kalerkantho


অন্য কোনোখানে

অসময়ে সেন্টমার্টিন

আবু নাসের    

১২ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



অসময়ে সেন্টমার্টিন

ছয় বছর আগে সেন্টমার্টিনসে গিয়েছিলাম। জায়গাটির জন্য বুকের মধ্যে একটা টান অনুভব করতাম। এবার হুট করেই পরিকল্পনা করলাম সেন্টমার্টিনস যাওয়ার। সেন্টমার্টিনস যাওয়ার জাহাজ চালু হলে ভিড় বেড়ে যায়। ভিড় মানেই বেশি দূষণ, বেশি নোংরা, বেশি খরচ। সব কিছুই বেশি, শুধু সৌন্দর্য ছাড়া। যত দিন যায় ওটা শুধু কমতে থাকে। অক্টোবরের এক রাতে চট্টগ্রাম থেকে রওনা দিলাম টেকনাফের উদ্দেশে। শুরু হলো আমাদের তিন দিনের রোমাঞ্চকর সেন্টমার্টিনস ভ্রমণ।

প্রথম দিন : সকালে টেকনাফ পৌঁছে ঢাকা থেকে আসা চার সফরসঙ্গীর সঙ্গে যোগ দিলাম। সকালের নাশতা সেরে এবার গন্তব্য ফিশারিঘাট। সেখান থেকে সেন্টমার্টিনসের উদ্দেশে ট্রলার ও স্পিডবোট ছেড়ে যায়। সকাল ১০টায় রওনা হয়ে হেলেদুলে, রোদে পুড়ে আর ইঞ্জিনের ভটভট শব্দ শুনতে শুনতে ৩ ঘণ্টা পর পৌঁছলাম সেন্টমার্টিনস। অনেকেই ট্রলারে ভয় পান কিংবা যেতে নিরুত্সাহিত করেন। তার কারণ সাগরের বিশাল বিশাল ঢেউ। কিন্তু আমার কাছে তেমন ভয়ংকর লাগেনি। কারণ সাগর এখন শান্ত। আমরা দুই রাত থাকব। বিচের পাশে সুন্দর একটি হোটেলে রুম ভাড়া নিলাম। খাবার খেতে গিয়ে বেশ বিড়ম্বনায় পড়তে হলো। কারণ বেশির ভাগ হোটেল বন্ধ। আমরা যখন গিয়েছি তখন মাছ ধরা নিষিদ্ধ। তাই সামুদ্রিক মাছ খাওয়ার ইচ্ছাটা অপূর্ণই রয়ে গেল। বিকেলে অপরূপ সূর্যাস্ত দেখে বিচ সিটে হালকা ঘুম দিলাম। ঠাণ্ডা বাতাস সেই ঘুমের ১২টা বাজিয়ে দিল। এরপর বাজারে গিয়ে তরমুজ সাইজের ডাব খেয়ে রাতে জেটিতে জোসনা বিলাস।

দ্বিতীয় দিন : সেন্টমার্টিনে সূর্যাস্ত দেখেই ইচ্ছা হয়েছিল সাগরে সূর্যোদয় দেখব। ঘুম থেকে উঠতে না পারায় মিস হয়ে গেল। মন খারাপ নিয়ে পায়ে হেঁটে ছেঁড়া দ্বীপ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। পশ্চিম বিচ থেকে ৩ ঘণ্টা লাগল পৌঁছাতে। সেখানে দুপুর পর্যন্ত ঝাঁপাঝাঁপি আর স্বচ্ছ পানির নিচে ডুব দিয়ে নানা রকম রঙিন মাছের সঙ্গে খেলা চলল কিছুক্ষণ। ফেরার সময় রওনা হলাম অন্যদিক দিয়ে। উদ্দেশ্য পুরো সেন্টমার্টিনস রাউন্ড দেওয়া। রোদে কষ্ট হলেও হেঁটে ছেঁড়া দ্বীপ যাওয়া-আসার পথের যে সৌন্দর্য দেখেছি তা কখনোই ভোলার নয়। রাতে মাছের বারবিকিউ দেখে খেতে ইচ্ছা হলো। কিন্তু আগে থেকে অর্ডার না করায় পাওয়া গেল না। রাতে তারাভরা আকাশের নিচে আবার জোসনাবিলাস, তুমুল আনন্দ আড্ডা।

তৃতীয় দিন : শেষ দিন ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে ঘুম থেকে উঠলাম। আজ সূর্যোদয় মিস করা যাবে না। সূর্যোদয়ের অপরূপ দৃশ্য দেখে সাইকেল ভাড়া করতে গেলাম। সাইকেল নিয়ে সেন্টমার্টিনস চষে বেড়ালাম। গাছে দোল খেলাম। রুমে ফিরে ব্যাগ গুছিয়ে জেটিঘাটে এসে দেখি ট্রলার ছেড়ে দিয়েছে। এখন লোকস্বল্পতায় আর কোনো ট্রলার ছাড়বে না। পরবর্তী ট্রলার ২টায়। এখন বাজে ১০টা। বেলা ১২টার দিকে একটা স্পিডবোট জেটিতে ঢুকতেই দৌঁড়ে গেলাম। স্পিডবোট যাবে শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত। আমরা পাঁচজন আরেকটি গ্রুপের তিনজন মিলে আটজন কষে লাইফ জ্যাকেট পরে নীল জল পেরিয়ে উড়তে উড়তে ছুটে চললাম শাহপরীর দ্বীপে। স্পিডবোটে ৩০ মিনিটের এই সমুদ্রযাত্রা ট্রলার ভ্রমণের আনন্দকে ছাপিয়ে গেল। শাহপরীর দ্বীপটাও অনেক সুন্দর। আমাদের টার্গেট টেকনাফ থেকে মেরিনড্রাইভ হয়ে কক্সবাজার যাওয়া। সিএনজি নিয়ে প্রথমে টেকনাফ। তারপর আবার সিএনজি নিয়ে মেরিনড্রাইভ রোড হয়ে কক্সবাজার। বামপাশে বিকেলের সোনালি রং মাখা সমুদ্র আর ডানপাশে উঁচু উঁচু পাহাড়ের সারি। মাঝদিয়ে চলে যাওয়া মেরিনড্রাইভ রোড যেন অসম্ভব সুন্দরের হাতছানি। হাতে সময় না থাকায় দরিয়ানগরের প্যারাসেইলিংটা অপূর্ণ রেখেই বিদায় নিতে হলো।

কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে টেকনাফ বাসে ৯০০ টাকা। টেকনাফ থেকে ট্রলারে সেন্টমার্টিন ২২০-৩২০ টাকা। স্পিডবোট টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন রিজার্ভ ৬০০০ টাকা [লোকাল গেলে জনপ্রতি ৮০০ টাকা]।

 



মন্তব্য