kalerkantho


রূপচর্চা

বর্ষায় চুলের খেয়াল

বর্ষায় চুলের যত্ন নিয়ে রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচির সঙ্গে কথা বলেছেন মারজান ইমু

২৫ জুন, ২০১৮ ০০:০০



বর্ষায় চুলের খেয়াল

ছবি : আবু সুফিয়ান নিলাভ

গ্রীষ্মের শুরু থেকেই যেন এবার বর্ষা এসে গেছে। এবার আশঙ্কা করা হচ্ছে অতিবৃষ্টির। বৃষ্টিতে চুল ভিজে গেলে যত দ্রুত সম্ভব পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। বৃষ্টির পানিতে স্কাল্পে ফাঙ্গাল ইনফেকশন হওয়ার আশঙ্কা থাকে। প্রথমে স্বাভাবিক ঠাণ্ডা পানি দিয়ে চুল ধুয়ে তারপর শ্যাম্পু করুন এবং ভেজা চুল হেয়ার ড্রায়ারে না শুকিয়ে ফ্যানের ঠাণ্ডা বাতাসে শুকিয়ে নিন। বর্ষার আর্দ্র আবহাওয়ায় এবং গরমে ঘেমে মাথার ত্বকে স্যাঁতসেঁতে হয়ে সৃষ্টি করে খুশকি। দীর্ঘ সময় ঘামে ভেজা থাকলে চুলের গোড়া দুর্বল ও ভঙুর হতে পারে। রেহাই পেতে মাথার ত্বক যথাসম্ভব শুকনা রাখার চেষ্টা করতে হবে। ঘামে ভিজে গেলে ফ্যানের বাতাসে শুকিয়ে মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে নিন। চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন বাড়বে এবং চুল মজবুত হবে। স্টাইলিং আয়রন ও কার্লার ব্যবহার না করাই ভালো। নিতান্তই প্রয়োজন হলে চুলে আগে হেয়ার প্রটেক্ট সেরাম লাগিয়ে তারপর আয়রন বা কার্ল করা যেতে পারে। সপ্তাহে এক দিনের বেশি আয়রন মেশিনের ব্যবহার চুলের জন্য ক্ষতিকর। 

চুলের স্বাস্থ্যে হট অয়েল ম্যাসাজ উপকারী। সপ্তাহে দুই দিন রাতে তেল গরম করে চুলে ম্যাসাজ করুন। চাইলে কয়েক ধরনের তেল একসঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। নারকেল তেল, অলিভ অয়েল, আমন্ড অয়েল রাতে সময় না মিললে গোসলের এক ঘণ্টা আগে গরম তেল ম্যাসাজ করতে পারেন। আধা ঘণ্টা পর গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে মাথার  চুল পেঁচিয়ে রাখুন ১০ মিনিট। তারপর শ্যাম্পু করে নিন। শ্যাম্পু করার পর চুলে কন্ডিশনার লাগাতে ভুলবেন না। বর্ষার আবহাওয়ায় জলীয়বাষ্প বেশি থাকে। তাই চুল অগোছালো দেখায়। নিয়মিত চুল কন্ডিশনিং করলে চুলের অগোছালো ভাব দূর হবে। তৈলাক্ত চুলেও কন্ডিশনার লাগাতে হবে। সব ধরনের চুলের জন্য আলাদা কন্ডিশনার পাবেন বাজারে। মাথায় খুশকি দেখা দিলে সপ্তাহে এক দিন ব্যবহার করুন মেডিকেটেড শ্যাম্পু। অন্যদিন চুলের সঙ্গে মানানসই যেকোনো শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন।

চুলের পরিচর্যায় তেল ম্যাসাজ, শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহারের পাশাপাশি সপ্তাহে এক দিন হেয়ার প্যাক লাগাতে পারেন। চুল পড়া কমাতে আর খুশকি দূর করতে ১ টেবিল চামচ লেবুর রস, ১ চা চামচ নিম তেল, ১ টেবিল চামচ পেঁয়াজ পেস্ট, একটি ডিম ও টক দই একসঙ্গে মিশিয়ে ব্লেন্ড করে চুলে লাগান। ৪০ মিনিট অপেক্ষা করে প্রথমে সাধারণ পানি দিয়ে তারপর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। শুষ্ক চুলের জন্য আধা কাপ টক দইয়ের সঙ্গে ২ টেবিল চামচ আমন্ড অয়েল, এক টেবিল চামচ মধু ও ১টি ডিম মিশিয়ে ব্লেন্ড করুন। স্কাল্প থেকে চুলের আগা পর্যন্ত ভালো করে লাগিয়ে শাওয়ার ক্যাপ পরে নিন। এক ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে কন্ডিশনার লাগান। চুলের উন্নতি সঙ্গে সঙ্গেই টের পাবেন।

চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পানি পানের বিকল্প নেই। চুলের পুষ্টিচাহিদা পূরণে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ গ্লাস পানি ও পানীয় পান করুন। এ ছাড়া আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন সি চুলের সুস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি। প্রতিদিন একটি টক ফল আর এক গ্লাস দুধ রাখুন খাদ্য তালিকায়। ওবেসিটি বা বাড়তি ওজনের সমস্যা থাকলে ফ্যাট ফ্রি বা ননি ছাড়া দুধ খেতে পারেন। ননি ছাড়া দুধে ক্যালসিয়াম সঠিক মাত্রায় থাকে। সবুজ শাক, রঙিন সবজিতে পাবেন আয়রন এবং চুলের জন্য উপকারী ভিটামিন ও মিনারেলস। 

 

 

 

 



মন্তব্য