kalerkantho


প্রিয় বন্ধু হতে

অনেকেই আছেন, যাঁদের জীবনে বন্ধু খুবই কম। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও সহযোগী অধ্যাপক মেখলা সরকার জানিয়েছেন কিভাবে প্রিয় বন্ধু হতে হয়। শুনেছেন এ এস এম সাদ

১৫ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



প্রিয় বন্ধু হতে

প্রিয় বন্ধু বলতে এমন একজন মানুষকে বোঝায়, যার সঙ্গে আমরা সব বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারি। আস্থার সঙ্গে নিজেদের সুখ-দুঃখের ব্যাপারগুলো ভাগাভাগি করে নিতে পারি।

অনেক সময় চায়ের টেবিলে কারো সঙ্গে সময় অতিবাহিত করার মাধ্যমে বন্ধুত্ব তৈরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে আলোচনা খুব বেশি গভীর হয় না বলা যায়। দিনযাপন নিয়ে অর্থাত্ বাহ্যিক ব্যাপারগুলো নিয়েই কথা বলা হয়। এটা এক রকমের বন্ধুত্ব।

আরেক রকম হচ্ছে, পেশাদারি বন্ধুত্ব। এ ক্ষেত্রে শেয়ারিং ব্যাপারটা একটা সীমার মধ্যে থাকে। আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার জায়গা কিংবা অফিশিয়াল কাজের ব্যাপারগুলো পেশাদারি বন্ধুত্বের মধ্যে পড়ে। যে কোনোভাবেই ভালো বন্ধুত্ব হতে পারে, তবে সব ক্ষেত্রেই আস্থার ব্যাপারটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।  

ভালো বন্ধু হওয়ার অন্যতম দিক হলো, বন্ধুর প্রতি যত্ন নেওয়া এবং তার মতামতকে সম্মান করা। আমাদের প্রত্যেকের একটি নিজস্ব চিন্তা-চেতনার জায়গা থাকে। প্রিয় বন্ধু সেই, যে অন্য বন্ধুর চিন্তার জায়গা বোঝে, মনোযোগ সহকারে তার কথা শোনে এবং তার কথার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে।

 

কিভাবে ভালো বন্ধু হওয়া যায়

♦    ভালো বন্ধুত্ব হওয়ার জন্য সবচেয়ে প্রথম যেটি গুরুত্বপূর্ণ সেটি হলো বন্ধুর সঙ্গে সুন্দর সময় কাটানো। কোনো মানুষের সঙ্গে আপনি যত বেশি সময় কাটাবেন তত বেশি সম্পর্কের উন্নতি হবে।

♦    বন্ধুত্ব তাদের সঙ্গেই হবে, যাদের সঙ্গে আমাদের আচরণ এবং মতের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। সব ক্ষেত্রে মিলবে তাও না; কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মতের মিল হবে।

♦    বন্ধুত্ব গড়ে উঠবে আস্থার মাধ্যমে। একজন নিজের মনের গোপন কথা শেয়ার করল আপনার সঙ্গে; কিন্তু কথাটার গোপনীয়তা আপনি রাখতে পারলেন না—এমনটা যেন না হয়। বন্ধুর আস্থা অর্জন করতে হবে।

♦    বন্ধুর কথাগুলো মনোযোগ সহকারে শোনা। এমন যেন না হয়, আপনিই সব কথা বলে যাচ্ছেন অথচ আপনার বন্ধু তার কথা বলার সুযোগই পাচ্ছেন না। অন্য পক্ষের কথা মনোযোগ সহকারে শোনার সঙ্গে সঙ্গে তার কথা বুঝতেও হবে। 

♦    পরস্পরের আগ্রহ সম্পর্কে জানতে হবে। কোনো একটি বিষয় সম্পর্কে সেই মানুষের মতামত কী তা জানতে  হবে। নিজে থেকেই তার খোঁজ নিতে হবে নিয়মিত। জিজ্ঞেস করতে হবে সে কেমন আছে, অবস্থা কী।

♦    বিপদের সময় ভালো বন্ধুত্ব দাবি রাখে যে, না বললেও প্রিয় বন্ধু যেন এগিয়ে আসে। অনেক সময় বন্ধুর আর্থিক সমস্যা হতে পারে; কিন্তু সে মুখ ফুটে বলতে না-ও পারে, তখন আপনারই বুঝে নিতে হবে এবং সাধ্যমতো সাহায্য করতে হবে। 

♦    একজন মানুষের সঙ্গে  দীর্ঘ সময় কাটানোর পর আরেকজনের ভালো-মন্দ সব কিছু জানা যায়। ভালো বন্ধু হওয়ার শর্ত হচ্ছে অপর ব্যক্তির খারাপ দিকগুলো জানা সত্ত্বেও তার সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখা। তবে তার সেই দিকগুলো তাকে সংবেদনশীলতার সঙ্গে বুঝিয়ে বলতে হবে, যেন তা সে বুঝতে পারে।

ভালো বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্কে টানাপড়েন হলে কিভাবে সমাধান করতে হবে

♦  বন্ধুত্বের সম্পর্কটা সম্পদের মতো। অনেক সময় এমন হতেই পারে যে প্রিয় বন্ধুর কোনো আচরণ ভালো লাগছে না, তখন উচিত হবে সেই বিষয়টি সরাসরি বলে ফেলা। তবে খেয়াল রাখতে হবে অপর পক্ষ যেন তাতে আঘাত না পায়।

♦    প্রিয় বন্ধুর আচরণে পরিবর্তন কিংবা ত্রুটি-বিচ্যুতি দেখা দিতেই পারে, সে ক্ষেত্রে আপনি তা গ্রহণ করুন। তার পরিবার কিংবা পরিস্থিতির কারণে তার এই পরিবর্তন হতে পারে। সেটা সংবেদনশীলতার সঙ্গে বুঝে নিতে হবে আপনাকেই।

♦    অনেক সময় বন্ধুত্বের মধ্যে কোনো বিষয় নিয়ে ঝগড়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, এ সময় বন্ধুত্ব নষ্ট না করে কিছু দিন সময় নেওয়া উচিত। 

♦    সম্পর্কে টানাপড়েন হলে পরস্পরের প্রতি আঙুল তোলা একদম ভুল।

♦    আপনার প্রিয় মানুষটির অনেক মতের সঙ্গে আপনার মতের মিল না-ও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তাকে দোষারোপ না করে সেগুলোকে এড়িয়ে চলুন আপন দক্ষতায়।

♦    ছোটখাটো ব্যাপারগুলোর জন্য তার সঙ্গে সম্পর্কের বিচ্ছেদ করবেন না। কারণ অনেক দিনের ধীরে ধীরে গড়ে তোলা সম্পর্ক নষ্ট করলে অনেক বড় প্রভাব মানুষের জীবনে পড়ে।



মন্তব্য