kalerkantho


অল্প জায়গায় অভিজাত

পরিকল্পনা করলে অল্প জায়গাতেও হতে পারে অভিজাত গৃহসাজ। রেডিয়েন্ট ইনস্টিটিউট অব ডিজাইনের চেয়ারপারসন গুলসান নাসরিন চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলেছেন নাঈম সিনহা

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



অল্প জায়গায় অভিজাত

কৃতজ্ঞতা : কানিজ ফাতেমা রুনা, ছবি : মোহাম্মদ আসাদ

ঘরের রং

হালকা রঙে ছোট ঘরকে বড় দেখায়। তাই দেয়ালের রঙে বেছে নিন সাদা, অফহোয়াইট বা যেকোনো হালকা রং। মনে রাখুন, ছোট ঘরে গাঢ় রং একেবারেই না। মেঝের টাইলসও সাদা বা হালকা রঙের হলেই ভালো। যেকোনো গাঢ় রঙের আসবাব, দেয়ালের রং বা টাইলস ঘরে সংকীর্ণ ভাব আনে। দেয়ালে জমকালো সাজ চাইলে ঘরের তিনটি দেয়াল অফহোয়াইট ও সিলিংয়ে সাদা রং করতে পারেন। বাকি একটি দেয়ালে বেছে নিতে পারেন মনমতো নকশা। সেটা হতে পারে রঙের ইলিউশন অথবা ওয়াল পেপার। এ ক্ষেত্রেও নকশাদার দেয়াল হালকা সবুজ বা আকাশি রঙের হলে ভালো।

ফার্নিচার

ছোট বাড়িকে অভিজাত রূপ দিতে ঘরের আসবাব, দেওয়ালের রং ও মেঝের দিকে দিতে হবে বিশেষ নজর। আসবাব বেছে নিতে হবে ঘরের আকৃতির ওপর বিচার করে। ছোট ঘরে বেশি আসবাব রাখলে হিজিবিজি দেখাবে। ছোট ঘরের জন্য স্লিমফিট ফার্নিচার আদর্শ। সেটি হতে পারে বেত, বাঁশ বা কাঠের স্লিমফিট সোফা। ড্রয়িং রুমে জায়গা কম থাকলে বড় আকৃতির জমকালো সোফা, বিশেষ করে ভারী গদি আঁটা সোফা বেমানান। ছোট বসার ঘরে আলাদা শোকেস না রেখে একটি দেয়ালে তাক বানিয়ে সাজাতে পারেন শোপিসে। জায়গা বাঁচবে, ঘরও বড় দেখাবে।

শোবার ঘরে ছিমছাম নকশার খাট নির্বাচন করুন। বাকি সব ফার্নিচার অন্য একদিকের দেয়ালে রাখুন। আলাদা ওয়ার্ডরোব, আলমারি না রেখে দেয়ালজুড়ে ওয়াল কেবিনেট ভালো লাগবে। কেবিনেটের অবস্থান বুঝে আয়না বসিয়ে তার নিচে কয়েকটি ড্রয়ার দিয়ে ড্রেসিং আইটেম রাখার জায়গা করে নিন। বই পড়ার অভ্যাস থাকলে খাটের পাশে বানিয়ে নিতে পারেন বইয়ের তাক। বহুমুখী বা মাল্টি পারপাস ফার্নিচার বেছে নিন অন্যসব ঘরেও। থাকতে পারে সোফা কাম বেড, বুকশেলফ উইথ কেবিনেট অথবা টিভি কাম বুকশেলফ ব্যবহার করতে পারেন। শিশুর ঘরে পড়ার টেবিল ও আলমারি একসঙ্গে দেয়ালে বানিয়ে নেওয়া যেতে পারে। একাধিক শিশু থাকলে দোতলা খাট জায়গা বাঁচাবে। এ ছাড়া আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, ছোট ঘরে প্যাসেজ বা অন্য কমন এরিয়ায় এমন কোনো আসবাব রাখবেন না, যাতে হাঁটাচলার জায়গা আটকে যায়।

ইন্টেরিয়র ফ্যাব্রিকস

ছোট ঘরের ফ্যাব্রিকসও বাছাই করতে হবে সতর্কতার সঙ্গে। ঘরের পর্দা, সোফা ও কুশন কভার, টেবিলের রানার ও ম্যাট হালকা রং ও ছিমছাম নকশার হওয়া ভালো। শোবার ঘরের পর্দায় বেছে নিন হালকা নীল বা সবুজ রং। পরিষ্কার রাখার ঝামেলা না থাকলে সাদা বা অফহোয়াইট ফ্যাব্রিকস সব ঘরেই বেশ মানায়। এতে ঘর বড় দেখানোর পাশাপাশি স্নিগ্ধ ভাব আনে। সোফার কাভারে অফহোয়াইট, গ্রে বা ব্রাউন রং রাখতে পারেন। সে ক্ষেত্রে কুশন হবে কিছুটা কালারফুল। নয়তো একঘেয়ে লাগবে।   

 

সাজসজ্জা

সাজের ক্ষেত্রে আলো একটি বড় বিষয়। উজ্জ্বল আলো রাখুন ঘরে। না হলে ঘর বেশি ছোট লাগবে। ড্রয়িংরুমে ছিমছাম ডিজাইনের ফলস সিলিং করে সেখানে লাগাতে পারেন সাদা আলোর এলইডি লাইট। লাল-হলুদ রঙের কিছু স্পট লাইট লাগাতে পারেন। ছোট ঘরে সব কিছুই হবে বাহুল্যবর্জিত ও ছিমছাম। ছোট আকৃতির শোপিস, ফটো ফ্রেম বা পেইন্টিং দিয়ে ঘর সাজান। দেয়ালে বড় পেইন্টিং বা ওয়ালমেট ব্যবহার না করাই ভালো। ছোট ঘর বড় দেখাতে আয়না বেশ কাজের। যেকোনো ঘরে জানালার বিপরীতে একটা ছোট আকৃতির হালকা নকশার আয়না ঝুলিয়ে দিন। আয়নায় সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয়ে ঘর বড় দেখাবে। মেঝেতে কার্পেটের বদলে শতরঞ্জি ব্যবহার করুন।

 



মন্তব্য