kalerkantho


আপনার সন্তান

শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য হলে

শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্যে নিয়ে মা-বাবারা সমস্যায় পড়েন। এই মুশকিল থেকে আসানের উপায় বাতলে দিলেন আইচি মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেলোয়ার হোসেন মোল্লা

২৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য হলে

তাজা ফলের রস কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে

কোষ্ঠকাঠিন্যে মল ত্যাগ হয় তিন থেকে চার দিন পর পর। কখনো এর চেয়ে বেশি সময়ও লাগে।

পেটব্যথা হয় মাঝেমধ্যেই। যত ভালো খাবার শিশুকে দেওয়া হোক না কেন, খাওয়ার ইচ্ছা থাকে না। পেটে মাঝেমধ্যেই গ্যাস হয়, এমনকি বদহজমও দেখা দেয়। মল ত্যাগের সময় মল শক্ত হওয়ার কারণে শিশু খুব কষ্ট পায়।  

লক্ষণ
কোষ্ঠকাঠিন্য যেসব শিশুর আছে, তারা অনেক সময়ই টয়লেটে যেতে চায় না। ফলে সমস্যা আরো জটিল হয়। জন্মের পর যেসব শিশু বুকের দুধ পান করে, তাদের এ সমস্যা কম হয়। কিন্তু বাজারের গুঁড়া দুধ খাওয়ালে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বেশি হয়। ছোট শিশুদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা সহজে ধরা যায়, কারণ তারা মা-বাবার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু যারা স্কুলে পড়ছে, তারা অনেক সময়ই এ ধরনের সমস্যার কথা মা-বাবাকে জানাতে চায় না। তাই বোঝা মুশকিল হয়। ফলে সমস্যা চিহ্নিত করতে দেরি হয়। এ ক্ষেত্রে বাথরুমে যদি আপনার ছেলে বা মেয়ে বেশি সময় কাটায়, তা হলে সচেতন হবেন। গুরুতর কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা যদি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে এবং তার চিকিত্সা করা না হয়, তাহলে কখনো কখনো লিকুইড স্টুল লিকেজের মতো প্রবলেম হয়। তাকে বলা হয় এনকপ্রেসিস। সদ্য জন্মানো শিশু, যারা বুকের দুই খাচ্ছে , তারা প্রতিদিন সাত-আটবার কিংবা তার চেয়ে বেশিবারও তরল মল ত্যাগ করতে পারে। সপ্তাহে একবার কিংবা দুবারও টয়লেট করতে পারে। আবার দিনে তিনবারও টয়লেট করতে পারে। একটু বড় শিশুদের ক্ষেত্রে দিনে তিনবার কিংবা সপ্তাহে তিনবারও হতে পারে।

প্রতিকার
খুব ছোট শিশুদের এ ধরনের সমস্যা হলে তাদের পুরোপুরি বুকের দুধ খাওয়ানোই ভালো। ছয় মাসের পর থেকে শিশুকে তাজা ফলের জুস দিন। খাওয়াদাওয়ার ব্যাপারে অবশ্যই সতর্ক থাকুন। অনেক সময়ই শিশুদের হাই ফ্যাট ও লো ফাইবার ডায়েটের কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়। বেশি পরিমাণে দুগ্ধজাত দ্রব্য খাওয়া এবং ফল ও সবজি এড়িয়ে চলার কারণেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে শিশুর দুই বছর বয়স হওয়া পর্যন্ত লো ফ্যাট মিল্ক বা সয়া মিল্ক খাওয়ান হোল মিল্কের বদলে। তবে দুগ্ধজাত খাবার খাওয়ানো যদি কমিয়ে আনেন, খেয়াল রাখবেন, আবার ক্যালসিয়ামের ঘাটতি যেন না হয়। তাই নিয়ম করে কমলালেবুর রস খাওয়াবেন। শিশু যতই আপত্তি করুক তার রোজকার খাদ্যতালিকায় রাখুন মৌসুমি বিভিন্ন ফল, টাটকা শাকসবজি। রান্না করা গাজর, হাই ফ্যাট ফুড, রিফাইনড ফুড যেমন—ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, বার্গার, বেসনে ভাজা খাবার ইত্যাদি যত কম খাওয়া যায়, ততই ভালো। পানি বেশি করে খাওয়াবেন, সেই সঙ্গে রসালো ফল, যেমন—আপেল, নাসপাতি, মুসম্বি আঙুর। শিশুকে নিয়মিত মল ত্যাগ করানোর  অভ্যাস করাতে হবে। দিনে অন্তত দুবার, যেমন ধরুন খাওয়াদাওয়ার পর তাকে বাথরুমে যেতে বলুন। কোনো জবরদস্তি নয়, তাকে উত্সাহ দিন, একবার বাথরুম থেকে ঘুরে আসার জন্য। শিশুকে কিছু ব্যায়ামও করান, যেমন নিয়ম করে খেলতে পাঠানো বা বিকেলে দৌড়ানো কিংবা সাঁতার কাটা। সমস্যা খুব বেশি হলে, শিশুর টয়লেট স্বাভাবিক করার জন্য স্টুল সফটনার ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু মা-বাবারা অনেক সময়ই স্টুল সফট হয়ে গেলেই সফটনার ব্যবহার বন্ধ করে দেন সফটনারের প্রতি শিশুর আসক্তি জন্মাবে মনে করে। তাঁদের এই ভুল ধারণার কারণে, সফটনার বন্ধ করার পরই আবার সমস্যা ফিরে আসে। টানা ছয় মাস স্টুল সফটনার ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সেটা ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে করতে হবে।


মন্তব্য