kalerkantho


আপনার শিশু

শিশুদের ত্বকের যত্নে অলিভ অয়েল

ত্বকের সুরক্ষায় বর্ম হিসেবে কাজ করে অলিভ অয়েল। বিশেষ করে শিশুদের কোমল ত্বকে। শিশুর ত্বকে অলিভ অয়েল কেন, কিভাবে মাখবেন— জানিয়েছেন রেড বিউটি স্যালনের রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন। লিখেছেন আতিফ আতাউর

২৯ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



শিশুদের ত্বকের যত্নে অলিভ অয়েল

হেমন্তের এ সময় ত্বকে নানা রকম সমস্যা দেখা দেয়। দিনে গরম, রাতে হালকা ঠাণ্ডা বাতাসে শুষ্কতা থাকে বলে ত্বকের আর্দ্রতা বেশিক্ষণ থাকে না। ত্বকে দেখা দেয় নানা সমস্যা। বিশেষ করে শিশুদের কোমল ত্বক সুরক্ষায় এই সময় আলাদা যত্ন নিতে হবে। শিশুদের ত্বক বেশ স্পর্শকাতর হয় বলে তাদের ত্বকে সাধারণ তেলের পরিবর্তে অলিভ অয়েল ব্যবহার করলে ভালো ফল দেয়।

 

কেন দেবেন?

বাড়তি যত্ন না নিলে এই বয়সী শিশুদের ত্বকে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। শিশুর গলায়, হাত ও পায়ের ভাঁজে নিয়মিত অলিভ অয়েল মাখলে ভালো ফল দেয়। এই ঋতুতে অনেক শিশুর ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে পড়ে। এ সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে নিয়মিত অলিভ অয়েল ব্যবহার। অলিভ অয়েল মেশানো পানি দিয়ে শিশুকে গোসল করানো যেতে পারে। এক বালতি পানিতে ৫ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিতে হবে। এই পানিতে শিশুকে গোসল করালে ত্বক নরম হবে। আরো ভালো ফল পেতে গোসলের পর ভেজা ত্বকে অলিভ অয়েলের সঙ্গে সামান্য পানি মিশিয়ে শিশুর শরীরে ম্যাসাজ করে দেওয়া যেতে পারে। এটা শিশুর ত্বকের জন্য ভালো ময়েশ্চারাইজারের কাজ করবে।

 

কিভাবে দেবেন অলিভ অয়েল?

শিশুকে গোসলের আগে গায়ে ভালো করে অলিভ অয়েল ম্যাসাজ করে দিতে হবে। এর কিছুক্ষণ পর লিকুইড সাবান দিয়ে শিশুকে গোসল করাতে হবে। সাবান, অলিভ অয়েল কিংবা শ্যাম্পু ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে নিতে পারেন। বাচ্চাকে গোসল করিয়ে শরীর ভালোভাবে মুছে দিতে হবে। এরপর অলিভ অয়েল তার চুলে ও মাথায় দিতে হবে। সাধারণত দুই থেকে তিন মাস নিয়মিত শিশুর মাথায় অলিভ অয়েল দিলে মাথার ত্বকের সমস্যা থেকে দূরে থাকা যাবে। সপ্তাহে দুই দিন শিশুর ত্বক উপযোগী ভালো কোনো শ্যাম্পু দিয়ে শিশুর চুল পরিষ্কার করে দিতে হবে। ভেজা চুলে অলিভ অয়েল না মেখে চুল শুকিয়ে নিতে হবে। তারপর অলিভ অয়েল দিতে হবে। 

 

মনে রাখুন

♦  বাচ্চার গায়ে ধুলো-ময়লা লাগলেই তাকে যখন-তখন গোসল করাতে যাবেন না বা গা ধুয়ে দেবেন না। শিশুদের ত্বক খুব সংবেদনশীল। বারবার ধোয়া হলে শিশুর ত্বক রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে যাবে।

♦  ঠাণ্ডা লেগে যাওয়ার ভয়ে অনেকের মধ্যে শিশুকে প্রতিদিন গোসলে অনীহা দেখা যায়। এটা করা যাবে না। খুব বেশি ঠাণ্ডার দিন হলে শিশুকে কুসুম গরম পানিতে গোসল করিয়ে দিন।

♦  শিশুর ত্বকে কখনোই বড়দের সাবান, শ্যাম্পু, ক্রিম ইত্যাদি মাখতে যাবেন না।

♦  অনেকের মধ্যে শিশুর শরীরে সরিষার তেল মাখানোর প্রবণতা থাকে। কিন্তু অপরিশোধিত সরিষার তেল শিশুর ত্বকের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। এ জন্য এন্টি-অক্সিডেন্ট-সমৃদ্ধ অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে হবে।



মন্তব্য