kalerkantho


কাজের মানুষ

সাফল্য সামলাবেন যেভাবে

‘সাফল্য সামলানোর কী আছে!’ এমনটা ভাবছেন তো মনে মনে! বিষয়টা খুব সাধারণ মনে হলেও আসলে গুরুতর সমস্যা। বিশেষ করে যাঁরা সহজে, অল্প পরিশ্রমে, অসময়ে সাফল্য পেয়ে গেছেন, তাঁদের জন্য বিষয়টা অনেক সময় হজম করাই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ফলে ‘দ্রুত সাফল্য’ ডেকে আনে ‘দ্রুত বিপর্যয়’। এই বিপর্যয় সামলাতে কিছু পরামর্শ রইল।

১৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সাফল্য সামলাবেন যেভাবে

সৈয়দ আখতারুজ্জামান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ব্রিজ ইনস্টিটিউট অব ট্রেনিং অ্যান্ড কনসালট্যান্সি

এক.

নিজেকে সংযত রাখুন। সফলতা আত্মবিশ্বাস বাড়াবেই। কিন্তু এই আত্মবিশ্বাসের মধ্যেও থাকতে হবে পরিমিতিবোধ। অনেক তরুণ কর্মকর্তা অল্প বয়সেই সাফল্যের মুখ দেখে নিজেকে সংযত রাখতে পারেন না। ওভার কনফিডেন্ট মনোভাব চলে আসে। এই ওভার কনফিডেন্স বিপদ ডেকে আনে। সুতরাং সংযত আত্মবিশ্বাসে পথ চলুন।

 

দুই.

আপনার আচার-ব্যবহার যেন উগ্র না হয়। আচরণ থেকে যেন কোনোভাবে বিনয় দূর হয়ে না যায়। অনেকে সফলতার মুখ দেখে আচরণে ঔদ্ধত্য চাপা দিতে ব্যর্থ হন। বিনয় সরে গিয়ে আচরণে দেখা দেয় ক্ষমতার রুক্ষতা। সহকর্মীরাও তাঁর দহন থেকে রক্ষা পান না। অল্প সময়েই এ ধরনের সফল কর্মকর্তারা মুখ থুবড়ে পড়েন।

 

তিন.

অহংকার পতনের মূল—আমরা সবাই জানি। কিন্তু কথাটা সবাইকে মনেও রাখতে হবে। সফলতা যেন আমাদের অহংকারী বানিয়ে না দেয়। বিনম্র আচরণে সবার কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা অটুট রাখতে হবে। নিজেকে স্থূলভাবে জাহির করার মধ্যে কোনো গর্ব নেই।

 

চার.

অনেক সফল ব্যক্তি নতুন কিছু শেখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। মাটিতে তাঁদের পা পড়ে না। মনে করেন, সব শেখা হয়ে গেছে। আসলে শেখার কোনো শেষ নেই। পৃথিবীর সেরা জ্ঞানীরা নিজেদের সেরা মূর্খই ভাবেন। অবিরাম জানার পিপাসাই তাঁদের দিন দিন শ্রেষ্ঠতর আসনে বসায়। সরলতাই তাঁদের সেরা অলংকার।

 

পাঁচ.

আপনি সফল। তার মানে এটা মনে করার কোনো কারণ নেই যে অন্যরা ব্যর্থ। অন্যরাও হয়তো অন্য কোনো ক্ষেত্রে ভিন্ন মানদণ্ডে সফল। তাই সবাইকে মূল্যায়ন করুন। এতে আপনিও সবার কাছ থেকে সফলতার মূল্যায়ন পাবেন। আপনার বক্তব্যে অন্যদের সম্মান জানিয়ে কথা বলুন। কেউ যেন আহত না হন। কাউকে ছোট করবেন না।

ছয়.

আত্মপ্রচারে নামবেন না। শুনতে বেমানান লাগে। আপনার প্রশংসা অন্যরা করবে। এটা অনেক গ্রহণযোগ্যতা পাবে। নিজের প্রশংসামূলক তথ্য শেয়ার করতে হলে বিনম্রভাবে করুন। বারবার বলবেন না।

 

সাত.

আপনি সফল, তাই বলে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জগুলো ছোট করে দেখবেন না। একজন ব্যর্থ মানুষ যেমন ব্যর্থ হতে হতে একদিন সফল হয়ে যান, ঠিক তেমনি একজন সফল মানুষও প্রতিনিয়ত সাধনা না করলে একদিন ব্যর্থ হয়ে যেতে পারেন। তাই সাফল্যের সুখে দীর্ঘদিন অবগাহন না করে সামনের বাধাগুলো অতিক্রমের জন্য নিজেকে আরো যোগ্যতর হিসেবে গড়ে তোলার কাজে মন দিন। ব্যর্থতাও যেমন শেষ কথা নয়, সফলতাও শেষ কথা নয়।

 

আট.

আপনার শুভাকাঙ্ক্ষীদের কথা ভাবুন। সফল হওয়ার পর আপনার কাছে তাদের প্রত্যাশা এখন আগের চেয়েও বেশি। তাই আপনার এখন দায়িত্বও অনেক বেশি। পরবর্তী ধাপের জন্য আপনাকে তৈরি হতে হবে। আজকের মাপকাঠিতে যাকে সাফল্য বলা হচ্ছে, আগামীকালের মাপকাঠিতে তাকে ততটা গুরুত্ব নাও দেওয়া হতে পারে। সময় সব কিছু ধূসর করে দেয়। আপনাকে হেরে গেলে চলবে না।

 

নয়.

কথায় বলে, সুদিন এলে মানুষ দুর্দিন ভুলে যায়। দুর্দিনের বন্ধুদের ভুলে যায়। সফলদের পতনের এটাও অন্যতম কারণ। যাঁরা অতীত ভুলে যান, শেকড় ভুলে যান, তাঁদের ভবিষ্যত্ অনুসন্ধানের শক্তিতে টান তো পড়বেই। ব্যর্থতাই তো সফলতার সবচেয়ে বড় শক্তি। একসময়ের দুঃসহ দিনগুলোই তো ভবিষ্যতের সুদিনের সঞ্চয়। সুতরাং দুর্দিনের বন্ধুদের ভোলা যাবে না।

 

দশ.

সফল ব্যক্তিদের চারপাশে আস্তে আস্তে চাটুকার তৈরি হতে থাকে। একজন, দুজন করে অসংখ্য। এরা আপনার চারপাশে আত্মতৃপ্তির, গর্বের, অহমিকার দেয়াল তৈরি করে। তৈরি করে বিভাজন। আপনার চোখের ওপর তৈরি করে এক অলীক আবরণ। তাই চাটুকার আর প্রকৃত শুভাকাঙ্ক্ষীর চেহারা গুলিয়ে ফেলবেন না। বহু সফল ব্যক্তি চাটুকারদের স্থান দিতে গিয়ে দীর্ঘদিনের দুর্দিনের বন্ধুদের তাড়িয়ে দিয়েছেন। যখন ভুল বুঝতে পেরেছেন, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। আপনি এমন অপূরণীয় ভুল করবেন না।



মন্তব্য