kalerkantho


রূপচর্চা

শীতের রুক্ষতায় চুলের মাস্ক

কথায় আছে, মাথা থাকলেই ব্যথা হবে। তেমনি চুল থাকলেও সমস্যা হবেই। চুলের সমস্যা যেমন আছে, তার সমাধানও আছে। হাতের কাছে থাকা বিভিন্ন উপাদানে রয়েছে চুলের যাবতীয় সমস্যার সমাধান। তেমন কিছু সহজলভ্য উপাদানে তৈরি হেয়ার মাস্ক নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভিন ও শারমনি কচি।

১৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



শীতের রুক্ষতায় চুলের মাস্ক

চুল পড়া

চুল ঝরে পড়ার বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। স্বাস্থ্যগত সমস্যা বা কোনো রোগের কারণে চুল পড়লে চিকিত্সকের সাহায্য নেওয়া জরুরি। ভিটামিন বা আয়রনের ঘাটতির কারণেও চুল পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে খাদ্য তালিকায় মনোযোগ দেওয়ার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট খাওয়া যেতে পারে। সাধারণভাবে চুল পড়া সমস্যায় সপ্তাহে এক দিন প্রোটিন প্যাক ব্যবহার চুল পড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে। রাতে শোয়ার আগে ১ চা চামচ ক্যাস্টার অয়েলের সঙ্গে দুই চা চামচ করে নারিকেল তেল ও অলিভ অয়েল মেশান। এই তেলের মিশ্রণ গরম করে চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত ভালো করে লাগান। পরের দিন গোসলের আগে আধা কাপ টক দই, ১ টেবিল চামচ মেহেদি গুঁড়া, ২ টেবিল চামচ লেবু আর ১টি ডিম ব্লেন্ড করে প্রোটিন প্যাক বানিয়ে নিন। মাথার ত্বক ও সব চুলে প্যাক লাগিয়ে আধঘণ্টা অপেক্ষা করুন। প্রথমে পানি দিয়ে চুল ধুয়ে তারপর শ্যাম্পু করুন। চুল পড়ার সহজ সমাধান চাইলে বেছে নিন নারিকেল দুধ। নারিকেলের দুধ প্রোটিন, আয়রন আর অন্যান্য পুষ্টি উপাদানসমৃদ্ধ, যা নতুন চুল গজাতে ও চুলের বৃদ্ধিতে কার্যকর। কোরানো নারিকেল হাত দিয়ে চেপে দুধ বের করুন। এর সঙ্গে ১ টেবিল চামচ আমন্ড মিশিয়ে নিন। রাতে ঘুমানোর আগে তুলার বল দিয়ে মাথার স্কাল্পে ভালো করে ম্যাসাজ করুন। শাওয়ার ক্যাপ পরে শুয়ে পরুন। পরের দিন গোসলের সময় শ্যাম্পু করে ফেলুন।

রুক্ষ চুল

রুক্ষ চুলের সমাধানে অ্যালোভেরার জুড়ি নেই। অ্যালোভেরায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন আর চুলের জন্য উপকারী মিনারেলস, যা চুলের পুষ্টি জোগায়। এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান খুশকি রোধে বেশ কার্যকর। সব ধরনের চুলে অ্যালোভেরা জেল মানিয়ে যায়। বিশেষ করে শুষ্ক ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরা বেশ উপকারী। ১ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল ও ১ টেবিল চামচ নারিকেল তেলের সঙ্গে ২ টেবিল চামচ টক দই ও ১ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে নিন। স্কাল্পে ও চুলে ভালোভাবে ম্যাসাজ করে লাগান। ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। এ ছাড়া রুক্ষতা আর সহজেই জট লেগে যাওয়া চুলের জন্য কলা খুবই উপকারী। কলায় প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট, পটাসিয়াম, প্রাকৃতিক তেল ও ভিটামিন থাকে, যা চুলকে নরম ও ঝলমলে করে। পাকা কলা চটকে নিয়ে এর সঙ্গে ২ টেবিল চামচ মধু, ২ টেবিল চামচ সরিষার তেল মিশিয়ে পুরো চুলে ভালো করে লাগান। আধঘণ্টা পর শ্যাম্পু করুন। এই প্যাক চুলের ময়েশ্চারাইজার ধরে রাখতে সাহায্য করে। সপ্তাহে এক দিন নিয়মিত ব্যবহারে চুল হবে নরম ও উজ্জ্বল।

চুলের আগা ফাটা

আগা ফেটে গেলে প্রথমেই চুল ট্রিম করে নিতে হবে। এরপর নিয়মিত যত্ন নিলে আগা ফাটা সমস্যা আর ফিরে আসবে না। সপ্তাহে দুই দিন রাতে চুলে কুসুম গরম তেল ম্যাসাজ করলে আগা ফাটার প্রবণতা অনেকাংশে কমে যাবে। চুলের আগা ফাটা রোধ করতে সপ্তাহে এক দিন ১টি ডিমের কুসুম, ৩ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল ও ১ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে চুলে লাগান। ৩০ মিনিট পর হারবাল শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুই দিন ব্যবহারে ভালো ফল পাবেন। এ ছাড়া ১টি ডিমের কুসুম, ১ টেবিল চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার, ২ টেবিল চামচ মেয়োনিজ, ২ টেবিল চামচ লেবুর রস, ২ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল নিন। উপাদানগুলো ভালোভাবে মিশিয়ে সব চুলে লাগিয়ে এক ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করুন। মাসে দুবার এই মাস্ক চুলের গোড়া থেকে আগায় সুরক্ষা দেবে।

খুশকি

রসুনে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান রয়েছে। খুশকি দূর করতে ১ চা চামচ রসুন, পেস্টের সঙ্গে ২ টেবিল চামচ টক দই ও ১ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে নিন। শ্যাম্পু করার আধঘণ্টা আগে চুলের গোড়ায় ভালো করে লাগান। মাসে দুইবার ব্যবহারে ভালো ফল পাবেন। খুশকি সমস্যায় মেথি আর পেঁয়াজের প্যাকও বেশ কার্যকর। আধা কাপ পানিতে ১ টেবিল চামচ মেথি সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালে পানিসহ ভেজানো মেথি, আধা কাপ টক দই, ২ টেবিল চামচ পেঁয়াজ কুচি, ১ টেবিল চামচ সরিষার তেল একসঙ্গে ব্লেন্ড করে নিন। চুলে বিলি কেটে পুরো স্কাল্পে ভালো করে লাগান। শাওয়ার ক্যাপ পরে আধঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। সপ্তাহে এক দিন ব্যবহারে খুশকি সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে। প্যাক ছাড়াও খুশকির জন্য সপ্তাহে এক দিন কিটোকোনাজলসমৃদ্ধ মেডিকেটেড এন্টিডেনড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। বাকি ছয় দিন চুলের ধরন অনুযায়ী স্বাভাবিক শ্যাম্পু বেছে নিন।
 



মন্তব্য