kalerkantho


কাজের মানুষ

মধ্যম স্তরের নেতৃত্ব তৈরি করবেন যেভাবে

১৫ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



মধ্যম স্তরের নেতৃত্ব তৈরি করবেন যেভাবে

প্রথমত জানা দরকার, অফিসে মধ্যম স্তরের নেতৃত্ব মানে কী এবং কেন দরকার? মূলত যাঁরা বর্তমানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাঁদের জন্য এই বিষয়টি বিশেষভাবে জরুরি। মধ্যম স্তরের নেতৃত্ব বলতে পরবর্তী স্তরের নেতৃত্বকে বোঝায়। অর্থাত্ আপনার পরবর্তী সময়ে  যাঁরা নেতৃত্ব দেবে। আপনার ওপরে ওঠার পেছনে এদের প্রভাব ব্যাপক। আপনার পদোন্নতি অনেকাংশে নির্ভর করে আপনার শূন্যস্থানে যাঁকে স্থলাভিষিক্ত করা হবে সেই যোগ্যতম ব্যক্তিটির সহজলভ্যতার ওপর। আপনার অধস্তন হয়ে যাঁরা এখন কাজ করছেন, তাঁদের ভেতর থেকে এক বা একাধিক কাউকে বেছে নিতে হবে, যাকে আপনি ধীরে ধীরে যোগ্য করে তুলবেন। আপনার পদোন্নতি হলে বা স্থানান্তর হলে যিনি হাল ধরতে পারবেন। আপনার পদন্নতির চেয়েও প্রতিষ্ঠান তার কাজের সুষ্ঠু পরিচালনার ব্যাপারে স্বভাবতই বেশি আগ্রহী থাকবে। ফলে আপনাকে ওপরে তুললে যদি ফ্রন্ট লেভেলে কাজের কোনো ক্ষতি হয় তাহলে আপনার পদোন্নতির সম্ভাবনা কিছুটা ক্ষীণ হবে! এ রকম অবস্থায় মধ্যম স্তরে নেতৃত্ব বাড়াতে ১০টি করণীয় :

 

এক.

আপনার দলের সদস্যদের ওপর মনোযোগ বাড়ান। তাদের যোগ্যতা, দুর্বলতা, আগ্রহ, বিচক্ষণতা, দূরদর্শিতা, নেতৃত্ব দেওয়ার ঘুমন্ত গুণাগুণ কতটা আছে ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ করুন, সময় নিন। কয়েকজনকে টার্গেট করুন। এর ভেতর থেকে হাতে গোনা কয়েকজনকে, বড় জোড় দুই-তিনজনকে নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বাছাই করুন।

 

দুই.

ধীরে ধীরে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে শুরু করুন। সব একসঙ্গে নয়, একে একে। এখানেও প্রয়োজন পরিকল্পনার। কোন দায়িত্ব আগে আর কোনটা পরে তা বুঝিয়ে দিন। এ ব্যাপারেও আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে।

 

তিন.

দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চলতে থাকবে তদারকি। দায়িত্ব পাওয়ার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত নতুন সদস্যটির আচরণগত পরিবর্তন লক্ষ করুন। নিজের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এই বাড়তি দায়িত্ব তিনি কতটা সফলভাবে পালন করতে পারছেন। তার চেয়েও জরুরি হচ্ছে, কতটা চেষ্টা তিনি করছেন। এখানে তাঁর যোগ্যতার চেয়েও প্রচেষ্টার মাত্রা লক্ষণীয়।

 

চার.

খেয়াল রাখবেন, আপনার ছোট্ট তালিকায় যাঁরা কাজ করছেন তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন। ফলে ওভার স্মার্টদের সামলে রাখুন। কে বিশ্বস্ত, কে নিবিষ্ট অনুসারী, কে নিজের চেয়েও দলের কথা ভাবে। একই স্তরে থেকেও কার ভাবনা ও কার্যক্রম সংযত, তা বুঝে নিন।

পাঁচ.

আপনার এই প্রস্তুতি যতটা সম্ভব গোপন রাখুন। মনে রাখবেন, আপনার শুভাকাঙ্ক্ষীর চেয়ে আপনার প্রতিযোগী এবং সম্ভাব্য প্রতিযোগীর সংখ্যা অফিসে সব সময় বেশি।

 

ছয়.

‘যাঁদের দায়িত্ব দিলেন’ আর ‘যাঁদের দায়িত্ব দিলেন না’ তাঁদের মধ্যকার সম্পর্ক ও আচরণ লক্ষ করুন। তারা কিন্তু একই পদে কাজ করছেন, হয়তো একই কাজ করছেন। কেউ বড় দায়িত্ব পেল, আপনার ঘনিষ্ঠ হলো, আর অন্যরা সে সুযোগ পেলো না। সুযোগ বঞ্চিতরা যেমন ক্ষুণ্ন হবে, তেমনি সুযোগপ্রাপ্তরা পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাঁদের রক্ষা এবং অন্যদের নিজ নিজ কাজে মনোযোগী করাও আপনার দায়িত্ব।

 

সাত.

ব্যবস্থাপনার এই বাস্তব ক্ষেত্রগুলো এতটাই প্রেক্ষাপট আর মনস্তাত্ত্বিকনির্ভর যে এখানে ধ্রুব বলে খুব সামান্য কিছুই আছে। ফলে মধ্যম স্তরের নেতৃত্ব তৈরি করার সময় এর ফলাফল প্রথম স্তরের নেতৃত্বে কতখানি প্রভাব ফেলেছে তাও লক্ষ রাখুন। না হলে পুরো উদ্দেশ্যই ভেস্তে যাবে। তবে এটা মানতেই হবে, একজন বস হিসেবে আপনার দলের সদস্যদের মধ্যে নেতৃত্ব গড়ে তোলা আপনার অন্যতম কর্তব্য। উল্লিখিত উদ্দেশ্য ছাড়াও এ কর্তব্য পালনীয়।

 

আট.

‘ক্ষমতা পাওয়া’ আর ‘ক্ষমতার সঠিক ব্যবহার জানা’ এ দুটি আলাদা ব্যাপার। যাঁরা বাড়তি কাজের সুযোগ পাচ্ছেন তাঁরা পাছে নিজেদের ক্ষমতাবানও ভাবতে শুরু করেন। বিষয়টি তাঁদের জন্য রোমাঞ্চকর সন্দেহ নেই। ফলে আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে।

 

নয়.

অন্যকে হাল ধরার সুযোগ দেওয়া মানে আপনার হাল ছেড়ে দেওয়া নয়। যদি তাই হয়, তাহলে সমূহ বিপদ। ফলে আপনাকে অবশ্যই হাল ধরে থাকার পাশাপাশি হাল শেয়ার করতে হবে। হাল পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া যাবে না।

 

দশ.

প্রতি সপ্তাহে দক্ষতা মূল্যায়ন করুন। আপনাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে এদের মধ্যে কাকে বাদ  দেবেন। সিদ্ধান্ত নিতে হবে চূড়ান্তভাবে কাদের নিয়ে এগিয়ে যাবেন। যাঁদের চূড়ান্ত করলেন তাঁদের ওপর আরেকটু বড় দায়িত্ব ছাড়ুন। উচ্চতর সিদ্ধান্তের মাঝেমধ্যে মতামত দেওয়ার সুযোগ দিন। এভাবে ধাপে ধাপে এগিয়ে চলতে হবে। সবশেষে নজর দিতে হবে প্রথম স্তরের নেতৃত্বের সঙ্গে মধ্যম স্তরের নেতৃত্বের সমন্বয়ের দিকে, যা আসলে আপনার ও প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্দেশ্যও বটে।



মন্তব্য