kalerkantho


পুরনো গয়না নতুন করে

মাঝে কদর কমে গেলেও আবার ফিরছে পুরনো দিনের ভারী গয়না। কনক দ্য জুয়েলারি প্যালেসের স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার লায়লা খায়ের কনকের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন আতিফ আতাউর

৫ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



পুরনো গয়না নতুন করে

মডেল : অপ্সরা সাজ : রেড বিউটি স্যালন, গয়না : কনক দ্য জুয়েলারি প্যালেস, ছবি : কাকলী প্রধান

বিয়ের অনুষ্ঠানে গা-ভরা গয়না ছাড়া একসময় চলতই না। কিন্তু সময় বদলের সঙ্গে সঙ্গে গয়নার ফ্যাশনেও লাগে পরিবর্তনের হাওয়া। ভারী গয়নার বদলে হালকা নকশার ট্রেন্ডি গয়না পরতে শুরু করেন ফ্যাশনপ্রেমী নারীরা। কিন্তু বদলে যেতে শুরু করেছে সে চিত্র।

 

ফিরেছে পুরনো গয়না

পুরনো চলটা আবার দেখা যাচ্ছে। পোশাকের সঙ্গে মিল রেখে গয়না পরার যে চল, সেই ধারণা ভাঙছেন ফ্যাশনপ্রেমী নারীরা। জমকালো পোশাকের পাশাপাশি এখন হালকা পোশাকেও ভারী গয়না বেছে নিচ্ছেন। ঝুঁকছেন নানি-দাদিদের পুরনো দিনের গয়নার নকশায়। ফ্যাশন হাউসগুলোও পুরনো দিনের গয়নার নকশা করছেন নতুন করে। আগেকার গয়নার নকশার বৈচিত্র্য অনন্য।

বিয়ের গয়নায়ও পুরনো দাপট

বিয়েতে ভারী গয়নার চল বেশ পুরনো। সে তো আছেই। এখন তো নিজের ব্যক্তিত্ব ও অনুষ্ঠানের ধরন বুঝে হালকা নকশার শাড়ি বা পোশাক পরছেন অনেকে। তাতে জমকালো রূপ দিতে পরছেন ভারী গয়না। গয়নার ভারী সাজ ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিয়ের কনের গয়নায়ও ফিরে আসছে পুরনোর দাপট। জামদানি শাড়ি কিংবা ভারী কাজের লেহেঙ্গার সঙ্গে কনে পরছেন ভারী টিকলি, টায়রা, সীতাহার। হাতে মোটা চুড়ি কিংবা বালা। নাকের নথটায়ও থাকছে পুরনো নকশার আমেজ। সঙ্গে বাজুবন্ধ, কোমরবন্ধ, নূপুর তো আছেই।

গয়নার বাক্সে ট্রেন্ডি কালেকশন

নানি, দাদি, মা-খালাদের পুরনো গয়নার সংগ্রহ কম নয়। যক্ষের ধনের মতো এগুলো আগলে রাখেন তাঁরা। নতুন গয়নার ভিড়ে হয়তো সেগুলো সব সময় পরা হতো না। গয়নার বাক্স থেকে এখন বের হয়ে আসছে সেসব ট্রেন্ডি গয়না। তাতে ফুটে উঠছে গর্জিয়াস লুক। পুরনো ভারী গয়না সংগ্রহে না থাকলে বাজার ঘুরে কিনে নিতে পারেন।

পোশাক ও গয়নার মেলবন্ধন

আগে এসব ভারী গয়না শুধু শাড়ির সঙ্গে পরা হতো। কিন্তু এখন সব ধরনের পোশাকের সঙ্গেই ভারী গয়না পরছেন মেয়েরা। কেউ কেউ টপসের সঙ্গে লম্বা ঝুলের মালা বা কম ঝুলের হাঁসুলি পরছেন। গয়নায় হলদে রঙে ভিন্নতা আনছেন অ্যান্টিক কিংবা সিলভার পলিশে। পুরনো দিনের গয়নার যে রং, তাতে ফিউশন করছেন ডিজাইনাররা। কাতান, বেনারসি, জামদানি, মসলিন—এসব দেশি শাড়ির সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী ভারী গয়না বেশি মানিয়ে যায়। শিফন, জর্জেট, নেট শাড়ির সঙ্গে পাথর কিংবা পুঁতি বসানো গয়না পরলে ভালো লাগে। পোশাক হালকা হলে জমকালো ও ভারী কাজের গয়না বেছে নিন। এতে গয়নার সৌন্দর্য বেশি ফুটবে।

শুধু সোনা নয়

ভারী গয়না মানেই যে স্বর্ণের হতে হবে, বিষয়টা তা নয়। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে ইমিটেশনসহ অন্যান্য মেটালের (রুপা, তামা, পিতল, দস্তা) তৈরি গয়নাও অনায়াসে ব্যবহার করা যায়। মেটালের তৈরি এসব ভারী গয়নায় পুরনো দিনের ডিজাইন বেশ সাশ্রয়ে ফুটিয়ে তোলা যায়। চাইলে রং দিয়ে সোনা বা রুপার গয়নার রূপ দেওয়া যায়। সোনার চেয়ে অনেক কম দামেই মিলে যাবে মেটালের তৈরি গয়না। স্বর্ণের গয়নায় চাইলেও সব সময় নকশা পরিবর্তন সম্ভব হয় না। আগেকার গয়নায় প্রাকৃতিক পান্না, হীরা, মণি-মুক্তার ব্যবহার করা হতো বলে দামও পড়ত বেশি। এখন কৃত্রিম উপায়ে তৈরি পাথর ব্যবহূত হচ্ছে। দেখতে একই রকম কিন্তু দাম কম। চলটা পুরনো দিনের হলেও রং, মেটালসহ অন্য সব কিছুই এই সময়ের।

পুরনো গয়না নতুন রাখতে

গয়নারও নিয়মিত যত্ন নিতে হবে। নইলে গয়নায় ময়লা জমে উজ্জ্বলতা কমে যায়, বিবর্ণ হয়ে পড়ে। ব্যবহারের পর সাবান মেশানো পানিতে গয়না ধুয়ে রাখুন। তবে পীত, পোখরাজ, পান্না, জেড পাথর, মুক্তা ও ফিরোজার গয়না সাবানপানিতে ধোয়া যাবে না। সোনার গয়না পরিষ্কারের জন্য গরম পানিতে সোডিয়াম বাই-কার্বনেট মিশিয়ে সেই পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। সব শেষে নরম ও মসৃণ কাপড় দিয়ে ভালো করে গয়না শুকিয়ে নিন। বেশির ভাগ গয়না সাধারণ পানিতে পরিষ্কার করা যায়। চেষ্টা করুন সাধারণ পানি দিয়ে গয়না পরিষ্কার করার। হীরার গয়না ফুটন্ত সাবানপানিতে কয়েক মিনিট রেখে নরম ব্রাশ দিয়ে ঘষে পরিষ্কার ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন।  

 

শাড়ির সঙ্গে ভারী গয়না তো মানিয়েই যায়! অন্য পোশাক? সে ভাবনায়ও ইতি টানছে হাল ফ্যাশন। কুর্তিতে হাঁসুলি কিংবা কামিজে ভারী ঝুমকা বেশ মানিয়ে যায়

 



মন্তব্য