kalerkantho


রূপচর্চা

জাদুকরী ডিম



জাদুকরী ডিম

পুষ্টির পাওয়ার হাউস বলা হয় ডিমকে। ভেতর থেকে পুষ্টি জোগানোর পাশাপাশি ত্বকচর্চায় ডিম চমৎকার কাজ দেয়। সহজলভ্য ও তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী এই উপাদান কখন, কিভাবে ব্যবহার করবেন সে উপায় জানাচ্ছেন নভীনসের রূপবিশেষজ্ঞ আমিন হক, লিখেছেন স্মিতা দাস

 

ত্বকের যত্নে

ডিমের সাদা অংশে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় ও এর অ্যাস্ট্রিনজেন্টসুলভ গুণাবলির কারণে এটি ত্বককে সতেজ ও প্রাণবন্ত রাখে। মুখের পোরস (লোমকূপের ক্ষুদ্র গর্ত) দূর করতে ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে সমপরিমাণ লেবুর রস মিশিয়ে মুখে মেখে নিন। ১৫ মিনিট রেখে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে তিন দিন ব্যবহারে উপকার পাবেন। ঝুলেপড়া ত্বককে টান টান করতেও ডিমের এই প্যাক উপকারী। এতে ত্বকের ভাঁজ ও বলিরেখা খানিকটা কমে আসে। ত্বক উজ্জ্বল হয়, কালচে ভাব কমে।

ক্যামিক্যাল ছাড়া মুখের লোম দূর করতে ব্যবহার করুন ডিমের সাদা অংশ। অল্প পরিমাণে মুখে মেখে পেপার টাওয়েল চেপে বসিয়ে দিন। পেপার টাওয়ালের ওপর ব্রাশ দিয়ে আরেক প্রস্থ ডিমের সাদা অংশ লাগাতে হবে। শুকিয়ে এলে এক টান দিয়ে তুলে ফেলুন। সহজ ও নিরাপদ ওয়াক্স হবে ঘরে বসেই। একই পদ্ধতিতে ওয়াক্সিয়ের পাশাপাশি ত্বকের ব্ল্যাকহেড দূর করতে সাহায্য করে।

 

চুলের যত্নে

ডিমের সাদা অংশে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন। এতে নায়াসিন, রিবোফ্লাভিন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়ামের মতো মিনারেলগুলোও রয়েছে প্রচুর। ডিমের কুসুমে থাকে প্রোটিন, ভিটামিন ‘বি’ কমপ্লেক্স ও ফলিক এসিড। লিউটিন নামের উপাদান ডিমে প্রচুর থাকে, যা চুলের স্থিতিস্থাপকতা বাড়ায়, চুল হয় নরম ও সিল্কি। সহজে ঘরে বসে চুলে প্রোটিন ট্রিটমেন্ট করতে বেছে নিন ডিম। অলিভ বা নারিকেল তেল গরম করে চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত ভালো করে ম্যাসাজ করুন। গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে পানি নিংড়ে চুলসহ পুরো মাথায় জড়িয়ে রাখুন ১০ মিনিট। এরপর ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে চুলে প্রোটিন প্যাক লাগান। ২ টেবিল চামচ মেহেদি বাটা, ২ টেবিল চামচ টক দই, ২ টেবিল চামচ লেবুর রস ও ১টি ডিম নিন। সব একসঙ্গে ব্লেন্ড করে স্কাল্পসহ চুলে লাগিয়ে মাথায় শাওয়ার ক্যাপ পরে নিন। আধঘণ্টা পর প্রথমে স্বাভাবিক পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে তারপর শ্যাম্পু করুন। প্রোটিন ট্রিটমেন্ট চুলপড়া বন্ধ ও নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। প্রোটিন ট্রিটমেন্ট ছাড়াও সাধারণভাবে তেল, লেবুর রস কিংবা যেকোনো ঘরোয়া প্যাকের সঙ্গে একটা ডিম মিশিয়ে নিলে প্যাকের উপকার বেড়ে যাবে বহু গুণে। বিশেষ করে ডিমের কুসুমকে বলা হয় চুলের খাদ্য। রাফ বা শুষ্ক চুলের রুক্ষতা দূর করতে যেমন পুরো ডিম বা শুধু কুসুমের প্যাক কার্যকর, ঠিক তেমনি অয়েলি চুলের অয়েলিনেস দূর করতে ডিমের শুধু সাদা অংশের প্যাক জাদুকরী ভূমিকা রাখে।

সব শেষে আমিনা হক জানান, শুধু প্যাক ব্যবহারই যথেষ্ট নয়, ডিমের পরিপূর্ণ পুষ্টি পেতে নিয়মিত ডিম বা ডিমের তৈরি খাবার খাওয়া প্রয়োজন। তাতে শরীরে পুষ্টি পাবে, যা প্রকাশ পাবে ত্বক ও চুলের সুস্থতা ও সৌন্দর্যে।



মন্তব্য