kalerkantho


আপনার শিশু

শিশুর সুস্বাস্থ্যের জন্য

মেরীনা চৌধুরী   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



শিশুর সুস্বাস্থ্যের জন্য

বড়দের চেয়ে ছোটদের শরীর তাড়াতাড়ি গরম হয়। তাদের শরীরের টেম্পারেচার রেগুলেটিং সিস্টেম বড়দের মতো অত তাড়াতাড়ি শরীর ঠাণ্ডা করতে পারে না। সে জন্য ছোটদের ব্যায়াম করার সময় পানীয়জাতীয় খাবার গ্রহণ করা উচিত। বেশির ভাগ বাচ্চার কোনো ধারণাই নেই, কিভাবে বিভিন্ন ব্যায়ামের সময় ভাগ করে নিতে হয়

 

প্রত্যেক মা-বাবা চান স্বাস্থ্যবান শিশু; কিন্তু এই সময়ের শিশুরা নড়াচড়া বা খেলাধুলা করতে চায় না। ভুলে গেলে চলবে না, খেলাধুলাই হচ্ছে শিশুর স্বাস্থ্যবান হওয়ার বড় মন্ত্র। আজকের জীবনযাত্রার ধরনও ছোটদের কুঁড়ে তৈরি করে দিচ্ছে। এখন ছোটরা হাঁটে কোথায়? বাসে নয়তো গাড়িতে করে স্কুলে যাচ্ছে—সিঁড়ি ভেঙে ওঠার বদলে লিফটে উঠছে, নামছে। স্কুলের পড়াশোনার চাপে খেলাধুলা প্রায় হয় না বললেই চলে। কয়টা স্কুলের নিজস্ব মাঠ বা জিম আছে?

এদিকে অত্যধিক ফাস্ট ফুড খাওয়ার দৌলতে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়াশোনার জন্য এবং টিভির সামনে ঠায় বসে থাকার ফলে ছোটদের শরীরে মেদ জমছে, কোলেস্টেরল বেড়ে যাচ্ছে। দেখা দিচ্ছে ওবেসিটির মতো রোগ।

তবে নিরাশ হওয়ার মতো কিছু নেই। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এরোবিকস বা এই ধরনের ফিটনেস এক্সারসাইজ থেকে ছোটরা কিন্তু বয়সের থেকে বেশি তাড়াতাড়ি উপকার পায়। ছোটদের সহ্যক্ষমতা ও পেশির জোর বড়দের থেকে তাড়াতাড়ি বাড়ে। শুধু দরকার নিয়মিত ব্যায়াম। ডাক্তাররা মনে করেন যে দিনে এক ঘণ্টা ব্যায়াম করতে পারলেই যথেষ্ট। যেসব শিশু নিয়মিত ব্যায়াম করে তাদের হার্ট ভালো হয়, পেশি সুগঠিত হয়, হাড় শক্ত হয় ও হাড়ের জয়েন্টগুলো শক্তপোক্ত হয়।

ছোটরা কী ধরনের খাবার খাচ্ছে, সেদিকেও মা-বাবার নজর দেওয়া উচিত। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে মা-বাবার উচিত দুই বছরের ওপর বয়সী বাচ্চাদের লো-ফ্যাটযুক্ত খাবার, বেশি ফাইবার আছে এমন ফল ও শাকসবজি, সেই সঙ্গে যথেষ্ট প্রোটিন ও ক্যালরিযুক্ত খাবার দেওয়া। হাই ফ্যাটযুক্ত খাবার ও ফাস্ট ফুড, যেমন হট ডগস, ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস, চিপস্ ও আইসক্রিম সপ্তাহে দুদিনের মধ্যে সীমিত রাখা উচিত। ছোটবেলা থেকেই ব্যায়াম এবং সুষম খাবার খাওয়ার দিকে নজর দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, ছোটবেলার অভ্যাস কিন্তু চিরকাল বজায় থাকে। আপনিই কিন্তু আপনার বাচ্চার জীবনভর সুস্বাস্থ্যের প্রথম সোপান তৈরি করে দিতে পারেন।

 

ছোটদের জন্য সঠিক ব্যায়াম

কখনোই ভাববেন না যে ছোটদের আর বড়দের একই রকম ব্যায়াম দরকার। বড়দের চেয়ে ছোটদের শরীর তাড়াতাড়ি গরম হয়। তাদের শরীরের টেম্পারেচার রেগুলেটিং সিস্টেম বড়দের মতো অত তাড়াতাড়ি শরীর ঠাণ্ডা করতে পারে না। সে জন্য ছোটদের ব্যায়াম করার সময় পানীয়জাতীয় খাবার গ্রহণ করা উচিত।

বেশির ভাগ বাচ্চার কোনো ধারণাই নেই, কিভাবে বিভিন্ন ব্যায়ামের সময় ভাগ করে নিতে হয়। তারা ভীষণ ক্লান্ত হয়ে পড়লে তবেই ঘামবে। সে জন্য মা-বাবার নজর রাখতে হবে ছোটরা বাড়াবাড়ি না করে ফেলে। ছোটদের আর বড়দের ব্যায়ামের প্রয়োজনীয়তার মধ্যেও তফাত আছে। সাধারণত ছোটদের একটানা ব্যায়ামের প্রয়োজনীয়তা কম। যেমন জগিং ছোটদের উপযোগী নয়। ছোটরা বেশি উপকার পায় যদি বল ছোড়াছুড়ি খেলা খেলে।

ছোটদের ব্যায়ামের মূল কথা সঠিক বয়স অনুপাতে সঠিক ব্যায়ামটি করা। যেমন ছোট থেকে আট বছরের বাচ্চারা দেহের ওপরের অংশের জন্য চিন-আপস্ করতে পারে, পেটের জন্য ব্যাক আপস্, পিঠের জন্য স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ করতে পারে। এ ছাড়া সাইকেল চড়া, জাঙ্গল জিম, বল ছোড়া—সবই করতে পারে। আট বছর বয়স হলে এবার একটু জটিল ব্যায়াম শেখানো যেতে পারে। তিন-চার বছরের বাচ্চাদেরও অ্যাকটিভ থাকতে উত্সাহ দেওয়া উচিত। ছোটদের হাঁটাহাঁটি করতে, মই বেয়ে উঠতে উত্সাহ দিন। এতে তাদের জগত্টাকে চেনার সুযোগ ও উত্সাহ দুই-ই হবে। তবে তিন বছরের কম বয়সী বাচ্চাদের কখনোই ব্যায়াম করতে জোর দেবেন না। এই বয়সের বাচ্চারা ব্যায়াম করে উপকার পায় এমন কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

এমনকি তিন বছরের বেশি বয়সী বাচ্চাদের কিন্তু প্রাথমিক সাবধানতা শিখিয়ে দেওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে কিন্তু বড়দের আর ছোটদের মধ্যে আলাদা নিয়ম নেই। প্রথমে শরীর গরম করে নেবে ওয়ার্ম-আপ করে। ভালো সাপোর্টিভ জুতা পরবে। শুরুতেই কঠিন ব্যায়াম করবে না। কোনো রকম কষ্ট পেলেই কোচ বা অভিজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। ভালো হয় যদি মা-বাবাও বাচ্চাদের সঙ্গে ব্যায়াম করেন। তবে যদি বাচ্চারা নিজেরা পুরোপুরি তৈরি করে ফেলতে পারে, তাহলে বড়দের তত্ত্বাবধান ছাড়া তারা একা একা ব্যায়াম করতে পারবে।

 

লেখক : প্রাক্তন শিক্ষক, ম্যাপল লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল



মন্তব্য