কাজের আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন এবং কাজ শেষ করতে গড়িমসি চলে আসবে। খেয়াল রাখবেন, পরিকল্পনা করতে করতেই যেন দিন শেষ না হয়ে যায়। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্রুত কাজে লেগে যান।

১১.   কাজের তালিকা এমন স্থানে ঝুলিয়ে বা আটকে রাখুন, যাতে সব সময় চোখে পড়ে। যে কাজটি শেষ হয়ে যাবে, সে কাজটির ওপর দাগ কাটুন। পাশে ছোট করে লিখে রাখুন কত সময় লাগল।

১২.   একসঙ্গে একাধিক কাজ করবেন না। কাজ করবেন একের পর এক।

১৩.   যথাসময়ে কিছুক্ষণ বিরতি নিন। একটানা কাজ করলে একঘেয়েমি চলে আসতে পারে। খুব বেশি ক্লান্ত হওয়ার আগে বিরতি নেওয়া ভালো।

১৪.   দীর্ঘক্ষণ কাজও ক্লান্তি আনে। কাজ করতে করতে প্রচুর পানি খান। মাঝে মাঝে চা পান করুন। নিজেকে দ্রুত কাজ করার জন্য চাঙা রাখুন।

১৫.   খুব জরুরি কাজের জন্য মোবাইল ফোন ব্যবহার করুন। ফোনে অ্যালার্ম সেট করে রাখুন। যাতে আপনি ভুলে গেলেও অ্যালার্ম আপনাকে সজাগ করে দেয়।

১৬.   মোটিভেশনাল বই পড়ুন। অনেক উদাহরণ আপনাকে উজ্জীবিত করবে।

১৭.   সাধারণত সকালে আমরা সবাই পূর্ণ শক্তি নিয়ে কাজ শুরু করি। ফলে জটিল কাজগুলো সকালে করুন। কারো কারো ক্ষেত্রে এই সময়-ধারণা ভুলও হতে পারে। কেউ কেউ সবচেয়ে জটিল কাজগুলো রাতে করেন। সুতরাং আপনার মনোসংযোগের ওপর নির্ভর করে কাজের সময় নির্ধারণ করুন।

১৮.   কাজ নিয়ে হুট-হাট প্রতিজ্ঞা কমান আর ‘না’ বলতে শিখুন। অনেক সময় আমরা যেখানে ‘না’ বলা উচিত, সেখানে ‘হ্যাঁ’ বলে ফেঁসে যাই। ভুল-ভাল প্রতিজ্ঞা করে শেষে আত্মদহনে ভুগি। কাজটা ছেড়েও দেওয়া যায় না আবার শেষও করা যায় না। এগুলো অন্যান্য কাজের গতি কমায় এবং গড়িমসি নিয়ে আসে।

১৯.   শুরুর দিনগুলোতে প্রতিনিয়ত নিজের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করবেন। কোথাও ভুল হলে শুধরে নিন। ভুল না শুধরালে একদিন তা ভুল-অভ্যাসে পরিণত হবে। কাজ করার সঠিক অভ্যাস গড়ে তুলুন।

২০.   কাজ করতে একান্তই ভালো না লাগলে কাজ পরিবর্তন করুন। নতুন উত্সাহে নতুন কাজকে এগিয়ে নিয়ে যান। এভাবেই কাজে লেগে থাকুন, নানা কৌশলে নিজেকে দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়ার আর কী কী উপায় হতে পারে, সে বিষয়েও ভাবতে থাকুন। গড়িমসি ভয়ংকর ব্যাধি, এটা দূর করার জন্য উঠে-পড়ে লাগুন, সফল আপনি হবেনই।



মন্তব্য