kalerkantho


কর্মক্ষেত্রে সম্পর্ক

কর্মক্ষেত্রে সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রয়োজন। বিশেষ করে সহকর্মীর সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কেমন, তার ওপর আপনার সফলতা আসতে পারে। কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন গ্রামীণফোনের টেলিকমিউনিকেশন বিভাগের মুখ্য গবেষক ইসমাইল আবেদীন। শুনেছেন এ এস এম সাদ

৫ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



কর্মক্ষেত্রে সম্পর্ক

ইতিবাচক আড্ডা দিন

অফিসে কাজের চাপ থাকবেই; কিন্তু এর মধ্যেও এককাপ চা কিংবা কফির সঙ্গে সহকর্মীদের আড্ডা একঘেয়েমি দূর করে মনকে প্রাণবন্ত করে তোলে। এতে কাজে উদ্যম ফিরে আসে।

 

সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব

অফিসে নতুন কেউ এলে কিংবা আপনার সহকর্মীর কোনো কাজে সমস্যা হলে, তাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। তবে সাহায্য করে নিজের মধ্যে সিনিয়র ভাব আনা যাবে না। অথবা আপনি তার থেকে ভালো কাজ পারেন—এমনটা একেবারেই বোঝানো যাবে না। এমন হলে পরবর্তী সময়ে মানুষ আপনার কাছে সাহায্য নিতে চাইবে না।

 

টিম ওয়ার্ক

অফিসের অনেক কাজই একসঙ্গে করা লাগে। সবাই মিলে কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে, এতে সবার মতামতকেই প্রাধান্য দিতে হবে। নিজের মনের মতোই সব কিছু হতে হবে—এমন যেন না হয়।

 

জন্মদিন মনে রাখুন

প্রত্যেকেই চায় জন্মদিনে তাকে সবাই শুভেচ্ছা জানাক। বিশেষ করে কাছের মানুষ থেকে শুরু করে সারা দিন যাদের সঙ্গে কাজ করা হয়, তাদের থেকেও শুভেচ্ছা আসুক। তাই সহকর্মীর জন্ম দিন কবে নিজ উদ্যোগে জেনে নিন। তাকে কিছু উপহার দিতে পারেন, হতে পারে একটি ফুলও।

ভালো দিক বিবেচনা করুন

যার সঙ্গে কাজ করেন, তার কোনো দিক বা আচরণ আপনার পছন্দ না-ও হতে পারে। অপছন্দের ব্যাপারগুলো মনে থেকে গেলে কিন্তু কাজে তার প্রভাব পড়বে। সুতরাং সহকর্মীর ভালো দিকগুলো খুঁজে বের করুন। অবসর সময়ে তার প্রশংসাও করতে পারেন, তবে মনে রাখতে হবে, যেন তোষামোদ না হয়ে যায়।

 

ঈর্ষা করা যাবে না

সহকর্মীর সাফল্য দেখে মন খারাপ করা যাবে না; বরং তাকে ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রেরণা জোগাতে হবে। মাঝেমধ্যে তার কাছ থেকেই পরামর্শ নিতে হবে, কিভাবে কাজে আরো সফল হওয়া যায়। ঈর্ষা কিন্তু একেবারেই করা যাবে না।

 

পলিটিকস করা যাবে না

কর্মজীবনে মানুষের মধ্যে যে ব্যাপারগুলো নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো গ্রুপিংয়ের মাধ্যমে অন্য পক্ষের কিংবা ব্যক্তির ক্ষতি করা। অফিসে নিজ মতানুসারীদের নিয়ে দল তৈরি করা। এটি পরিহার করতে হবে, কারণ আজ যার ক্ষতি করছেন, পরে তার কাছেই হয়তো আপনার সাহায্য চাইতে হতে পারে।

 

ব্যক্তিগত আলোচনা

কোনো একজনের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলোচনায় অন্যরা বিরক্ত হতে পারে। এতে সম্পর্কের অবনতি দেখা দিতে পারে এবং আপনার সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাবও তৈরি হতে পারে। ব্যক্তিগত আলোচনার প্রয়োজন হলে অবশ্যই তা কর্মক্ষেত্রের পরিধির বাইরে গিয়ে করুন।

 

অসুস্থ হলে এগিয়ে আসা

সহকর্মী অসুস্থ হলে তার খোঁজখবর নেওয়া জরুরি। দরকার হলে তাকে দেখতে তার বাসায় বা হাসপাতালে যেতে হবে। এই সময় অফিসে তার জমে থাকা কিছু কাজও আপনি নিজ দায়িত্বে করে দিতে পারেন। দেখবেন আপনার বিপদেও সহকর্মীরা এগিয়ে আসবে।

 



মন্তব্য