kalerkantho


আপনার শিশু

শিশুর সকালের নাশতা

সকালের নাশতা শিশুদের জন্য খুবই জরুরি। সারা রাত না খেয়ে থাকার পর সকালের নাশতা হওয়া উচিত স্বাস্থ্যকর ও পর্যাপ্ত। শিশুর জন্য সকালের নাশতা কেমন হওয়া উচিত সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন শিকদার মেডিক্যাল কলেজের প্রধান পুষ্টি কর্মকর্তা আশফি মোহাম্মদ



শিশুর সকালের নাশতা

শিশুর খাবার সেটা যেকোনো বেলার হোক, ছোটবেলা থেকেই একটা নিয়মেয় মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। এক বছর বয়স থেকেই শিশুকে অল্প করে হলেও নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়ানোর অভ্যাস করা উচিত। সকালে ঘুম থেকে উঠে শিশুকে মুখ ধুয়ে প্রথমেই একটু পানি খেতে দিন। এরপর এক ঘণ্টার মধ্যে সকালের নাশতা শেষ করা ভালো। শিশুর বয়স অনুযায়ী সকালের নাশতার মেন্যু নির্বাচন করতে হবে। যেসব শিশু স্কুলে যায় তাদের নাশতার মেন্যু হবে এক ধরনের। আবার এক থেকে চার বছর বয়সী শিশুদের নাশতা হবে ভিন্ন। এক বছর পর থেকে শিশুদের সারা দিনে ১ হাজার কিলোক্যালরি প্রয়োজন হয় এবং প্রতিবছর এই চাহিদা ১০০ কিলোক্যালরি করে বাড়তে থাকবে। সারা দিনের কিলোক্যালরির ৪ ভাগের ১ ভাগ অথবা কিছু বেশি সকালের নাশতায় অবশ্যই পূরণ করতে হবে। অর্থাৎ এক বছর বয়সী শিশুর জন্য সকালের নাশতায় থাকা উচিত ২৫০-৩০০ কিলোক্যালরি। এই চাহিদা মেটাতে নাশতার মেন্যুতে থাকতে পারে ১টি ডিম, ১টি হাতে বানানো রুটি দিয়ে সবজির রোল, ২৫০ মিলিলিটার দুধ ও ১টি ছোট কলা। একবারে খেতে না চাইলে এই খাবার শিশুকে দুই ভাগে দিন। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এবং মিড মর্নিং অর্থাৎ সকাল ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে আরেকবার দেওয়া যেতে পারে। প্রতিদিন একই খাবার না দিয়ে নাশতায় বৈচিত্র্য রাখলে শিশুরা আগ্রহ নিয়ে খাবে। সে ক্ষেত্রে রুটি-সবজি রোলের পরিবর্তে একদিন সিরিয়াল, ডিম, দুধ, কলা, একদিন ডিম, আটা, চিনি ও দুধ দিয়ে বানানো প্যানকেক এবং কলা দেওয়া যেতে পারে। প্রতিদিন সিদ্ধ ডিম না দিয়ে একদিন ডিম তেলে ভেজে দিতে পারেন। ডিম ভাজার সময় ওপরে একটু চিনি ছিটিয়ে দিলে সুন্দর বাদামি রং হবে আর খানিকটা গ্লুকোজও যোগ হবে। আবার হয়তো একদিন ডিম ও দুধ দিয়ে পুডিং হতে পারে।

স্কুলগামী শিশুদের বেলায়ও একই কথা প্রযোজ্য। তাদের সকালের নাশতা দুই ভাগ করে এক ভাগ স্কুলে যাওয়ার আগে এবং আরেক ভাগ টিফিনে দিয়ে দিন। স্কুলে যাওয়ার আগে ১টি ডিম ব্রেড, মাখন, জেলি আর ১ গ্লাস দুধ খেতে পারে। ব্রেড আর ডিম দিয়ে টোস্ট করে দিলেও শিশুরা পছন্দ করে। টিফিনে থাকতে পারে ঘরে তৈরি সবজি-ডিম দিয়ে রান্না করা নুডলস, প্যানকেক, কাবাব রোল, পনির ও কিমা সহযোগে স্যান্ডুইচ বা বার্গার ও ফলের জুস। নাশতায় অন্য যেকোনো খাবারের পাশাপাশি ১টি ডিম ও দুধ যেন অবশ্যই থাকে, সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। সরাসরি ডিম খেতে না চাইলে ডিম দিয়ে তৈরি যেকোনো খাবার খেতে দিন। মুরগি বা হাঁসের ডিমের চেয়ে কোয়েল পাখির ডিম শিশুদের জন্য উপকারী। বাড়ন্ত শিশুদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ২টি কোয়েল পাখির ডিম থাকতে পারে। ডিমের পাশাপাশি সকালে ১ গ্লাস দুধ খাওয়ানোর অভ্যাস করুন।

শিশুদের সকালের নাশতায় যথাসম্ভব তাজা খাবার খাওয়ানোর চেষ্টা করুন। সালাদের ফল বা সবজি কোনোটাই রাতে কেটে রাখবেন না। কর্মজীবী মায়েদের তাড়া থাকলে রাতে নাশতা তৈরি করে ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। তবে এক দিনের বেশি ফ্রিজে থাকা খাবার দেবেন না। হাফডান করে রাখা নাশতা সর্বোচ্চ তিন দিন ফ্রিজে রেখে খাওয়া যেতে পারে, এর বেশি নয়। আরেকটি বিষয়, শিশুরা কোনোভাবেই যেন বাইরের কেনা অস্বাস্থ্যকর টিফিন না খায়, সেদিকে অবিভাবকদের বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।



মন্তব্য