kalerkantho


রূপচর্চা

শীতে চুল পড়া কমাতে

শীতের বড় বিপত্তি খুশকি ও চুল পড়ার ঝামেলা। শুষ্ক এই মৌসুমে অনেকেরই আফসোস হয় চিরুনিতে একগাদা ঝরে পড়া চুল দেখে। সমস্যার সমাধান কিন্তু আছে রান্নাঘরেই। এভারগ্রিন অ্যাডাম অ্যান্ড ইভ বিউটি স্যালনের রূপবিশেষজ্ঞ নাহিদ আফরোজ তানির সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছেন জেনিফার ডি প্যারিস।

৩১ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



শীতে চুল পড়া কমাতে

চুল বাঁচাতে তেল

শুষ্ক মৌসুমের বাতাস থেকে আপনার চুল ও মাথার ত্বককে বাঁচাতে হট অয়েল ম্যাসাজের কোনো জুড়ি নেই। চুলের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে এবং চুলকে মজবুত করে সপ্তাহে অন্তত তিন দিন চুলের গোড়ায় তেল গরম করে মালিশ করুন।

 

গরম পানির ভাপ

গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে তা মাথায় পেঁচিয়ে রাখুন। গরম ভাপ চুলের হারিয়ে যাওয়া পুষ্টি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। পাশাপাশি চুলের বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে।

 

লেবু আর দই

টক দই ফেটিয়ে খানিকটা লেবুর রস মিশিয়ে পুরো চুলে লাগিয়ে রাখুন, শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। এই মিশ্রণটি প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করবে এবং চুলের শুষ্কতা দূর করবে।

 

নিমপাতা

শীতকালে নিমপাতার ব্যবহার আপনার চুল পড়া কমিয়ে আনবে অনেকখানি। কোনো মিশ্রণ ছাড়া শুধু নিমপাতাই ব্যবহার করতে পারেন। নিমপাতা পানিতে ফুটিয়ে নিন, পানি ফুটতে ফুটতে কমিয়ে অর্ধেকে নামিয়ে আনুন। এবার নিমপাতা ছেঁকে ফেলে পানিটুকু ঠাণ্ডা করে চুলের গোড়ায় লাগিয়ে নিন। সপ্তাহে দুবার এটি ব্যবহার করলে চুল পড়া কমবে।

 

অ্যালোভেরার সঙ্গে নিম

অ্যালোভেরার রস নিয়ে তার সঙ্গে নিমপাতার পেস্ট মিশিয়ে নিন, চাইলে এতে কিছুটা আমলকীর তেলও দিতে পারেন। এটি পুরো চুলে লাগিয়ে ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। মিশ্রণটি আপনার চুলকে করবে ঝরঝরে এবং উজ্জ্বল।

আদা

শীতকালে চুল পড়ার একটি বড় কারণ হলো খুশকি। আর খুশকির যম হলো আদা। আদা হালকা ছেঁচে নিয়ে চিপে রস নিন, রসটুকু সরাসরি চুলের গোড়ায় লাগিয়ে শুকাতে দিন। এবার শুধু পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন, শ্যাম্পু দিয়ে নয়। আদার রস আপনাকে খুশকি থেকে মুক্তি দেবে এবং চুল পড়া কমাবে।

 

ধনেপাতা

শুনতে আজব মনে হলেও ধনেপাতা চুল পড়া কমাতে দারুণ কার্যকর। ধনেপাতা বেটে পেস্ট করে তা চুলের গোড়ায় লাগিয়ে ৩০ মিনিট রেখে দিন, এরপর ধুয়ে ফেলুন। ধনেপাতা আপনার চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।

 

নিয়মিত করুন শ্যাম্পু

শীতে শ্যাম্পু করার আগে চুলগুলো হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে নিন। এরপর হাতের তালুতে একটু শ্যাম্পু নিয়ে তার চেয়ে একটু বেশি পরিমাণে পানি মিশিয়ে নিন। এবার শ্যাম্পুর মিশ্রণটা আলতো করে মাথার তালুতে লাগান। অনেকেই মাথার ত্বক আঙুল দিয়ে জোরে জোরে ঘষে পরিষ্কার করে থাকেন। এতে চুল পড়া যাওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। তেল দিয়ে শ্যাম্পু করার সময় অনেকের চুল থেকেই তৈলাক্ত ভাবটা দূর হতে চায় না। এ সময় চুলে শ্যাম্পু লাগিয়ে পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর হালকা গরম পানিতে ধুয়ে নিলেই দূর হবে চুলের তৈলাক্ত ভাব।

চুল ধোয়ার পর আলতো করে তোয়ালেতে মুছে নিন চুল। চুল ঝলমলে দেখানোর জন্য অনেকেই দুই থেকে তিনবার শ্যাম্পু ব্যবহার করে থাকেন। বারবার মাথার তালুতে শ্যাম্পু ব্যবহার না করাই ভালো। এ ছাড়া প্রতিদিন শ্যাম্পু ব্যবহারে যাঁদের চুল কিছুটা রুক্ষ হয়ে যায়, তাঁরা শ্যাম্পু করার পর চায়ের লিকার কন্ডিশনার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।



মন্তব্য