kalerkantho


রূপচর্চা

গোসলে গরম পানি

শীতকালে গোসলভীতি দূর করতে পারে হট শাওয়ার বা গরম পানিতে গোসল। এটি শুধু আরামদায়ক নয়, উপকারীও। তবে হট শাওয়ারের রয়েছে বেশ কিছু ক্ষতিকর দিকও। হট শাওয়ারের ভালো-মন্দ জানাচ্ছেন শোভন মেকওভারের রূপ বিশেষজ্ঞ শোভন সাহা। গ্রন্থনা করেছেন তুহিন সাইফুল

২৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



গোসলে গরম পানি

শুরুতেই হট শাওয়ারের উপকারিতা জানানো যাক। ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় আমাদের মাংসপেশি সংকুচিত হয়ে যায়। শীতে আলসেমির এটি অন্যতম কারণ। কুসুম গরম পানিতে গোসল মাংসপেশির জড়তা কাটিয়ে কর্মোদ্দীপনা জোগাতে সহায়তা করে।

অ্যাজমা ও সাইনাসের সমস্যায় গরম পানিতে গোসল বেশ উপকারী। গরম পানিতে ত্বকের লোমকূপ খুলে যায়; ফলে ত্বক গভীর থেকে পরিষ্কার হয়। পাশাপাশি ময়েশ্চারাইজারের  অধিক সুফলও পাওয়া যায়। ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে গরম পানিতে গোসল রক্ত থেকে গ্লুকোজের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। বাতের ব্যথা থেকে রেহাই পেতেও গরম পানির গোসল বেশ উপকারী। এত সব উপকারের মধ্যেও গরম পানিতে গোসলের রয়েছে বেশ কিছু অপকারী দিক। স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গরম পানি দিয়ে গোসল করলে ত্বক রুক্ষ হয়ে যাওয়া, বলিরেখাসহ নানা রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। গোসলে গরম পানির ব্যবহার কার্ডিওভাস্কুলার সিস্টেমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। হট শাওয়ার রক্তসঞ্চালন বাড়িয়ে দেয়, ফলে হাইপারটেনশন বা হূদেরাগীদের অসুখ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। প্রতিদিন গরম পানিতে গোসল ত্বকের লোমকূপ বড় হয়ে সহজে ময়লা জমে ব্রণসহ ত্বকের হরেক সমস্যা তৈরি করতে পারে। প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গরম পানি দিয়ে গোসল করলে হার্টের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।

এবার জেনে নেওয়া যাক, অপকারিতা এড়িয়ে হট শাওয়ারের উপকার পাওয়ার পদ্ধতি। বাথটাবভর্তি পানিতে শরীর ডুবিয়ে কিংবা গিজারের শাওয়ারে অথবা বালতির পানিতে গরম পানি মিশিয়ে—যেকোনোভাবে হট শাওয়ার নেওয়া যেতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, পানির তাপমাত্রা যেন ত্বকের তাপমাত্রার চেয়ে বেশি না হয়। এ ক্ষেত্রে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা নিরাপদ। হট শাওয়ারের নিরাপদ পদ্ধতি হলো, গায়ের স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে সামান্য বেশি তাপমাত্রার গরম—অর্থাত্ কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা। গোসলের শুরুতে কিছুক্ষণ গরম পানি গায়ে ঢেলে কিংবা বাথটাবে কয়েক মিনিট শরীর ডুবিয়ে রাখুন। এরপর মাথায় শ্যাম্পু এবং গায়ে সাবান বা বডিওয়াশ লাগান। এ সময় শরীর তার স্বাভাবিক তাপমাত্রা ফিরে পাবে। এরপর শ্যাম্পু ও সাবান ধুয়ে ফেলতে কুসুম গরম পানির বদলে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করুন। মাথাসহ সারা শরীর স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। আধা ভেজা থাকতেই হাত-পা ও সারা শরীরে বডি লোশন বা ময়েশ্চারাইজার মেখে নিন। তাহলে ত্বক রুক্ষ হবে না। সঠিক নিয়ম মেনে গোসল করে শীতের সাধারণ সমস্যাগুলো মোকাবেলা করুন।


মন্তব্য