kalerkantho


চাপ সামলান

কর্মস্থলে ও পরিবারে নানা রকম মানসিক চাপে ভোগা অস্বাভাবিক নয়। অনেকেই এসব চাপ সামলাতে না পেরে ভেঙে পড়েন। নিজেকে গুটিয়ে ফেলেন। এসব সমস্যায় পরিবেশের পাশাপাশি নিজের চিন্তার পরিবর্তন করতে হবে। পাল্টাতে হবে দৃষ্টিভঙ্গি। নিতে হবে নিজের মনের যত্ন। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে কথা বলে লিখছেন নাঈম সিনহা

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



চাপ সামলান

কর্মস্থলে

কর্মস্থলে মানসিক চাপ অনুভব করলে নিজের চিন্তার ও পরিবেশের পরিবর্তন জরুরি। আশপাশের পরিবেশ নিজের অনুকূলে আনতে হবে কিংবা মানিয়ে নিতে শিখতে হবে। কর্মস্থলে মানসিক চাপের কারণ ব্যক্তিভেদে আলাদা। কারণ যা-ই হোক, প্রথমে এই সমস্যার কারণ খুঁজে বের করতে হবে। খুঁজে বের করুন কোন বিষয়গুলো মানসিক চাপের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কারণ। সেটা হতে পারে অতিরিক্ত কাজের চাপ, সহকর্মীদের আচরণ কিংবা অফিসের সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি। কারো কাছে হয়তো অফিসের কাজগুলোকে অতিরিক্ত চাপ বলে মনে হয়। কাজ গুছিয়ে করতে পারেন না। কারো হয়তো মনে হচ্ছে কাজের চাপ নয়, সহকর্মীদের আচরণই মানসিক চাপের মূল কারণ। আবার কারো এগুলোতে কোনো সমস্যাই নেই; তার মনে হচ্ছে অফিস তাকে উপযুক্ত সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে না। কাজের তুলনায় পারিশ্রমিক যথেষ্ট নয় ইত্যাদি।

 

সমাধান

সমস্যা যা-ই হোক, আপনাকে মনে রাখতে হবে কাজের পরিবেশ বা সহকর্মীদের আপনি বদলাতে পারবেন না। এ ক্ষেত্রে হয়তো নিজের মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গি বদলালে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান হতে পারে। কর্মক্ষেত্রে ব্যক্তিবিশেষকে সমমনোভাব নিয়ে আবার মূল্যায়ন করুন। এতে অস্বস্তি কেটে যেতে পারে। হয় সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে বা একেবারেই থাকবে না। প্রতি মুহূর্তে মনে রাখতে হবে, যেকোনো সমস্যা মোকাবেলায় মানসিক দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাসের বিকল্প নেই। সাহসিকতার সঙ্গে সংকট মোকাবেলা করুন। অফিসে এই একই চাপ হয়তো ১০ জন কর্মীর মধ্যে ছয়জন নিতে পারছে কিন্তু আপনি পারছেন না। তাদের মানসিক দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাস বেশি। তাই আপনাকেও কর্মক্ষেত্রে সহনশীলতা বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। প্রয়োজন হলে তাদের মধ্য থেকে বিশ্বস্ত কারো পরামর্শ নিন কিংবা অনুসরণ করুন। কাজের খুব চাপ থাকলে অফিসের নির্দিষ্ট সময় কাজের পর অল্প সময়ের বিরতি নিন। চোখ বন্ধ করে লম্বা দম নিন। কয়েক সেকেন্ড পর আস্তে আস্তে দম ছাড়ুন। এভাবে কয়েকবার দম নিন। অফিসে কাজের চাপ থাকবেই। পাশাপাশি নিজেকে সময় দেওয়া, অবসর ও বিশ্রাম নিতে হবে। অফিসের কাজ বাসায় আর বাসার কাজ অফিসে নিয়ে আসা যাবে না।

এ ছাড়া বিকল্প চিন্তার জায়গা তৈরি করাও প্রয়োজন। একটি সমস্যাকে পুরনো পদ্ধতিতে একইভাবে বিশ্লেষণ করা যাবে না। যেমন আপনি হয়তো আগের কোনো অভিজ্ঞতা বা ধারণা থেকে একটি জিনিসকে বিচার করলেন। অনেক ব্যাখ্যা থাকলেও আপনি সেগুলো শুনলেন না। আপনি নিজে নিজেই ভাবছেন বিষয়টি হয়তো অমন। কিন্তু বাস্তবে পরখ করে দেখছেন না। এটি অনেকটা কল্পনালব্ধ বিশ্লেষণের মতোই। তাই মনের যত্নের জন্য বাস্তবের সঙ্গে মিল রেখে বিকল্প চিন্তা করতে হবে। এতে সমস্যা সমাধান এবং চাপ সামলানো সহজ হবে।

সহকর্মীদের সঙ্গে বিবাদে না গিয়ে সমস্যার সমাধান করতে হবে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এড়িয়ে চলা ভালো। এটা অনেকটা রাস্তার ভাঙা গর্তের মতো সচেতনভাবে এড়িয়ে চলতে হবে। আপনার হয়তো কাউকে পছন্দ নাও হতে পারে। ন্যূনতম কাজের সম্পর্ক বজায় রেখে এড়িয়ে চলুন। এটি অনেক ক্ষেত্রেই আপনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা ও মানসিক চাপ থেকে পরিত্রাণ দেবে। আমরা প্রতিদিন নানা বিষয় দেখি, শুনি। কিন্তু সব মনে থাকে না। যেটিকে গুরুত্ব দেই শুধু সেটিই আমাদের মনে থাকে। মনে রাখবেন সহকর্মীর বিরুদ্ধে নালিশ কিংবা অভিযোগ আপনার মানসিক চাপ কমাবে না। উল্টো অস্থিরতার সৃষ্টি করবে। এর কারণে আপনি বাড়তি মানসিক চাপে ভুগতে পারেন।

 

পারিবারিক ক্ষেত্রে

পরিবারের কারো আচরণে আপনার অস্বস্তি থাকতে পারে অথবা পারিবারিক প্রত্যাশা পূরণের চাপ হয়ত আপনি সামলাতে পারছেন না, গুটিয়ে ফেলছেন নিজেকে। এ ক্ষেত্রে অফিসের মতোই সমস্যার কারণ খুঁজে বের করতে হবে। এরপর সমাধানের দিকে এগোতে হবে।

 

সমাধান

পরিবারকে বেশি করে সময় দিতে হবে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যে কাজ বাদ দিয়ে দীর্ঘ সময় থাকতে হবে তা নয়। সেটি পরিমাণগত না হয়ে গুণগত হতে হবে। অফিসের মতো এই ক্ষেত্রেও বিভাজন না করে চিন্তা করতে হবে। কোনো বিশেষ কারো আচরণে কষ্ট পেলে তাকে এড়িয়ে চলাই ভালো। তার প্রভাব-মন্তব্য উপেক্ষা করুন। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন।

দিনে একবেলা পরিবারের সবাই মিলে আহার করুন। সেটি হয়তো রাতের খাবার হতে পারে। সপ্তাহে একদিন পরিবারের সবাই মিলে ঘুরতে যেতে পারেন। সেটি যে দূরে কোথাও হতে হবে এমন নয়। সবাই মিলে বিকেলে বাড়ির ছাদে গিয়ে চা চক্র করতে পারেন। বাড়ির পাশের কোনো নিরিবিলি মাঠে কিংবা রাস্তায় হাঁটাহাঁটি করতে পারেন। সকালে জগিং করতে পারেন।

পরিবারের সবাই মিলে বাসায় একসঙ্গে ঘরোয়া খেলা খেলতে পারেন। সিনেমা দেখা, ক্যারম খেলা, লুডু খেলাসহ এমন নানা কিছু করতে পারেন।

 



মন্তব্য