kalerkantho


কাজের মানুষ

চাকরির উন্নতিতে পেশাগত দক্ষতার বিকল্প নেই

১৩ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



চাকরির উন্নতিতে পেশাগত দক্ষতার বিকল্প নেই

সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে এক পেশাজীবীর অনবরত তাঁর যোগ্যতা বাড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমান সময় অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ।

সময়ের পরিবর্তন হচ্ছে, চাহিদার পরিবর্তন হচ্ছে, পেশাগত দক্ষতার প্রয়োজনীয়তার পরিবর্তন হচ্ছে। ফলে এই প্রতিযোগিতায় নিজেকে টিকিয়ে রাখার জন্য পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে আপনাদের জন্য রইল ১০ পরার্মশ।

 

এক.

প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনায় আমরা পাঠ্যপুস্তকের মাধ্যমে আমাদের পেশাগত শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি। মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং আরো উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ আছে, যার মাধ্যমে আপনি আপনার পেশাগত দক্ষতা আরো বাড়িয়ে তুলতে পারেন।

দুই.

প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার বাইরেও আছে জ্ঞানার্জনের এক বিশাল জগৎ। পড়ুন আপনার পেশাসংক্রান্ত দেশি-বিদেশি বই, পত্রপত্রিকা, জার্নাল, ম্যাগাজিন ও গবেষণাপত্র। অনেক সময় পাঠ্য বইয়ে যে শিক্ষা অর্জিত হয়, তা হয়তো বাস্তব প্রেক্ষাপটে হুবহু কাজে না-ও লাগতে পারে। সে ক্ষেত্রে পাঠ্য বইয়ের বাইরের এই উৎসগুলোর মাধ্যমে আপনি আপনার প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করতে পারবেন।

তিন.

প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দ্রুততর উপায়ে পেশাগত যোগ্যতা বাড়িয়ে তোলা সম্ভব। তিন ধরনের প্রশিক্ষণ হয় : প্রথমত, অফিসের অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষকের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ, দ্বিতীয়ত, বাইরের কোনো প্রশিক্ষককে অফিসে আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ। তৃতীয়ত, আপনি দেশে-বিদেশে অন্য কোনো প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে আসতে পারেন।

চার.

এখন তথ্য-প্রযুক্তির যুগ। হাতের নাগালেই সারা বিশ্ব। ইন্টারনেট ব্যবহার করুন। কী নেই সেখানে? আপনার পেশাসংক্রান্ত অনেক কিছুই খুঁজে পাবেন সেখানে। শুধু প্রয়োজন আগ্রহ আর পরিশ্রম করার মানসিকতা।

পাঁচ.

একটু খেয়াল করলেই আপনার স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউকে না কাউকে অবশ্যই খুঁজে পাবেন, যাঁরা আপনার পেশা বা পেশাসংক্রান্ত কোনো না কোনো কিছুর সঙ্গে জড়িত আছেন। তাঁদের সঙ্গে আপনার সমস্যা, বাধা, জটিলতাগুলো নিয়ে আলাপ আলোচনা করুন।

ছয়.

সহকর্মীরাও হতে পারেন আপনার দক্ষতা বাড়ানোর আরেক উপায়। সহকর্মীদের মধ্যে সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তিটি হচ্ছেন আপনার বস, যিনি আপনার অবস্থান, পরিস্থিতি, ভবিষ্যৎ গন্তব্য সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জানেন। পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে তাঁর সাহায্য নিন। অনেক ক্ষেত্রেই হয়তো আপনি তাঁকে আপনার প্রয়োজন বা চাহিদা অনুযায়ী অনুকূল অবস্থায় না-ও পেতে পারেন। সে ক্ষেত্রে আপনার আরো অনেক সহকর্মী আছেন, যাঁরা চাইলে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আপনাকে সাহায্য করার যোগ্যতা রাখেন।

সাত.

আপনার চারপাশে নজর রাখুন। আপনার পেশাসংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ কারা আছেন, খুঁজে বের করুন। টিভি, পত্রিকা, ইন্টারনেট ইত্যাদির দিকে খেয়াল রাখলে আপনি কোনো না কোনো সময় এসব বিশেষজ্ঞের খোঁজ পাবেন। তাঁদের দিকনির্দেশনা অনুসরণ করুন। সুযোগ পেলে তাঁদের সঙ্গে আলাপ করুন, আপনার দক্ষতা বাড়ানোর পরামর্শ নিন।

আট.

চর্চা ছাড়া সব কিছুতেই সাফল্য অর্জন করা কঠিন। আপনার যেকোনো নতুন শিক্ষাকে চর্চা করুন, যাতে তা আপনার দক্ষতায় পরিণত হয়। নিয়মিত চর্চাই আপনাকে উত্তরোত্তর আরো দক্ষ করে তুলবে।

নয়.

যা শিখছেন, পড়ছেন, দেখছেন তা মনে রাখা চাই। নিয়মিত চর্চা স্মৃতিশক্তিও বাড়ায়। অনভ্যাসে আমরা কত কিছুই ভুলে যাই। ফলে যথাসময় যথাস্থানে তা ব্যবহার করা যায় না। ফলে দক্ষতা বাড়া তো দূরের কথা অনেক পরিশ্রম করে অর্জিত সেই জ্ঞান অব্যবহূতই থেকে যায়। একটু লক্ষ্য করলেই দেখবেন, আমাদের জীবনের বহু দক্ষতা ও জ্ঞান ব্যবহার করা হয় না বলে আজও সময়ের অপচয়ের খাতায়ই লেখা রয়ে গেছে। আমাদের দক্ষতা বাড়াতে ও নিজেকে আরো যোগ্যতর করে তুলতে যেদিন সেসব অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগাতে পারব, সেদিন থেকেই সময়গুলো সার্থক হয়ে উঠবে।

দশ.

যেকোনো পেশাই হোক না কেন, মানবিক গুণাবলি অর্জন ছাড়া ধারাবাহিক উন্নতি সম্ভব নয়। যেমন—সততা, নিষ্ঠা, অধ্যবসায়, পরিশ্রম, সময়ানুবর্তিতা ইত্যাদি। এই গুণগুলোর অবশ্যই প্রয়োজন আছে। যদি কেউ এই গুণগুলো ছাড়াও উন্নতি করেই থাকেন, তিনি ব্যতিক্রম, অনুকরণীয় নন।


মন্তব্য