kalerkantho


ইন্টেরিয়র

স্বস্তির ছাদ বাগান

ছাদ বাগানের সঠিক পরিচর্যা ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে চিন্তিত? রেডিয়েন্ট ইনস্টিটিউট অব ডিজাইনের চেয়ারপারসন গুলসান নাসরিন চৌধুরী ও সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ জানাচ্ছেন নাঈম সিনহা

১৫ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



স্বস্তির ছাদ বাগান

জমি আর ছাদ বাগানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ছাদ বাগানের চাই বিশেষ যত্ন। ছাদে গাছ লাগানোর পদ্ধতি, ছাদের উপযোগী গাছ নির্বাচন ও অন্যান্য পরিচর্চার বিষয় মাথায় রাখতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, আধুনিক লুকের বিষয়টিও।

ছাদ বাগানের বিন্যাস

ছাদে বাগান করতে হলে যে শুধু টবেই গাছ লাগাতে হবে এমন নয়। ছাদের একপাশে মাটি ফেলে সেখানে বিছিয়ে দিতে পারেন সবুজ ঘাসের চাদর। তবে সে ক্ষেত্রে আগে ফ্লোর তৈরি করতে হবে। তাতে ছাদ ড্যাম বা লিক হওয়ার শঙ্কা থাকবে না। ফ্লোর তৈরি করতে মূল মেঝে থেকে কয়েক ইঞ্চি উঁচু করে বিশেষ ঢালাই দিতে হবে। চাইলে ৬ ইঞ্চি পিলার দিয়ে কিছুটা উঁচুতে ফ্লোর তৈরি করতে পারেন। এ জন্য বাজারে বিশেষ ওয়াটারপ্রুফ প্লাস্টার পাওয়া যায়। সবুজ লনের পাশেই বানাতে পারেন মার্বেল টাইলসের চেয়ার।

টব রাখতে চাইলে খেয়াল রাখুন, সেটি যাতে মেঝে থেকে ওপরে থাকে। সে ক্ষেত্রে আয়তাকার রট আয়রনের তাক বানিয়ে টব রাখতে পারেন। সেটি ছাদের একটি রেলিংয়ের পাশে থাকল। এতে টবের মাটি, পানি যা-ই পড়ুক তা আটকে থাকবে না, সহজেই পরিষ্কার করা যাবে। জায়গা কম থাকলে সিঁড়ির মতো তাক বানিয়ে গাছ সাজিয়ে রাখতে পারেন। বিশেষ করে ক্যাকটাসের মতো ছোট গাছ।

ছাদের পশ্চিম কোণে বানাতে পারেন বাঁশঝাড়। টবে কিংবা আয়তাকার কংক্রিটের ঘেরাওয়ের ভেতর মাটি ফেলেই লাগাতে পারেন। পূর্ণিমা রাতে ঝাড়ের পাশে বসে হবে জ্যোত্স্না বিলাস। বাজারে এখন চায়নিজ বিশেষ বাঁশগাছ কিনতে পাওয়া যায়।

বাঁশঝাড়ের পাশেই ফ্লোর তৈরি করে ছোট্ট জলাধার বানিয়ে নিন। সেখানে ছেড়ে দিতে পারেন রঙিন মাছ, লাগাতে পারেন শাপলা। ইলেকট্রিক পাম্প লাগিয়ে দিলে সহজেই পানি পরিষ্কার থাকবে।

 

রং বৈচিত্র্য

বাগানের গাছের রঙের সঙ্গে বৈচিত্র্য রেখেই ছাদের রঙের বিন্যাস করুন। ছাদে মূলত সিঁড়ির পাশের একটি বড় দেয়াল পাওয়া যায়। তাক লাগিয়ে দিতে চাইলে দেয়ালটিকে গাঢ় বেগুনি, ম্যাজেন্টা বা লাল রঙে রাঙিয়ে দিন। একাধিক বা এল শেইপ দেয়াল থাকলে নীল-বেগুনি, লাল-গেরুয়া কালার কনট্রাস্ট করতে পারেন। তার সামনে সাজিয়ে রাখুন পছন্দের সব পাতাবাহার গাছ। ছাদের ফুলের টবগুলো সাদা বা অফহোয়াইট হলেই ভালো হয়। ছাদের রেলিংয়েও একই রং মানাবে।

 

কী গাছ লাগাবেন

ছাদে বাগানের গাছ নির্বাচনের সময় খেয়াল রাখতে হবে গাছ যেন বড় আকারের না হয়। ছোট বারোমাসি ফুলগাছ হলেই বেশি ভালো। যেমন : টগর, গোলাপ, নয়নতারা, গন্ধরাজ। ফলের গাছ হলে অবশ্যই সেটি মাঝারি আকৃতির হতে হবে। যেমন : আম, পেয়ারা, ডালিম, করমচা। এখন ছাদের জন্য বিশেষ হাউব্রিড ফুল ও ফলের গাছ পাওয়া যায়। কলমের চারা লাগাতে পারেন, এতে অতিদ্রুত ফুল, ফল পাওয়া যাবে। বিশ্বস্ত নার্সারি থেকে গাছ সংগ্রহ করতে পারলে ভালো।

ছাদ বাগানের পরিচর্চা করতে হবে নিয়মিত

বাগান প্রস্তুতি

ছাদ বাগানের প্রস্তুতি নিয়ে পূর্বাচলের তুলি নার্সারির আব্দুল মজিদ সরদার জানালেন, গাছের আকার যত বড় হবে, গাছ লাগানোর পাত্র তত বড় হবে। ফলের বাগানের জন্য হাফ ড্রাম বেছে নেওয়া ভালো। ড্রামের নিচে ছিদ্র করতে হবে। ড্রামের নিচের দিকে এক ইঞ্চি পরিমাণ ইটের খোয়া এবং তার ওপরে এক ইঞ্চি পরিমাণ জৈব সার বা পচা গোবর দিতে হবে। এতে অতিরিক্ত পানি সহজেই বের হয়ে যাবে। গাছের জন্য সবচেয়ে ভালো দো-আঁশ মাটি। ফুল বা ফল সব গাছই এই মাটিতে ভালো হয়। মাটি অবশ্যই ঝরঝরে করে নেবেন। ১৬ থেকে ১৮ ইঞ্চি আকারের টবের জন্য জৈবসারের পাশাপাশি ১০০ গ্রাম টিএসপি এবং ৫০ গ্রাম এমওপি ব্যবহার করতে হবে। মাটিতে সার ভালোভাবে মেশার জন্য ১০ থেকে ১২ দিন রেখে দেবেন। 

 

গাছের যত্ন-আত্তি

গাছে নিয়মিত পানি দেওয়ার পাশাপাশি খেয়াল রাখতে হবে যেন গোড়ায় পানি না জমে। সপ্তাহে এক দিন গাছের পাতায় পানি স্প্রে করুন। গাছের গোড়ায় এমনভাবে পানি দিন, যাতে মাটি না ধুয়ে যায়। গাছ হেলে পড়লে শক্ত কিছুর সঙ্গে বেঁধে দিতে হবে। প্রতি মাসে টবের মাটি নিড়ানি দিয়ে আলগা করে দিতে হবে। প্রতি তিন মাস পর পরই জৈব সার ব্যবহার করতে হবে। পচা গোবর, প্যাকেটজাতীয় কমপোস্ট সার, খৈল অথবা বাসায় ব্যবহূত সবজির খোসা পচিয়ে জৈবসার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। গাছে পোকার উপদ্রব হলে আক্রান্ত পাতা, ফুল বা ডাল কেটে ফেলতে হবে। আর সম্পূর্ণ গাছে সাবান-পানি দিয়ে স্প্রে করতে হবে। প্রথমদিকে নার্সারির অভিজ্ঞ কারো সঙ্গে মাসে দু-একবার পরামর্শ নিতে পারেন।

 

বাগান সজ্জা

ছাদে বাগান তো হলো। এবার এখানে একটু অবসর কাটানোর ব্যবস্থা করতে পারলেই ষোলকলা পূর্ণ হয়। কিছু রঙিন পাথর টবের চারপাশ ঘিরে দিলে দেখতে ভালো দেখাবে। সিঁড়ির পাশের দেয়ালে পাটের শিকায় ঝুলিয়ে দিতে পারেন মানিপ্লান্ট। রাখতে পারেন রড আয়রনের দোলনা। রাতে বাড়তি সৌন্দর্য যোগ করতে গাছের ফাঁকে ফাঁকে স্পটলাইট লাগাতে পারেন। বেশ একটা আলো-আঁধারের খেলা জমে উঠবে। তবে খেয়াল রাখুন আলো যাতে হালকা হয় আর সরাসরি চোখে না পড়ে।



মন্তব্য