kalerkantho


আপনার শিশু

ঈদে শিশুর সাজুগুজু

ঈদের আনন্দ শিশুদেরই বেশি। তীব্র রোদ ও বৃষ্টির মিশ্র আবহাওয়ায় ঈদে শিশুর সাজ-পোশাকে বিশেষ নজর দিতে হবে অভিভাবকদের। শিশুর সাজ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন রেড বিউটি স্যালনের রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন

২০ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



ঈদে শিশুর

সাজুগুজু

নতুন জামা-জুতার সঙ্গে মিলিয়ে এরই মধ্যে কেনা হয়ে গেছে চুলের ক্লিপ, রাবার ব্যান্ড, চুড়ি, আংটিসহ সাজসজ্জার নানা অনুষঙ্গ। ঈদের দিন তীব্র রোদ কিংবা ঝুম বৃষ্টি দুটির সম্ভাবনা মাথায় রাখতে হবে। থাকতে হবে সেই অনুযায়ী প্রস্তুতিও। দিনভর ঘুরে বেড়ানোর জন্য ছিমছাম আরামদায়ক পোশাক বেছে নিন। এই দিনটিতে অন্তত শিশুরা একটু সাজতে চায়। ছোটদের সাজলে ভালো দেখায় না—এই বারণ বরং ঈদের দিন ভুলে যান। ঠোঁটে হালকা রঙের লিপস্টিক, কপালে ছোট্ট টিপ দিলে মন্দ দেখাবে না। শিশুর জন্য ময়েশ্চারাইজারযুক্ত লিপস্টিক বেছে নিন। হাত ও পায়ের নখে লিপস্টিকের সঙ্গে মানানসই হালকা রঙের নেইলপলিশ থাকতে পারে। চাইলে আগের দিন রাতে শিশুর নখে নেইল আর্ট করে দিতে পারেন। বৈচিত্র্যময় নখের সাজ শিশুমনে অনাবিল অনন্দ যোগাবে। চোখে কাজল বা আই শ্যাডো না দেওয়াই ভালো। এতে শিশুদের স্বাভাবিক সতেজতা ঢাকা পরে যায়। খুব বায়না করলে একটানে রঙিন কাজল দিতে পারেন। মনোযোগ দিন শিশুর চুলের সাজে। ক্লিপ, ব্যান্ড, দিয়ে বৈচিত্র্যময় পনিটেল করে দিতে পারেন। গরমের বিষয়টি মাথায় রেখে চুল ছেড়ে না রাখাই ভালো। সামনের দিকে টুইস্ট বা ফ্রেঞ্চ বেণি করে ছোট ছোট পার্ল বসিয়ে দিলে সাজে জমকালো ভাব আসবে। চুল একটু বড় হলে পেছনেও বেণি করে দিতে পারেন। সৌন্দর্য বাড়াতে বেণির ভাঁজে ভাঁজে কৃত্রিম ফুলের ছোট্ট ক্লিপ আটকে দিন। বড়রা কাজের ব্যস্ততায় মেহেদি পরুক বা না পরুক, মেহেদি ছাড়া শিশুর ঈদ অসম্পূর্ণই থেকে যাবে। ঈদের আগের রাতে শিশুর হাতে মেহেদির আল্পনা করে দিন। পছন্দসই কয়েকটি নকশা শিশুকে দেখিয়ে তার পছন্দ জেনে নিন। খুব জবরজং না হলেও ছিমছাম দু-একটি গয়না শিশুরা পরতেই পারে। গলায় একটা ছোট্ট লকেট, পিয়ারসিং করা থাকলে কানে দুল বা ছোট্ট টপও চলতে পারে। পোশাকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হাতে চুড়ি বা ব্রেসলেট পরিয়ে দিন। পায়ে নূপুর বা পায়েল সাজে আলাদা মাত্রা যোগ করবে। গয়নার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরেকটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে, কোনো অবস্থায়ই শিশুদের সোনা বা হীরার মতো দামি গয়না পরতে দেওয়া উচিত হবে না।

সাজের সবশেষ হলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ জুতা। এই মৌসুমে সতর্কতার সঙ্গে শিশুর জন্য জুতা নির্বাচন করতে হবে। জুতা যেমন পোশাকের সঙ্গে মানানসই হতে হবে, তেমনি আরামদায়কও হওয়া চাই। আবার বৃষ্টি-কাদায় নষ্ট যেন না হয় সে দিকটিও খেয়াল রাখতে হবে। নতুন জুতা পরলে অনেক সময় শিশুর নাজুক ত্বকে ফোসকা পরে যেতে পারে। তাই বাইরে যাওয়ার আগে ঘরে কিছুক্ষণ শিশুকে জুতা পরে হাঁটতে বলুন। কোথাও অস্বস্তি হলে সেই জুতা বাদ দিতে হবে। এ ছাড়া নতুন জুতা পরার আগে কোথাও আঁটসাঁটো মনে হলে কিংবা সম্ভাব্য যে অংশে ফোসকা পরার আশঙ্কা থাকে সেখানে খানিকটা পেট্রোলিয়াম জেলি মেখে দিন। হাঁটতে আরাম হবে। 

পোশাক : সেইলর ও লা-রিভ

 



মন্তব্য