kalerkantho


আচরণে উদ্ধত?

নিজের রাগ, হতাশা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে আচরণে তা উদ্ধত ভঙ্গিতে প্রকাশ পায়। সৃষ্টি হয় নানা সমস্যা। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং সহকারী অধ্যাপক মেখলা সরকার আচরণের ঔদ্ধত্য নিয়ে বলেছেনজরুরি কিছু কথা। শুনেছেন এ এস এম সাদ

১ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০




আচরণে

উদ্ধত?

পরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে প্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধব ও কর্মক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত আমাদের অন্য মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে চলতে হয়।

জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে যদি সবার সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ আমরা করি, তাহলে আমাদের জীবন সুন্দর হয়ে ওঠে। কিন্তু সমস্যা তখনই ঘটে থাকে, যখন আমরা আমাদের স্বাভাবিক আচরণের ব্যত্যয় ঘটিয়ে হঠাৎ রেগে যাই।

কারো কথা বা কাজ আপনার কাছে ভালো না লাগতেই পারে, তবে তার জন্য অসংযত আচরণ কিংবা অযাচিত কথা বলা বা রেগে গিয়ে হাতের কাছে যা পাচ্ছেন তাই ছুড়ে বা ভেঙে ফেলা—এসব কিছুই পরিহার করতে হবে।

আচরণের ঔদ্ধত্য কী

ব্যক্তির যে স্বাভাবিক আচরণ তার পরিবর্তন করে রাগের মাধ্যমে চিত্কার-চেঁচামেচি কিংবা প্রত্যাশিত যে আচরণ তা না করে ব্যক্তিকে অপমান বা ছোট করে কথা বললে আচরণে ঔদ্ধত্য প্রকাশ পায়। আবার অনেক ক্ষেত্রে  রাগ প্রকাশ না করেও পরোক্ষভাবে ব্যক্তিকে এড়িয়ে চলাও উদ্ধত আচরণ। এর কারণ অন্যের কোনো আচরণ ঠিকমতো গ্রহণ না করতে পারা।

এই সমস্যা একটা সম্পর্কের ক্ষেত্রেও হতে পারে। কোনো একজন নির্দিষ্ট মানুষের কাছ থেকে যে রকম ব্যবহার পাওয়ার কথা সেটা যদি না পাওয়া যায় তাহলে অনেক সময় আচরণে ঔদ্ধত্য প্রকাশ পেতে পারে। 

মানুষের ঔদ্ধত্য প্রকাশ মূলত রাগেরই বহিঃপ্রকাশ। নির্দিষ্ট কারণে কোনো ব্যক্তির যদি আরেকজনের ওপর রাগ থাকে তাহলে সে এই রকম আচরণ করে থাকতে পারে।

আচরণে এই দুষ্টতার কারণে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও থাকতে পারে। আমাদের একটি আচরণ একেকজন একেকভাবে নিয়ে থাকে এবং পরে এর প্রভাব খারাপভাবেও পড়তে পারে।

সামাজিক যোগাযোগ বা সম্পর্কে অদক্ষতার কারণেও মানুষের আচরণে ঔদ্ধত্য প্রকাশ পেয়ে থাকে। মানুষ অনেক সময় কোনো কিছু পাওয়ার জন্যও উদ্ধত হতে পারে। কিন্তু এটি দীর্ঘমেয়াদে ভালো কোনো ফল দেয় না।

‘আমিই ঠিক’ এই মনোভাবও আচরণে উদ্ধত করে তোলে ব্যক্তিকে।

কিভাবে ঔদ্ধত্য আচরণ ঠিক করা যায়

♦ কোনো কথা বলার আগে চিন্তা করে নিতে হবে যে আমি কী বলছি। হঠাৎ রাগের মাধ্যমে আমাদের মনে যা আসে তা না বলে আমরা একটু চিন্তা করে সে কথাটা বলতে পারি। দরকার হলে অপর ব্যক্তির কাছ থেকে সময় চেয়ে নেওয়া ভালো।

♦ রাগ হবেই, কিভাবে এর বহিঃপ্রকাশ করা যায়, তা সম্পর্কে জানতে হবে। ইউটিউবে বিভিন্ন  মোটিভেশনাল স্পিচ শুনে নিজের আচরণকে আরো বেশি উন্নত করা যায়।

♦ অনেকেই সামাজিক যোগাযোগে অদক্ষতার কারণে কিভাবে অন্যের সঙ্গে আচরণ করতে হয়, তা বুঝতে পারেন না। সামাজিক দক্ষতা কিভাবে বাড়ানো যায় তা জানার চেষ্টা করতে হবে। দরকার হলে এ বিষয়ে চর্চা করতে হবে।

♦ কোনো জায়গায় আচরণে সমস্যা থাকলে সেটা নিয়ে কাজ করা। দরকার হলে বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়-স্বজন কিংবা পরিবারের সঙ্গে কথা বলা।

♦ প্রতিনিয়ত আমরা অনেক মানুষের সঙ্গে কথা বলে থাকি আমাদের কাজের খাতিরে কিংবা অন্যান্য ক্ষেত্রে। এমন সময় কারো আচরণে ক্ষুব্ধ কিংবা কষ্ট পেলে মনের ভেতর রাগ পুষে রাখবেন না। অবশ্যই অপর ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে তাঁকে জানানো যে এই ব্যাপারটায় আপনার সমস্যা হচ্ছে। তাহলে পরবর্তী সময়ে সমস্যা অনেকাংশেই কমে আসবে। 

♦ অনেকেই নিজের পরিবারের বাইরে কারো সঙ্গে কথা বলতে লজ্জা পেয়ে থাকেন। এটি পরিহার করে সামাজিক মেলামেশা বাড়াতে হবে। এতে আরেকজন মানুষ এবং তাদের আচরণ সম্পর্কে জানা সম্ভব হবে।

♦ শোনা সব কথাই কানে নেওয়াটা ঠিক নয়। কিছু কথা ছেড়ে দেওয়াই ভালো। এতে নিজের মানসিক উন্নতি বিকাশের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাসও বৃদ্ধি পায়।

♦ কেউ যদি পারস্পরিক সম্পর্কে কোনো সমস্যায় পড়েন, তবে ঠাণ্ডা মাথায়, পরিস্থিতি বুঝে সেটা মোকাবেলা করতে হবে। অন্যের খারাপ আচরণের সম্মুখীন হলেও নিজে ভালোভাবে কথা বলতে হবে।

♦ রাগ হলে বা হতাশা এলে এর কারণ খুঁজতে হবে। কারণ গভীর হলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

 



মন্তব্য