kalerkantho


ভালোবাসার অন্য রূপ

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ভালোবাসার অন্য রূপ

ভালোবাসার দুটি রূপ—একটি হলো বিশেষ একজন মানুষের জন্য বিশেষ অনুভূতি। অন্যটি সর্বজনীন। একজন মানুষের বাইরেও মানুষের মনের অনুভূতির ছোঁয়া দেওয়া যায়। কিভাবে—তাই জানালেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজিম আহম্মেদ তুষার

 

পরিবারে

পরিবারের নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় আমরা বেড়ে উঠেছি। যুগলের ভালোবাসার মধ্যে অনেক সময় মোহ থাকে; কিন্তু পরিবারের ভালোবাসা নিখাদ। পরিবারের ভালোবাসার এই ঋণ কখনো পরিশোধ করা যায় না। তাই ভালোবাসা দিবসের প্রথম ভালোবাসার প্রকাশটা পরিবারের প্রতি হতে পারে। এ জন্য সর্বপ্রথম মা-বাবার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করুন। তাঁদের সময় দিন, তাঁদের সুবিধা-অসুবিধার খোঁজ নিন ও মা-বাবাকে স্পর্শ করে কথা বলুন। মানুষ তার প্রয়োজন প্রকাশ করার আগেই যদি কেউ তার প্রয়োজন বুঝে সেটি পূরণ করে বা তাকে সহযোগিতা করে, তখন সে নিজেকে সবচেয়ে সুখী মনে করে। তাই পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রয়োজনকে বোঝার চেষ্টা করুন। বাড়ির সদস্যদের খোঁজ রাখুন। পরিবারের যেসব সদস্য বাড়ির বাইরে থাকে, তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন। পরিবারের সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে আড্ডা দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে পারিবারিক ভুল বোঝাবুঝি কমে যায় এবং সম্পর্ক দৃঢ় হয়। কোথাও বেড়াতে যান—হতে পারে সেটি কোনো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত এলাকা বা কোনো পর্যটন স্থান। আজকাল বাংলাদেশেও অনেকে ক্যাম্পিং করে। সে রকম ব্যবস্থা থাকলে পারিবারিক ক্যাম্পিংও করতে পারেন। পরিবারের সদস্যদের ভালোবাসা দিবসের শুভেচ্ছা কার্ড বা উপহার দিতে পারেন। তবে মনে রাখুন, যেকোনো ভালোবাসা প্রকাশ পায় সেই ভালোবাসার মানুষের প্রতি আমরা কতটা যত্নশীল, কতটা সম্মান করি, কতটা দায়িত্ব পালন করি—তার ওপর।

 

ইন্টারনেট দুনিয়ায়

এখন ভালোবাসা প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে ইন্টারনেট। বড়রা তো বটেই, ছোটরাও এখন মনের ভাব প্রকাশে ইন্টানেটের দ্বারস্থ হচ্ছে। কিন্তু এর ভালো-খারাপ দুটো দিকই রয়েছে। আর নেতিবাচক দিকটার শিকার বেশি হচ্ছে ছোটরা। অনেকেই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে। যেমন : আপনার কিশোরী বোনটিকে কেউ সামাজিক যোগাযোগে অশালীন প্রস্তাব দিয়েছে। অথবা ছোট ভাইটি এমন কোনো সাইটে ঢুঁ মেরেছে, যেটা ওর উচিত হয়নি। এ ক্ষেত্রে অনেকে তাকে বকা দেবেন, যে দোষটি ওরই। আসলে এই সময় বকা দেওয়ার চেয়ে ওর প্রতি সহমর্মিতা ও মানসিক সমর্থন দরকার। প্রথমে বন্ধু হয়ে ওর মনের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করুন। আপনার নিজেরও কিছু দায়দায়িত্ব আছে। ছোট ভাই-বোন বা সন্তান অনেক সময় নেট-দুনিয়ার ভালোমন্দ নাও বুঝতে পারে। বাড়িতে স্মার্টফোন বা ল্যাপটপে যেখানে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, সেখানে সেইফ ইন্টারনেট প্রগ্রাম চালু রাখতে পারেন। এর সুবিধা হলো, যেকোনো সাইট ব্লকের পাশাপাশি ক্যাটাগরিভিত্তিক ব্লকিংয়ের সুবিধাও পাবেন। ফলে আপনার সন্তান, ছোট ভাই-বোন ওসব সাইটে আর যেতে পারবে না। এতে ওর বখে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকবে না। আবার ধরুন, একজন বোনের ব্যাগ ছিনতাই হয়েছে। তখন ভাই তাকে বকা দিয়ে শেখানোর চেষ্টা করছে, কিভাবে রাস্তায় চলতে হয়। ওই মুহূর্তে তার জ্ঞান দরকার নেই, তার দরকার সহমর্মিতা ও মানসিক সমর্থন। তাই আপনার পাশের মানুষের অনুভূতিকে বোঝার চেষ্টা করুন। একজন মানুষের মনের মধ্যে কী চলছে, তা বোঝার চেষ্টা করুন। অনেক সময় আমরা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মনটাকে ক্ষত করে দিই। 

 

মানুষের তরে

মানুষের জন্য বড় কিছু করতে না পারলেও ছোট ছোট উদ্যোগও পৃথিবীকে সুন্দর করতে পারে। আপনার একটুকরো ছোট উদ্যোগ অন্যের অনুপ্রেরণা হতে পারে। ভালোবাসা দিবসে খুঁজে নিতে পারেন এমন কোনো মহৎ কাজ, যা আপনি বছরে একবার হলেও করবেন। যেমন : হতে পারে আপনার গ্রামের স্কুলের ভালো শিক্ষার্থীদের বছরে একবার একটি করে কলম দেবেন কিংবা পাশের বাড়ির বৃদ্ধ মানুষটিকে একবার দেখে আসতে পারেন, এতিম বা অটিস্টিক শিশুদের সঙ্গে বছরে একটি দিন কাটাতে পারেন অথবা আপনার যদি কোনো জ্ঞান বা দক্ষতা থাকে তাহলে তা এক দিনের জন্য হলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন।

 

অন্য প্রাণীর প্রতি

একবার এক তরুণ এক তরুণীকে প্রেমে মুগ্ধ করার চেষ্টা করছে। মেয়েটিও বেশ খানিকটা ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে। তখন সে নিজের সাহস ও বীরত্বকে প্রকাশ করার জন্য একটি কুকুরের পেছনে শক্ত করে লাথি দিল। মেয়েটি তাকে শুধু একটি কথাই বলে চলে গেল যে ‘তোমার মনে কোনো ভালোবাসা নেই।’ আসলে ভালোবাসা হতে হয় সর্বজনীন। কাছের মানুষ, পর মানুষ, পশুপাখি সবার জন্য মৌলিক ভালোবাসা থাকতে হবে। ভালোবাসার জন্য একটি মন লাগে এবং সে মনকে হতে হয় অনেক মানবিক। সে মন শুধু বিশেষ মানুষের প্রতি ভালো আচরণ করবে তা নয়, বরং তা সব সৃষ্টির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ও আচরণ প্রকাশ করবে।

 

নিজেকে

নিজেকে সুস্থ রাখতে না পারলে ও নিজেকে ভালোবাসতে না পারলে অন্যকেও ভালোবাসা যায় না। নিজের চিন্তা, অনুভূতি ও আচরণের প্রতি সচেতন থাকতে হবে। খাদ্য গ্রহণ, গোসল করা, শরীরচর্চা ইত্যাদি কাজ সময়মতো করতে হবে। কেউ যদি আপনার ভালোবাসার মূল্যায়ন না-ও করে, তার জন্য হতাশ না হয়ে নিজের উন্নতির দিকে মনোযোগী হতে হবে।



মন্তব্য