kalerkantho


রূপচর্চা

ঠিকঠাক ঠোঁট

বয়স ও আবহাওয়া প্রথমেই প্রভাব ফেলে ঠোঁটের ত্বকে। ভালো মানের লিপস্টিক বা লিপবাম ব্যবহারের পাশাপাশি প্রয়োজন কিছু পরিচর্যা। ঠোঁটের যত্নে কার্যকর পরামর্শ দিয়েছেন ওমেন্স ওয়ার্ল্ডের রূপবিশেষজ্ঞ ফারনাজ আলম

১৬ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



ঠিকঠাক ঠোঁট

♦           কোমল, সুন্দর রাখতে হলে ঠোঁট সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। এসপিএফ-সমৃদ্ধ লিপবাম এ ক্ষেত্রে কার্যকর। কমপক্ষে এসপিএফ ১৫ সমৃদ্ধ লিপবাম ব্যবহার করুন। লিপস্টিক লাগানোর আগে লিপবাম লাগিয়ে তারপর লিপস্টিক লাগান।

♦           ব্যাগে এসপিএফ-সমৃদ্ধ লিপবাম রাখুন। এসপিএফের কার্যকারিতা শেষ হওয়ার আগেই ওয়েট টিস্যু দিয়ে ঠোঁট মুছে আবার লিপবাম লাগান। ব্যস্ততা থাকলে লিপস্টিকের ওপরেই আবার লিপবাম লাগিয়ে নিন।

♦           ঠোঁটের ত্বক শুষ্ক হলে ম্যাট ধরনের লিপস্টিকের বদলে ময়েশ্চারাইজারসমৃদ্ধ ক্রিম লিপস্টিক বেছে নিন। এতে ঠোঁটের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় থাকবে। ওমেগা ৩ এবং ভিটামিন ‘ই’ ও আর্গান অয়েলসমৃদ্ধ লিপস্টিক ও লিপবাম  ঠোঁটের জন্য নিরাপদ।

♦           স্বাভাবিক ত্বকের অধিকারীরাও ম্যাট লিপস্টিক ব্যবহারের আগে ঠোঁটে একটু লিপবাম বা পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে নিলে লিপস্টিক দীর্ঘস্থায়ী হবে। 

♦           ঠোঁটের নাজুক ত্বকের জন্য সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে ময়েশ্চারাইজিং। নিয়মিত ঠোঁট ময়েশ্চারাইজ করতে হবে। দিনের বেলায় ভালো মানের লিপবাম অথবা ময়েশ্চারাইজার-সমৃদ্ধ লিপস্টিক ব্যবহার করুন। রাতে ঘুমানোর আগে পুরু করে পেট্রোলিয়াম জেলির প্রলেপ দিন ঠোঁটে। ঠোঁট বেশি শুষ্ক হলে প্রথমে গোলাপজলের সঙ্গে গ্লিসারিন মিশিয়ে ঠোঁটে লাগান। শুকিয়ে গেলে পেট্রোলিয়াম জেলি বা লিপবাম দিয়ে ঘুমাতে যান।

♦           ঠোঁটের ত্বক বেশ নাজুক ও সহজেই আর্দ্রতা হারিয়ে মৃতকোষে পরিণত হয়। তাই এক দিন পর ঠোঁটে স্ক্রাবিং করা ভালো। ঘরোয়া স্ক্রাবার সব ধরনের ত্বকের জন্য নিরাপদ। সাদা চিনি অথবা ব্রাউন সুগারের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা মধু ও অলিভ অয়েল মিশিয়ে স্ক্রাবার বানিয়ে নিন। রাতে শোবার আগে ঠোঁটে হালকাভাবে ম্যাসাজ করুন। চিনি গলে গেলে ধুয়ে-মুছে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে তারপর ঘুমাতে যান। দিনের বেলা ঠোঁটে স্ক্রাবিং করতে চাইলে মাথায় রাখতে হবে স্ক্রাবিং করার ১০ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে সূর্যের আলো এড়িয়ে চলতে হবে।

♦           ভেতর থেকে ত্বকে আর্দ্রতা জোগাতে পানির বিকল্প নেই। প্রতিদিন দুই লিটার পানি পানে ঠোঁট হবে সজীব ও প্রাণবন্ত। পানির পাশাপাশি প্রচুর শাকসবজি ও ফলমূল খেতে হবে। কৃত্রিম পানীয়, প্রিজারভেটিভ দেওয়া প্যাকেটজাত খাবার ও ফাস্ট ফুড ঠোঁটের ত্বকের জন্য ক্ষতিকর।

♦           ঠোঁটের হারানো উজ্জ্বলতা ফিরে পেতে দুধের সরের সঙ্গে মধু মিশিয়ে ঠোঁটে লাগান। নিয়মিত ব্যবহারে ঠোঁটে ফিরবে গোলাপি আভা। গোলাপ পাপড়ির সঙ্গে দুধ মিশিয়ে পেস্ট করে ঠোঁটে লাগালে ঠোঁটের কালচে রং দূর হবে। সঙ্গে বাড়তি পাওনা নরম কোমল ত্বক।

♦           জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানোর অভ্যাস থাকলে সচেতনভাবে পরিহার করার চেষ্টা করতে হবে। দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ানো কিংবা ঠোঁটের মৃত কোষ নখ দিয়ে টেনে তোলার মতো বাজে অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে।

 



মন্তব্য