kalerkantho


আপনার শিশু

এখন শিশুর ত্বক

দিনে তীব্র রোদ আর সন্ধ্যার গুমোট গরমের পর ভোরের ঠাণ্ডা হাওয়া জানান দিচ্ছে, ঋতু বদলাতে শুরু করেছে। গরম-ঘামের সঙ্গে এই সময়ে বাড়তি বিড়ম্বনা ত্বকের শুষ্কতা। এতে বিশেষ করে শিশুরা বেশি ভুক্তভোগী। এই সমস্যা এড়িয়ে শিশুর ত্বক সতেজ রাখতে প্রয়োজন বাড়তি খেয়াল। রূপ বিশেষজ্ঞ শোভন সাহার কথা থেকে পরামর্শ নিয়ে জানাচ্ছেন নাঈম সিনহা

১৫ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



এখন শিশুর ত্বক

গরম না কমলেও আবহাওয়া শুষ্ক হতে শুরু করেছে। তাই শিশুর ত্বক আর্দ্র রাখা জরুরি। বাড়তি নজর দিতে হবে শিশুর গোসল, সাবান, শ্যাম্পু, লোশন এমনকি খাবারদাবারেও।

 

গোসল

সুন্দর ত্বকের জন্য সুস্থ শিশুকে প্রতিদিন গোসল করানো উচিত। এই আবহাওয়ায় কুসুম গরম পানি গোসলের জন্য ভালো। তবে পানি যেন বেশি গরম না হয়। খেয়াল রাখতে হবে, ত্বকের স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে বেশি গরম পানি ত্বককে আরো শুষ্ক করবে। তাই কুসুম গরম পানি দিয়ে শিশুকে গোসল করান। এই সময়ে গ্লিসারিনযুক্ত সাবান শিশুদের ত্বকের জন্য উপযুক্ত। ঠাণ্ডার সমস্যা থাকলে অথবা দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের এক দিন পরপর গোসল করানো যেতে পারে। যেদিন গোসল করবে না, সেদিন কুসুম গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে মাথাসহ শিশুর শরীর স্পঞ্জ করে দিন। গোসলের পর লোশন দিয়ে পাউডার পাফ করে দিন।

 

চাই ময়েশ্চারাইজড লোশন

শিশুর গোসলের পর হালকাভাবে শরীর মুছে দিয়ে অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে। ময়েশ্চারাইজার হিসেবে শিশুদের জন্য অলিভ অয়েল কিংবা হালকা ধরনের বেবি লোশন কার্যকর। তবে শিশুর ত্বকের উপযোগী ভালো মানের বেবি লোশন বেছে নিতে হবে। নতুন কেনার পর প্রথমেই পুরো শরীরে না লাগিয়ে হাতের কিছু অংশে লাগিয়ে দেখে নিন র্যাশ বা অ্যালার্জির মতো সমস্যা হয় কি না।

রাতে শোবার আগে ও গোসলের পর দিনে দুবার শিশুর ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগান। মনে রাখতে হবে, ঘন ঘন লোশন বা তেল লাগানো ঠিক নয়। বারবার লোশন বা তেল লাগানো হলে ত্বকের লোমকূপ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে ত্বকে জীবাণু সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ে। আবার ত্বক শুষ্ক থাকলে অ্যালার্জি বা চর্মরোগের আশঙ্কা থাকে।

 

খেয়াল রাখুন

♦    এই সময় বাতাসে অতিরিক্ত ধুলাবালি থাকার কারণে শিশুদের র্যাশ হতে পারে। সেখানে ডেটল বা সেভলন জাতীয় পরিষ্কারক ব্যবহার করা যাবে না। কারণ শিশুদের ত্বক বেশ স্পর্শকাতর।

♦    শিশুর শরীরে সরিষার তেল না মাখানোই ভালো। এটি শিশুর ত্বকের উপযোগী নয়। কারণ তেলে শিশুর কোমল ত্বক চিটচিটে হয়ে যায়। ধুলাবালি সহজে ত্বকে আটকে যায়। ঘন বলে এই তেল লোমকূপ বন্ধ করে দেয়।

♦    শিশুর জন্য যে লোশনটি কিনছেন, তাতে ভিটামিনজাতীয় উপাদান আছে কি না জেনে নিন। এটি ত্বকে ময়েশ্চারাইজারের পরিমাণ ঠিক রাখে। ত্বককে করে নরম, কোমল ও মসৃণ।

♦    শিশুদের ত্বকে বড়দের লোশন একেবারেই ব্যবহার করা যাবে না। তাতে চড়া মাত্রায় প্রিজারভেটিভ, পারফিউম ইত্যাদি থাকে, যা শিশুদের কোমল ও নাজুক ত্বকের জন্য একেবারে অনুপযোগী।

♦    কোন শিশুর ত্বক কেমন, মিল্ক ক্রিম চাই, নাকি বাটার সফট, নাকি ন্যাচারাল কার্যকর—সেই বাছাইটাও জরুরি।



মন্তব্য