kalerkantho


অ্যাকোয়ারিয়াম

যত্নে থাকুক ঘরের মাছ

ঘরের মাঝে স্বচ্ছ পানিতে রঙিন মাছের খেলা দেখতে চাইলে নিয়মিত নিতে হবে অ্যাকোয়ারিয়াম ও মাছের যত্ন। নিয়মিত পরিচর্যা না করলে পানিতে শেওলা জমে বাসা বাঁধে জলজ কীট। অ্যাকোয়ারিয়াম সুন্দর রাখতে ও মাছ সুস্থ রাখার যত্ন নিয়ে জানাচ্ছেন নাঈম সিনহা

২৯ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



যত্নে থাকুক

ঘরের মাছ

কোন ঘরে কেমন অ্যাকোয়ারিয়াম

ঘরের সঙ্গে মানানসই হতে হবে অ্যাকোয়ারিয়াম। মাথায় রাখতে হবে ঘরের মাপ। কারণ ঘরের তুলনায় অ্যাকোয়ারিয়াম বেশি বড় বা ছোট হলে বেমানান লাগবে। ঘরে জায়গা কম থাকলে এক কোণে গোলাকৃতির লম্বাটে অ্যাকোয়ারিয়াম রাখতে পারেন। এতে মাছগুলো বড় দেখাবে। ঘরের একটি দেয়াল ফাঁকা থাকলে বানাতে পারেন দেয়াল-লাগোয়া অ্যাকোয়ারিয়াম। আয়তাকার, ত্রিকোনাকার, বোতলাকৃতি, ছয়কোনা আকৃতি যা-ই হোক পানির চাপ সহ্য করার মতো শক্ত ও স্বচ্ছ কাচ ব্যবহার করতে হবে অ্যাকোয়ারিয়ামে। ওপরের ঢাকনা হিসেবে কাঠ, প্লাস্টিক কিংবা অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করা যেতে পারে। অ্যাকোয়ারিয়ামের ঢাকনা খোলা ও বন্ধ করার ব্যবস্থা থাকতে হবে। দেখতে কাঠের মতো প্লাস্টিকের ঢাকনা ব্যবহার করলে ভালো। এগুলো পানিতে সহজে নষ্ট হবে না, পরিষ্কার করাও সহজ। আরেকটি বিষয় লক্ষ রাখুন, অ্যাকোয়ারিয়ামের প্রস্থ ও উচ্চতা উভয়ই যেন  দৈর্ঘ্যের অর্ধেক হয়।

 

প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম

অ্যাকোয়ারিয়াম মাছ পালনের উপযুক্ত করতে মোটা বালি, পাথর কুচি, ফিল্টার, এয়ার মোটর বিশেষ ক্ষেত্রে এয়ার এক্সিকিউটর, এনার্জি বাল্ব, ওয়াটার হিটার ও রাবারের পাইপ প্রয়োজন। এর বাইরেও সাজসজ্জা ও বিশেষ সুবিধার জন্য বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার হয়ে থাকে। অ্যাকোয়ারিয়ামের ভেতরের তলানিতে ফিল্টার বসানোর চেয়ে এয়ার পাম্প বসানো ভালো। এতে পানি পরিষ্কার করা সহজ হয়।

পরিচর্যা

নিয়মিত মাছকে খাবার দিতে হবে এবং মাসে এক দিন অ্যাকোয়ারিয়ামের পানি বদলে দিতে হবে। অ্যাকোয়ারিয়ামের মাছের জন্য প্যাকেটজাত খাবার পাওয়া যায়। দিনে দুবার অ্যাকোয়ারিয়ামে খাবার দিতে হবে। অ্যাকোরিয়াম শপ সিঙ্গাপুর এন্টারপ্রাইজের মো. হানিফ জানালেন, ছয় মাস পর পর অ্যাকোয়ারিয়ামের সব সরঞ্জাম পরিষ্কার করতে হয়। পাথরগুলো গরম পানিতে ভালো করে ধুয়ে রোদে শুকাতে হবে। প্রতিবার অ্যাকোয়ারিয়ামে নতুন পানি দিলে নির্দিষ্ট মাত্রায় লবণ, ভিটামিন, ফাঙ্গাস ও ক্লোরিন কাটানোর ওষুধ দিতে হবে। লবণ, ভিটামিন ও ফাঙ্গাসের ওষুধ মাছের রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করবে। ক্লোরিন পানির বাড়তি ক্ষার প্রতিরোধ করে।

তবে ছয় মাস পর পরিষ্কারের আশায় অ্যাকোয়ারিয়াম ফেলে না রাখাই ভালো। প্রতি মাসে একবার অ্যাকোয়ারিয়ামের পাথর নেড়ে দিন। এতে পানির নিচের ময়লা ওপরে চলে আসবে, তখন অর্ধেক পানি ফেলে দিয়ে নতুন পানি দিন। এতে পানি কম ময়লা হবে, সহজে শ্যাওলা জমবে না। শীতে অ্যাকোয়ারিয়ামের পানি বেশি ঠাণ্ডা থাকে। এতে গোল্ডফিশসহ বিভিন্ন মাছ দুর্বল হয়ে যায়। তাই সন্ধ্যার পর হিটার ব্যবহার করুন। তবে একটানা সারা রাত হিটার ব্যবহার করলে পানি অতিরিক্ত গরম হয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

অ্যাকোয়ারিয়াম সজ্জা

অ্যাকোয়ারিয়ামে জলজ বিভিন্ন গাছ লাগাতে পারেন। দোকানে এসব গাছ পাবেন। ভেলিসনেরিয়া, সেরাটোফাইলাম, ওয়াটার স্পাইট উদ্ভিদ রোপণ করতে পারেন। এগুলো শুধু শোভাবর্ধকই নয়, এর উপকারিতাও আছে। মাছের বর্জ্য থেকে উত্পন্ন বিষাক্ত গ্যাস শোষণ করে পরিবেশ অনুকূলে রাখে। সব কাজ শেষে পরিষ্কার পানি দিয়ে অ্যাকোয়ারিয়াম ভর্তি করতে হবে। সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও উদ্ভিদের সালোক-সংশ্লেষণের জন্য অ্যাকোয়ারিয়ামে কৃত্রিম আলোর ব্যবস্থা থাকা দরকার। তাই প্রতিদিন কমপক্ষে আট ঘণ্টা করে বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বালিয়ে রাখতে হবে।



মন্তব্য