kalerkantho


পূজার পাঁচ লুক

শারদীয় উত্সবের পাঁচ দিনে অপর্ণা ঘোষ সাজবেন আলাদা সব লুকে। ষষ্ঠী থেকে দশমীর সেই লুক কী হবে তা বলেছেন জিনাত জোয়ার্দার রিপাকে

১৫ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



পূজার পাঁচ লুক

সাজ : অরা বিউটি লাউঞ্জ, পোশাক : বিশ্বরঙ , ছবি : আবু সুফিয়ান নিলাভ, বিশেষ কৃতজ্ঞতা : শ্রীশ্রী রমনা কালী মন্দির ও দেশাল,

ষষ্ঠীতে ফিউশন

ষষ্ঠীতেই শুরু হয়ে যাবে ঘোরাঘুরি। শুরু করতে চাই ফিউশন দিয়ে। পোশাকে তাই গাউন পরব। সাজে ন্যুড স্মোকি টোন। পূজার পাঁচ দিনই উজ্জ্বল সব রঙের পোশাক পরব। গাউনে লাল রং পছন্দ। সিল্কের ইনারে নেটের গাউনে থাকবে লেইসের নকশা। কেপ হাতায় চুমকির কাজ। সাজের ক্ষেত্রে এই সময় বেইজ খুব খেয়াল করে দিতে হয়। যাতে গরমে, ঘামে গলে না পড়ে, তাই আগে অবশ্যই মুখে বরফ ঘষে নেব।

তারপর বেইজ। ন্যাচারাল টোনই নেব বেইজে।

আমার কাছে চোখের সাজ খুব গুরুত্বপূর্ণ। চোখের সাজে থাকবে টানা ভাব। দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকার জন্য কাজল এড়িয়ে কালো আই শ্যাডো দেব গাঢ় টোনে। মাশকারা মাস্ট। সঙ্গে থাকা পার্সে থাকবে টাচ আপ তুলি, মাশকারা আর লিপস্টিক। যাতে করে দরকার পড়লেই একটু বুলিয়ে নেওয়া যায়। গাউনের সঙ্গে চুল হালকা পাফ করে ছেড়ে দেব। লোয়ারে কার্ল করব। শেষটায় ঠোঁটে বুলিয়ে দেব হালকা শেডের লিপস্টিক। আর গয়নায় শুধু কানে থাকবে দুল। এই আমার ষষ্ঠী লুক।

 

অষ্টমীতে সিল্কের শাড়ি

অষ্টমীতে বেশ একটা সাজ দেব। যেহেতু সিল্কের শাড়ি পরব আর শাড়িটাও নানা রঙে রঙিন, তাই সাজে থাকবে না কোনো কার্পণ্য। আমার অষ্টমীর সিল্কের শাড়িতে ম্যাজেন্টা, কমলা, হলুদ, কালোসহ নানা রঙের শেড থাকায় সাজে তা বরং আমাকে খানিক স্বাধীনতা দেবে। বসে বসে ভাবতে হবে না, কিসের সঙ্গে কী মেলাব। যেকোনো কিছুর কন্ট্রাস্টই ভালো লাগবে। এদিন মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরব। থাকবে আলোর রোশনাই, তাই সিল্কের শাড়িই এ দিনে পারফেক্ট। সাজের বেইজে বরাবরের মতো স্থায়ী টোনের প্রতি খেয়াল থাকবে। চোখ আর আই ব্রোও হবে গাঢ় টান ও টোনের। বাড়তি পরব আইল্যাশ। নয়তো শাড়ির সঙ্গে চোখ যেন ঠিক ফুটবে না। ঠোঁট এবার গাঢ় চাই। শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে ম্যাজেন্টা রংই বেছে নেব। লিপস্টিক টোন গ্লসি দিতে চাই। বাড়তি সতর্কতার জন্য তাই পার্সে সেটি আলাদা করে তুলে রাখতে ভুলব না। যেন মুছে গেলেও বুলিয়ে নেওয়া যায়। ব্লাউজ পরব সাবেকী কাটের। কুচি হাতায় থাকবে মোটা লেইসের কাজ। নেক-শোলডার হাইলাইট করবে সোনালি সরু লেইস। গয়নাও বেছে নেব সাবেকী নকশা। যেহেতু কানে বড় দুল পরব, তাই গলায় আর আলাদা করে কিছু পরব না।

 

সপ্তমীতে মেলায় যাব

পূজায় মেলা ঘুরব না তা আবার হয় নাকি! সপ্তমীর দিনটিকে বেছে নিয়েছি মেলায় ঘোরার জন্য। পরব লং ফ্রক। ঘোরাঘুরিতে আরামের জন্য। এ দিনেও বেইজ থাকবে টু টোনের, যাতে অনেকক্ষণ বাইরে থাকলেও ম্যাড়মেড়ে না লাগে। চোখের সাজে গাঢ় টোন বজায় থাকবে এই দিনের লুকেও। কালো আইশেডোর টান থাকবে কয়েক পরতে। থাকবে মাশকারার টানও। আই ব্রো গাঢ় আর মোটা দাগে আঁকব, যেন বেশি সময় স্থায়ী হয়। ডিপ পার্পল লিপস্টিকে সাজাব ঠোঁট। শেষটায় গালের দুই পাশটায় বুলিয়ে দেব ব্লাশন। আমার ফ্রকটা যেহেতু অনেক কালারফুল, তাই সাজে এর চেয়ে ভারী আর কিচ্ছুটি নয়। চুল মাঝ বরাবর সিঁথি করে দুই পাশ থেকে এক গোছা চুল বের করে মুড়িয়ে পেছনে আটকে দেব ক্লিপ দিয়ে। লোয়ারে শুধু ব্লো ডাই করে ছেড়ে দেব চুল।

 

পূজার সাজে মাথায় রাখুন

পূজার সাজের কিছু টিপস দিয়েছেন এভারগ্রিন অ্যাডামস অ্যান্ড ইভের রূপ বিশেষজ্ঞ নাহিদ আফরোজ তানি

♦    সপ্তমী, অষ্টমী, নবমীতে সাজুন নিজের ইচ্ছেমতো। কিন্তু দশমীর দিনটা তো একটু আলাদাই। এদিন সবাই চায় পূজার আমেজে নিজেকে সাজিয়ে তুলতে। দশমীর দিনের শাড়ির পাড়টাতে নজর দিন। বেছে নিন বাহারি পাড়ের শাড়ি। জমিন কিন্তু সাদা বা লালই চাই। লাল-সাদা ঢাকাই জামদানিও বেশ দেখাবে। আর লালপেড়ে গরদের আবেদন তো চিরন্তন। মসলিন বা সিল্কের শাড়িও এবার চলছে বেশ।

♦    শাড়িতে কম কাজ থাকলে ব্লাউজটা নকশাদার বেছে নিন। লম্বা হাতার, কুঁচি দেওয়া ব্লাউজ অন্য লুক আনবে। গয়নাটাও চাই মানানসই। সোনার গয়না এখন তেমন পরা হয় না। অ্যান্টিক ধাঁচের গয়নার চল এখন।

♦    এখন আবহাওয়া বেশ গরম। তাই সবার আগে মাথায় রাখতে হবে, সময়। এমন পোশাক পরবেন, যাতে আরাম এক শ শতাংশ থাকে।

♦    মেকআপ যেন ভালো করে বসে সে জন্য আগে স্ক্রাবিং করে নিন। তারপর ত্বক অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার আর প্রাইমার লাগিয়ে নিন। ম্যাট ফাউন্ডেশন ব্যবহার করুন। মনমতো চোখ সাজান।

♦    মাথায় রাখবেন পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে একই কালার না ব্যবহার করে আইশ্যাডোর ক্ষেত্রে কন্ট্রাস্ট কালার বেছে নিন। চোখের মেকআপে এক সঙ্গে কয়েকটা রং ব্যবহার করলে চোখের দীপ্তি বহুগুণে ফুটে ওঠে।

♦    নাকের আগায়, কপালের মাঝখানে আর ঠোঁটের নিচে হাইলাইটার লাগিয়ে দিন।

♦    চোখে ভারি মেকআপ নিলে অবশ্যই ঠোঁটে লাগান হালকা গোলাপি, ন্যুড, পিচ, বারগেন্ডি, পার্পল, পিঙ্কের মতো হালকা টোনের লিপস্টিক। ম্যাট ফিনিশড লিপস্টিক দিনের সাজে ভালো লাগে। রাতে গ্লসি লিপস্টিক।

♦    চোখের হালকা সাজের সঙ্গে গাঢ় রঙের লিপস্টিক ব্যবহার করুন। কোরাল, রেড, চেরি, ডার্ক মেরুন, বেরি শেডের লিপস্টিক হতে পারে আদর্শ রং।

♦    ব্লাশ ব্যবহার করুন নিজের গায়ের রং অনুযায়ী।

♦    আগেভাগেই চুল বাঁধার কয়েকটি ধরন রপ্ত করে রাখতে পারেন। পূজায় পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে ঝটপট চুলের সাজটি সেরে নিতে আর বেগ পেতে হবে না।

♦    কানের দুল, গলার মালা, নাকের নথ, খোঁপার কাঁটা, সিঁথিতে সিঁদুর এসবই পূজার সাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। আগেই এগুলো গুছিয়ে রাখুন। হাতের শাঁখা-পলাও ঠিক তেমনই। সাজের বিশেষত্ব, পোশাকের ধরন, নিজের পছন্দ ও ব্যক্তিত্ব বুঝে বেছে নিন অনুষঙ্গ।

♦    সিঁথিতে সিঁদুর দেওয়ার ভিন্ন ভিন্ন ধরন আছে। পূজার আগে সেগুলো দেখে নিতে পারেন।

♦    এবার ফ্যাশন ঝোলা ব্যাগ ক্যারি করা। তবে সে ক্ষেত্রে পূজার ভিড়ে ব্যাগের দিকে খেয়াল রাখতে ভুলবেন না।

 

নবমীতে সিম্পল

নবমীতে ঘুরব, খাব আর বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেব। পোশাক, সাজ দুই-ই থাকবে সহজ। হালকা বেইজে টানা চোখ। পোশাকে কূর্তি, রঙে লাল। পূজার সঙ্গে আসলে লালের যেন এক মাখামাখি সম্পর্ক আছে। সেটা ঠিক ইচ্ছা করলেও এড়িয়ে যাওয়া যায় না। আমার লেয়ার কূর্তির ওপরের অংশে আছে সুতা আর সিলভার চুমকির কাজ। পোশাকটাই বেশ একটু জমকালো বলে সাজে হালকা টোন খারাপ লাগবে না। চুল খানিকটা ছেড়ে রেখে হালকা বাঁধনে বেণি করব। রুপার কানের দুলের সঙ্গে অনুষঙ্গে থাকবে হাতঘড়ি।

 

দশমীর অঞ্জলি দশমীর সাজ

মানেই লালপেড়ে সাদা শাড়ি। আমার শাড়িতে সাদা-লাল পাড়ের সঙ্গে আছে কালোর কম্বিনেশন। হাইনেক ব্লাউজের হাতায় ও নেকে আছে সুতার কারুকাজ। দশমীর অঞ্জলিতে জমকালো ভাব তো থাকতেই হবে। সাজে এক্কেবারে বাঙালিয়ানা থাকবে। চোখের নিচে ঘন কালো শেড আর টানা লাইনার, টকটকে লাল লিপস্টিক, স্নিগ্ধ মেকআপ আর সিঁদুর। আর কী চাই? কার্ল করে চুলগুলো ছেড়েই রাখব। হাতে শাখা-পলা আর কপালে বড় লাল টিপে পরিপূর্ণ আমার দশমীর সাজ।



মন্তব্য